× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার লাশ থাকা না থাকা নিয়ে সংসদে বিতর্ক

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, শুক্রবার

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা-না থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। গতকাল সংসদ অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভস বিল-২০২১’ পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলের উপর যাচাই-বাছাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির এমপিরা বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য দেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জিয়ার লাশ থাকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাব দেন। পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। বিএনপির সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, সঠিক ইতিহাস আসতে নাকি শতবছর লাগে। মৃত্যুর ৪০ বছর পরে সঠিক ইতিহাস বের হলে সমস্যা কোথায়? জিয়াউর রহমানের লাশ আছে কী নাই?এটা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের ব্যবস্থা আছে।
আপনারা (বিএনপি) নিরপেক্ষ একটা কমিটি করেন। সরকার সহযোগিতা করবে। সত্য উদ্ঘাটনে ভয়ের কী আছে? তিনি বলেন, আপনাদের দলের নেত্রীকে বলেন, যদিও তিনি সাজাপ্রাপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় সাজা স্থগিত নিয়ে কারাগারের বাইরে বসবাস করছেন। আইনে সুযোগ থাকলে তার নেতৃত্বে কমিটি করেন। শুরুতে বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমানের লাশ সেখানে চন্দ্রিমা উদ্যানে আছে কি নাই?সেটা বড় বিষয় নয়। সেখানে যে লাশ নাই, তা আপনারা (আওয়ামী লীগ) কীভাবে জানলেন? এতো বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে? এটা নিয়ে আগে কথা বলেন নাই কেন? এখন কেন বলছেন? জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ইতিহাস বিকৃতি তো বিএনপিও করে। তারা বলে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে আমাদের সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। আর জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতে কখনোই বলতে শুনিনি, দেখিনি যে? উনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেছেন। তাদের প্রথমে ইতিহাস বিকৃতি বন্ধ করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ যদি ইতিহাস বিকৃতি করে থাকে, সেটা বন্ধের আহ্বান বিএনপি জানাতে পারে। বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ তার বক্তব্যে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ১৯৭৯ সালে সংসদ ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগও ছিল। মানিক মিয়া এভিনিউতে যে জানাজা হয়েছিল, তাতে এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। শোক প্রস্তাবের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনায় তারা অংশ নিয়েছিলেন। সেগুলো প্রসেডিংসের মধ্যে রয়েছে। আমার কথায় যদি কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় থাকে তা এক্সপাঞ্জ করুন। তিনি আরও বলেন, কারও যদি অপমৃত্যু হয়। তাহলে তার ময়নাতদন্ত লাগে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সামরিক আদালতে বিচারও হয়েছে। এটা অসত্য কিছু নয়। আজকে জেনারেল এরশাদ বেঁচে থাকলে তিনি লজ্জা পেতেন। বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, আর্কাইভস যদি করতে হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে জিয়াউর রহমান ছিলেন রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বীর উত্তম ছিলেন? এটা স্বীকার করতে হবে। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ওনারা ওনাদের কথা বলবেন, আর আমরা আমাদের কথা। এইটুকু ধৈর্য যদি তাদের না থাকে। তাহলে তারা কী ইতিহাস লিখবে? চর্চা করবে? আর্কাইভসে কী জমা করবে, তা ভালো করেই বুঝতে পারছি। তিনি বলেন, ৪০ বছর পরে কেন জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে এই বিতর্ক? সরকারের ব্যর্থতা, ভোট চুরি, গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাট থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার জন্য এই বিতর্ক করা হচ্ছে। রুমিন ফারহানার বক্তব্যের শেষের দিকে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা হইচই করেন।                                                                                                     পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, আজ ৪০ বছর পর লাশ নিয়ে লাফালাফি করা হচ্ছে। সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে বিএনপির এমপিরা তা সংসদে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেখানে যে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই? সেটা ৪০ বছর আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর তার লাশ পরিবারের কেউ দেখেনি। খালেদা জিয়া দেখেননি। তারেক জিয়া লাশ দেখার জন্য কান্নাকাটিও করেছিল। শাহ আজিজ একটি চালাকি করেছিল ‘লাশ পাওয়া যাক না যাক একটা বাক্স পাঠিয়ে দাও’। সেই বাক্স পাঠানো হয়েছিল। জনমনে সন্দেহ ছিল কিসের জানাজা করছি। শুধু বাক্স? নাকি ওখানে জিয়াউর রহমান আছে? বিষয়টি নিয়ে তার সংসদে দেয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সেলিম বলেন, ১৯৮১ সালের ২০শে জুন আমি সংসদের নতুন সদস্য। জিয়াউর রহমান তখন মারা গেছেন। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। সংসদে আমি সরকারের কাছে এটা জানতে চেয়েছিলাম। এটা প্রসেডিংস এ আছে। আমি সেদিন বলেছিলাম? আপনারা প্রমাণ করেন, ওই বাক্সে কোনো লাশ আছে কিনা। জনমনে সন্দেহের কথা সেদিন সংসদে বলেছিলাম। আমি দুইদিনের মধ্যে লাশের ছবি ছাপিয়ে জনমনের সন্দেহ দূর করতে বলেছিলাম। আর না পারলে জনমনের সন্দেহই প্রমাণিত হবে। আজ ৪০ বছরেও একখানা ছবি দেখাতে পারেননি। প্রমাণই করতে পারেননি। একখানা বাক্স দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। একটা বাক্স এনে বলেছেন জিয়াউর রহমানের লাশ। এই বিভ্রান্ত দূর হয়ে গেছে। ওখানে যে বাক্সটা আছে তা সরিয়ে লুইকানের নকশা বাস্তবায়ন করতে হবে। স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেখানে বাক্সটা যদি থাকে তা সরিয়ে দিন। জিয়ার লাশ জায়েজ করার জন্য তিন বড় রাজাকারকে সংসদ ভবন এলাকায় কবর দেয়া হয়েছে। তাদের করবও সেখান থেকে সরিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে। মানুষ এসব বিভ্রান্তি মেনে নেবে না। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংসদে কোনো বক্তৃতা দেয়ার ইস্যু পেলেই জিয়াউর রহমানের লাশ। এখানে লাশ আছে প্রমাণ করুন। একমাস সময় দিলাম। ওই সময় সেনাপ্রধান এরশাদ সাহেবও লাশ দেখেননি। তাহলে কী দিয়ে প্রমাণ করবেন? লাশ নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না। ওখানে কোনো লাশ নেই। কিছুই নেই। একটি বাক্স মাটি দিয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর