× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

আফগানিস্তানে উইঘুর গোষ্ঠীর কোনো চিহ্ন নেই, চীনকে তালেবান

দেশ বিদেশ

অনলাইন ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের একটি ছায়া গোষ্ঠীকে জিনজিয়াং অঞ্চলে জাতিগত নিপীড়নের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে চীন। এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব আফগানিস্তানে নেই এবং ফিরে আসতেও দেওয়া হবে না। চীনা গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র।

চীন প্রায়ই প্রবাসী উইঘুর কর্মীদের পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামী আন্দোলনের (ইটিআইএম) সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে। জিনজিয়াংয়ে উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ব্যাপক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে ইটিআইএম সদস্যরা প্রচার চালায়। এসব কর্মীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীর প্রচারাভিযানকে সন্ত্রাসের হুমকি বলে উল্লেখ করে চীন।

মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর গত মাসে তালেবানের কাছে আফগান সরকারের পতনে উইঘুরদের মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও  শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে চীন জিনজিয়াংয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, যেখানে ২০১৭ সাল থেকে ১.৮ মিলিয়ন উইঘুর ও অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছে।

কাতারে তালেবানের মুখপাত্র সুহেল শাহীন বলেছিলেন, ‘ইটিআইএম সদস্যরা এখন আফগানিস্তানে নেই, কারণ তালেবান তাদের স্পষ্টভাবে বলেছে আফগানিস্তানকে তার প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য অঞ্চলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস গত বৃহস্পতিবার এই কথা জানিয়েছে।

তালেবান মুখপাত্র শাহীনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইটিআইএম’র প্রতি সতর্কবার্তার মাধ্যমে বোঝা যায়, ‘যারা অন্য দেশে নাশকতা কার্যক্রম চালাতে চায় বা তাদের বিদেশি এজেন্ডা রয়েছে’ তারা আফগানিস্তানে থাকতে পারবে না।
গত নভেম্বরের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ঘোষণা করেন, ইটিআইএমকে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন এখন বলছে যে ইটিআইএমের কোনো অস্তিত্ব বা প্রমাণ আর নেই।


উইঘুর ট্রাইব্যুনাল:
তালেবান মুখপাত্রের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তালেবানের এই মন্তব্যে আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও অধিকার বিশেষজ্ঞরা লন্ডনের উইঘুর ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় দফায় শুনানি শুরু করেন। চার দিনের অধিবেশনে তারা জানিয়েছেন, জিনজিয়াংয়ে চীনের দমনমূলক নীতি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বা গণহত্যা।

যদিও উইঘুর ট্রাইব্যুনালের কোনো রাষ্ট্রীয় সমর্থন নেই। তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেরও কোনো ক্ষমতা নেই। এটি কেবল জিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য তুর্কি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিপীড়নের জন্য চীনকে জবাবদিহি করতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানায়।

দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে দুই উইঘুরসহ আটজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী মেহরে মেজেনসফ ওই প্যানেলে বর্ণনা দেন কীভাবে চীনা কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে আটক করেছে। এখন ৩০ বছর বয়সী এই দম্পতির ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। আটক-নির্যাতনের বিস্তারিত ঘটনা শুনানির সাক্ষ্যগ্রহণে তুলে ধরেন মেহরে মেজেনসফ।

যে কারণে ব্যবস্থা নিতে হবে:
চীনা কমিউনিস্ট পার্টি উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কি জনগোষ্ঠীকে চীনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। চীন সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ দিচ্ছে এসব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তারা এসব অজুহাতকে অভিযান নিপীড়নের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করছে। উইঘুর ট্রাইবুনালে বিশেষজ্ঞ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী চীনা মানবাধিকার আইনজীবী টেং বিয়াও এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘চীন উইঘুরদের শাস্তি দিতে পারে। দেশটির সরকার উইঘুর পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করতে পারে।’

উইঘুর মানবাধিকার প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক ওমর কানাত বলেন, ‘শুনানিতে বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য বাধ্যতামূলক, অন্যদিকে বেঁচে যাওয়া উইঘুর  প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য বিধ্বংসী।’ গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওমর কানাত বলেন, ‘যে কেউ এটি শুনলে বুঝতে পারে, কেন সরকারকে এই ব্যাপারে কাজ করতে হবে।'

সূত্র : রেডিও ফ্রি এশিয়া

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর