× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ সফর ১৪৪৩ হিঃ

সিলেটে ফের গ্রেপ্তার পপি

বাংলারজমিন

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার

এক সময় লেডি ছিনতাইকারী হিসেবে সবাই চিনতো পপিকে। দুই বছর আগেও সিলেটের নয়াসড়ক এলাকা থেকে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার নেতৃত্বে নগরে লেডি ছিনতাইকারীদের একটি চক্র ছিল। গ্রেপ্তারের পর ছিনতাইয়ে পথ ছেড়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে। ইয়াবা, গাঁজা ব্যবসা ছিল তার পেশা। উপশহরের এইচ ব্লকে টঙ দোকানের আড়ালে গড়ে তুলেছিল ওই ব্যবসা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না সিলেটের পপি বেগমের। গত মঙ্গলবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পপিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে পপি গ্রেপ্তারের পর স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। নানা অপরাধের হোতা সিলেটের পপি বেগম। তার মূল বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিরুন্ডা গ্রামে। স্বামী আব্দুল আউয়াল। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর উপশহরের বাসিন্দা পপি বেগম। স্বামী-সন্তানকে নিয়ে উপশহরের সাদারপাড়া, তেররতন, সৈয়দাবাগসহ কয়েকটি এলাকায় বসবাস করেছে। আর এসব এলাকায় বসবাসের সময় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হওয়ায় সে সবার কাছে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় এক যুগে স্বামী আবদুল আউয়ালের সঙ্গে সিলেটে আসে পপি বেগম। এরপর থেকে তারা নগরের উপকণ্ঠে সাদারপাড়া এলাকার একটি কলোনিতে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করে। স্বামী রিকশা শ্রমিক হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। একেক সময় একেক কাজ করতো। ওই সময় পপি বেগম কলোনির ভেতরে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তাকে নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। অসহায় মহিলাদের এনে পপি অসামাজিক কাজে লিপ্ত করতো। স্থানীয়দের বাধার মুখে শেষে পপি বেগম তার বাসাও বদল করে। পরে তেররতন ও সৈয়দানী বাগসহ কয়েকটি এলাকায় একই ভাবে সে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ক্ষোভের মুখে পড়ে। পপির নেতৃত্বে ছিল কয়েকজন মহিলা। তাদের দিয়েই সে অসামাজি কাজ করাতো। প্রায় ৪ বছর আগে পপি ও তার সঙ্গের মহিলারা নগরীতে ছিনতাই, চুরি শুরু করে। সিলেট নগরীর বিপণিবিতান ও মার্কেটে লেডি চোরেরা ঢুকে কাপড়, কসমেটিকস, মার্কেটে আসা মহিলাদের মোবাইল, ভ্যানেটি ব্যাগ চুরি শুরু করে। উঠতি যুবকদের ফাঁদে ফেলে করে ছিনতাই। নগরীর শুকরিয়া, প্লাজা, লন্ডন ম্যানশনসহ কয়েকটি মার্কেটে চুরির ঘটনার পর পপির দলের কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে ধরা পড়ে। দুই বছর আগে নগরীর নয়াসড়কে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় পপি। এর আগে পপি চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শেষবার গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় মাসখানেক কারাগারে ছিল পপি বেগম। এরপর বেরিয়ে এসে সে ছিনতাইয়ের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে। উপশহরের এইচ ব্লকের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে পপি বেগম এখন এইচ ব্লকে বাসা কিনেছে। তার গোটা পরিবারই তার মাদকের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি উপশহরে রিকশা চালকের চোখে ছুরিকাঘাত করে টাকা ছিনতাই করেছিল তার ছেলে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে পপির বোনও সম্পৃক্ত। এইচ ব্লকে তাদের একটি টঙ দোকান রয়েছে। ওই টঙ দোকানে পপি ও তার বোন ব্যবসা করে। কিন্তু ওই টঙ দোকানে মনিহারি ব্যবসার চেয়ে মাদক বিক্রিই তাদের পেশা। ইয়াবা, গাঁজা বিক্রি হয় সেখানে। সন্ধ্যা নামলেই উপশহরের উঠতি বয়সী যুবক ও চিহ্নিত মাদকসেবী ভিড় জমায় তার দোকানে। সেখান থেকে তারা ইয়াবা ও মাদক কিনে নিয়ে যায়। লকডাউনকালেও জমজমাট ছিল পপির ব্যবসা। কয়েকজন স্থানীয় যুবক জানিয়েছে, বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজন তাদের অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদক বিক্রির অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু যারাই প্রতিবাদী হয়েছিলেন তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়। এমনকি নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথা বলে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলেন না। এদিকে মাদক বিক্রির খবরে গত মঙ্গলবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা দল উপশহরের এইচ ব্লকের পপির দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় তারা দোকান থেকে পপিকে গ্রেপ্তার ছাড়াও তার কাছে ২শ’ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) আশরাফউল্লাহ তাহের জানিয়েছেন, মাদকসহ পপি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পপি জানিয়েছে; জব্দকৃত গাঁজা সিলেট কাষ্টঘর এলাকা হতে পাইকারি দরে ক্রয় করে এনেছে। এরপর নিজের টঙ দোকানে রেখে সে এগুলো আশেপাশের মাদকসেবীদের কাছে পাইকারি ও খুচরা দরে বিক্রি করে থাকে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর