× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , ৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ সফর ১৪৪৩ হিঃ

সহায়তা চাওয়াই কাল হল বৃদ্ধের!

বাংলারজমিন

বরগুনা প্রতিনিধি
৫ আগস্ট ২০২১, বৃহস্পতিবার

নারকেল পারতে গাছে উঠেছিলেন ইউনুস মিয়া (৬০)। কিন্তু গাছ থেকে নামতে পারছিলেন না। নিরুপায় অবস্থায় ৯৯৯ ফোন দেন স্বজনরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে দমকল বাহিনী পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। কিন্ত শেষ রক্ষা হয়নি, নামানোর সময় দড়ি ছিড়ে মাটিতে পড়ার পরপরই মৃত্যু হয় তার।

উদ্ধারে ব্যর্থতায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী চড়াও হয় দমকল বাহিনীর উপর। কয়েকজনকে মারধরও করা হয়।

বুধবার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গিলাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইউনুস ওই এলাকার তোফেজ হাওলাদারের ছেলে।

ইউনুসের ছোটো ভাই মোশাররফ হোসেন জানান, বিকেল তিনটার দিকে তার বড় ভাই ইউনুস মিয়া বাড়ির একটি নারকেল গাছে নারকেল পাড়ার জন্য ওঠেন। গাছের চুড়ায় উঠে তিনি আর নামতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় স্থানীয়রা ৯৯৯ কল করে সহায়তা চাইলে সাড়ে তিনটার দিকে বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মই দিয়ে গাছে উঠে ইউনুসকে রশিতে বেঁধে নামানোর সময় রশি ছিড়ে মাটিতে পড়ে ইউনুস মিয়ার মৃত্যু হয়।

মোশারফের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের গাফেলতির কারণেই তার ভাই ইউনুসের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস আইসা চঙ্গা (মই) দিয়া নাহইল গাছে উইট্টা আমার ভাইর লগে থাহা গামছা কোমড়ে বান্দে। গামছার লগে হেরা রশি লাগাইয়া নামানো শুরু করে। কিন্ত গামছা ছিইড়্যা আমার ভাই পইড়া মইরা গ্যাছে। ওনারা যদি বেল্ট লাগাইয়া নামইতো তাইলে ভাই পইড়া যাইতোনা।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের চড়াও হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের উপর হামলাও চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

এ ঘটনায় বরগুনা পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গির মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মেহেদী হাসান, সদর থানার ওসি কেএম তারিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শোকাহত পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গির মল্লিক।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচজন আহত হয়েছেন দাবি করে বরগুনা স্টেশনের উপ- সহকারী পরিচালক মোঃ মামুন (পিএফএম) জানান, নিয়মানুযায়ী কোমড়ে বেল্ট দিয়ে রশিতে বেঁধে নামানোর কথা থাকলেও গামছায় বাঁধা হয়েছিল কিনা আমরা বিষয়টি তদন্ত করবো। আমাদের কোনো কর্মীর গাফেলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বৃদ্ধকে উদ্ধার করতে গিয়ে মৃত্যু হওয়ায় আমরাও মর্মাহত।

কর্মীদের উপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনায় সন্ধ্যায় বরগুনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে, এম, তারিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। তিনি আরো জানান, বৃদ্ধ ইউনূস এর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর ক্ষিপ্ত জনতা মারধর করে আহত করেন। এতে বরগুনা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে বরগুনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর