× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে কেটে ফেলা হলো কলা ভবনের কৃষ্ণচূড়া গাছটি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

দেশ বিদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার

‘জনজীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’- দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের বহুবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার গাছটি কেটে ফেলা হয়। অভূতপূর্ব পত্রপল্লব বিন্যাস আর আগুন লাল ফুলের জন্য বিখ্যাত কৃষ্ণচূড়া গাছটি বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম, পুরোটা সময় এক মোহময় মুগ্ধতায় জড়িয়ে রাখতো শিক্ষার্থীদের। গ্রীষ্মের প্রখরতায় রক্তিম দ্যুতি ছড়ানো এই গাছটি কেটে ফেলায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
তারা প্রশাসনকে গাছ কেটে ফেলার নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এর আগেও ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ বলে কেটে ফেলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় গাছ কেটে ফেলছে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলেও তারা আমলে নিচ্ছেন না।
তাদের দাবি, কলাভবনের সামনের রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কলাভবনের সামনের রাস্তা সংস্কারের কাজের সঙ্গে গাছ কাটার যোগসূত্রতা অস্বীকার করেছেন। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবসময় পরিবেশ প্রকৃতির বিরুদ্ধে ছিল, এর আগে আমরা দেখেছি মেট্রোরেলের জন্য টিএসসি ও বাংলা একডেমির সামনের গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এই গাছটি কাটা তার ধারাবাহিকতা মাত্র। এর প্রতিবাদে কাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে সংগঠনটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষ্ণচূড়া গাছটি আমার অসম্ভব প্রিয় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর দিনগুলো থেকেই গাছটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এটি আর দেখতে পাবো না এটা মেনে নেয়া খুবই কষ্টের। অন্য এক শিক্ষার্থীর দাবি, শুধুমাত্র রাস্তা সংস্কারের জন্যই এই পুরোনো গাছটি কেটে ফেলছে প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদের সভাপতি আবু সাদাত সায়েম বলেন, সাধারণত ক্যাম্পাসে কোনো গাছ কাটা হলে আমাদের আগেই জানিয়ে দেয়া হয় আর সেটার বদলে নতুন করে গাছ লাগানো হয়। কিন্তু কৃষ্ণচূড়া গাছটির ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা ডিন স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমাদের পরবর্তী অবস্থান জানাবো। গাছ কাটার কারণ জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছিল। তাদের রিপোর্টে কৃষ্ণচূড়া গাছসহ বেশ কয়েকটি গাছ ‘জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে গাছটি কেটে ফেলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সেখানে আমরা নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেবো। আর কমিটির প্রধান মিহির লাল সাহা নিজেকে একজন ‘বৃক্ষপ্রেমী’ দাবি করে বলেন, গাছটি নিচ থেকে মাটি ক্ষয়, বিল্ডিংয়ের কারণে শিকড় গভীরে যেতে না পারা ও সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ও পথচারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তাই এটি অপসারণ ভিন্ন আর কোনো উপায় ছিল না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর