× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
বৈঠকে বিএনপি নেতাদের মত, আন্দোলনের পরামর্শ

দলীয় সরকার মডেলের নির্বাচনে আখেরে ফল শূন্য

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল নির্ধারণে সিরিজ বৈঠক শুরু করেছে বিএনপি। তিনদিনের এই সিরিজ বৈঠক আজ শেষ হবে। মঙ্গল ও বুধবার দুইদিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দলের অর্ধশতাধিক নেতা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের করণীয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। লন্ডন থেকে অনলাইনে সভায় যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টারা মতামত দেন। গতকাল বৈঠক হয় দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সম্পাদকদের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুইদিনের বৈঠকের বিষয়ে অন্তত ১৫ জন নেতার সঙ্গে কথা বলে মানবজমিন।
দলীয় নির্দেশনা থাকায় তারা কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রায় অভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

তারা জানান, সভায় নেতারা মূলত তিনটি বিষয়কে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রথমত, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেয়া। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া এবং দলের অঙ্গসংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিষয়েও কথা বলেন বেশ কয়েকজন নেতা।

আলোচনায় দলের কাউন্সিল প্রসঙ্গ, নেতৃত্ব নবায়ন, ছাত্র রাজনীতি, শ্রমিক রাজনীতিসহ সামগ্রিক রাজনৈতিক সচেতনতা নির্ভর নেতৃত্ব গঠন, অর্থনৈতিক সংকট, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

বিএনপি’র দুই ভাইস চেয়ারম্যান মানবজমিনকে বলেন, বৈঠকে প্রায় সবাই এক বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। ফলে আগামী সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনেই হতে হবে। সেজন্য যা করা দরকার সেটাই করতে হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা তুলে ধরে ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে কয়েকজন ও উপদেষ্টা পরিষদের ৩ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণায় আগাম নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সকল বিরোধী দলকে অপ্রস্তুত অবস্থায় রেখে আগাম নির্বাচন দেয়া হতে পারে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়টি নিয়েও দলের সুস্পষ্ট অবস্থান ঘোষণার পরামর্শ দেন একাধিক নেতা। দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্যের মত হলো, স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক রাখা নিয়ে নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।

বিএনপি’র একজন উপদেষ্টা মানবজমিনকে বলেন, সরাসরি জামায়াতকে ছাড়ার প্রসঙ্গটি কেউ বলেননি। তাদের বক্তব্য ছিল, জামায়াত নিয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা সামনে রেখে বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চলমান বৈঠকে নতুন নির্বাচন কমিশনের বিষয়েও কথা বলেন বেশ কয়েকজন নেতা। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে গতানুগতিক প্রস্তাব দেয়া থেকে বিরত থাকার চিন্তা করতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন থাকলে যে কাউকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করলে সে কমিশন নিরপেক্ষ হবে না, তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি আদায় করতে পারলে তাদের প্রত্যাশিত নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব।

দলীয় সূত্র মতে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক, সার্চ কমিটি গঠন এবং সব দলকে নামের প্রস্তাবনা দেয়া এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি’র কোনো লাভ নেই। এ প্রক্রিয়ায় বিগত অভিজ্ঞতা বিএনপি’র জন্য লাভজনক হয়নি। তাই আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি আদায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা ভাবছেন বিএনপি’র নেতারা।
গতকাল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সম্পাদক মিলে ৯৫ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশীদ, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাহবুবুর রহমান শামীম, বিলকিস জাহান শিরিন, আসাদুল হাবিব দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, মোস্তাক মিয়া, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, সম্পাদকদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ, আনম এহছানুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, লুৎফর রহমান কাজল, আনিসুজ্জামান খান বাবু, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, জয়নাল আবেদীন, নুরে আরা সাফা, ডা. রফিকুল ইসলাম, খালেদ মাহবুব শ্যামল, এএমএ নাজিম উদ্দিন, সোহরাব উদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জিকে গউস, গৌতম চক্রবর্তী, আবুল কালাম আজাদ, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, আসাদুজ্জামান আজাদ, মীর সরফত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Suza
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ৯:২১

আমার মনে হয় আন্দোলন হওয়া উচিত নিদলীয় সরকার অথবা জাতীয় সরকার নিয়ে। এটাই হবে একদফা দাবী।

অন্যান্য খবর