× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর ১৪৪৩ হিঃ
হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা

বেড়েছে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ

প্রথম পাতা

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

ভাইরাসজনিত জ্বরের (ভাইরাল ফিভার) প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এই জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। দেশে করোনাকালে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। এতে সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও বাদ যাচ্ছে না এ রোগের কবল থেকে। অনেকে হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসক না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার ও ক্লিনিকে ভাইরাল ফিভারের রোগী বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তিন থেকে চারগুণ রোগী বাড়ায় শিশু রোগ চিকিৎসকদের গভীর রাত পর্যন্ত চেম্বারে রোগী দেখতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা এই জ্বর করোনার নতুন কোনো ধরন কিনা তা যাচাই করার জন্য জিনোম সিকুয়েন্সিং করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে, দেশে হঠাৎ করে মহামারির মাঝেই শিশুদের মধ্যে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ায় অভিভাবকরা আছেন প্রচণ্ড ভয়ে। ভাইরাসজনিত জ্বরের রোগী সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যে অনেক রোগীকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভাইরাল ফিভারের কারণে চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। সূত্র জানায়, হাসপাতালে প্রতিদিনই ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এই জ্বরের লক্ষণ হচ্ছেÑ জ্বর ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করে, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি খুব বেশি, খাবার রুচি পায় না শিশুরা, শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়।

ভাইরাসজনিত জ্বরের আক্রান্ত এক শিশুর বাবা মানবজমিনকে জানান, তার ৬ বছরের ছেলে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হয়ে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। চারদিন ধরে জ্বর। এই জ্বর ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা-নামা করছে, ঘেমে জ্বর ছাড়ে, ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর পর জ্বর আসে, কাশি আছে, খাবার রুচি পায় না। শিশুটির করোনা ও ডেঙ্গু টেস্ট করানো হয়েছিল। তাতে নেগেটিভ আসে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই জ্বর ৫দিন থাকতে পারে। চিকিৎসক শিশুটির প্রেসক্রিপশনে সাপোজিটর, ফিক্স-এ-ডিএস, নাপা (প্যারাসিটামল) এবং আলার্টল দিয়েছেন।

আরেক শিশুর এক আত্মীয় জানান, ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাসের মাহি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত শনিবার মারা গেছে। তার জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছে। করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়েছিল। কিন্তু ডেঙ্গু ও করোনা কোনোটাই শনাক্ত হয়নি। সাতদিন আইসিইউতে থাকার পর পাবনা থেকে আসা শিশু মাহি মারা যায়।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ জানান, তাদের চেম্বারে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হয়ে ব্যবস্থাপত্র নিচ্ছে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসোলেশন ও হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক এই বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, এই জ্বরের লক্ষণগুলো হচ্ছে সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি খুব বেশি হয়। জ্বর ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠে। জ্বর ৫ দিন থাকে। ৩ দিন থাকে খুবই মারাত্মক। এই জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের বিভ্রান্তি রয়েছে। এই জ্বর করোনাও না, ডেঙ্গুও না। তবে এই জ্বর করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট কিনা বলা খুব মুশকিল। করোনা কিনা সন্দেহ থাকে। তাই এজন্য জিনোম সিকুয়েন্সিং করা প্রয়োজন বলে এই শিশু বিশেষজ্ঞ মনে করেন। তিনি আরও জানান, জ্বরের জন্য সাধারণ রোগীদের প্যারাসিটামল, সর্দি থাকলে এন্টি হিস্টামিন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি বেশি কাশি অন্য কোনো ধরনের জটিলতা থাকলেও ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর