× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

‘বাংলাদেশে যেতে চাই না’

প্রথম পাতা

মানবজমিন ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, শুক্রবার

আইএস বধূ শামীমা বেগম বাংলাদেশে আসতে চান না। কেন এখানে আসতে চান না? উত্তরে বলেছেন, যেখানে গেলে আমাকে হত্যা করা হতে পারে, কীভাবে প্রত্যাশা করতে পারেন আমি সেখানে যাবো। গুড মর্নিং বৃটেন অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে শামীমা এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আবারো বৃটেনের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। যা করেছেন, তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, আমি যা করেছি তার জন্য অন্যরা আমাকে যতটা ঘৃণা করেন, আমি নিজে নিজেকে তার চেয়ে বেশি ঘৃণা করি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা ওই সাক্ষাৎকারে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বিস্ময়কর প্রস্তাব দিয়েছেন। তার উদ্দেশ্যে শামীমা বলেছেন, আমি জানি আপনি দেশে স্পষ্টই সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
এক্ষেত্রে আমি আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করতে পারি। কারণ, আপনি পরিষ্কারভাবে জানেন না আপনি কী করছেন। শামীমা আরও যোগ করেন, আমি বৃটিশ জনগণের সামনে আমাকে একটি সম্পদ হিসেবে দেখাতে চাই। আমি তাদের সামনে হুমকি হতে চাই না। শামীমার দাবি তাকে প্ররোচিত করা হয়েছিল। তার দুর্বলতার সুযোগ নেয়া হয়েছিল। এ কারণে, তিনি সিরিয়া সফরে গিয়েছেন। সেখানে শুধুই একজন স্ত্রী এবং মা ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি ছিলেন খুব অল্প বয়সী। এই বয়সে তার ওই সিদ্ধান্ত নেয়া ভুল ছিল। শামীমা বলেন, আমি জানি আমাকে ক্ষমা করে দেয়া বৃটিশ জনগণের জন্য খুবই কঠিন। কারণ, তারা আইসিসের আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। অনেকে আইসিসের কারণে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। কিন্তু আমিও আইসিসের আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি। আইসিসের কারণে আমিও প্রিয়জনদের হারিয়েছি। তাই আমি বৃটিশ সেইসব মানুষকে আমার অনুভূতি দিয়ে সহানুভূতি জানাতে চাই। এর বাইরে কিছু না। তাই তিনি তার সব অপরাধ ক্ষমা করে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন করেছেন। বলেছেন, আইএস বা আইসিসে যোগ দেয়ার জন্য সারাজীবন অনুশোচনা করবেন। মেনে নিয়েছেন তার নাগরিকত্ব বাতিলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদের সিদ্ধান্ত। তার এ দাবির প্রতি কটাক্ষ করেছেন বৃটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
এতে বলা হয় সিরিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে গুড মর্নিং বৃটেন অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বেগমকে দেখা গেছে পশ্চিমা পোশাকে। তার পরনে পশ্চিমা স্টাইলের টপ। মাথায় হ্যাট। তবে হারিয়েছেন অনেকটা গ্লামার। তিনি বৃটেনের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছেন। বলেছেন, তিনি নিজে একজন সন্ত্রাসী বা ক্রিমিনাল নন। তিনি পরিস্থিতির শিকার। শামীমা বেগমের বয়স ২২ বছর। তিনি বৃটেনে নিষিদ্ধ হয়েছেন। তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে জিহাদিকে বিয়ে করার কারণে। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। শামীমা দাবি করেছেন তিনি রাকা’য় একজন গৃহবধূ ছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেখতে পেয়েছে তিনি সন্ত্রাসী গ্রুপের ‘মোরালিটি পুলিশের’ সদস্য ছিলেন। আত্মঘাতী বোমা নিয়ে ঘুরতেন। সঙ্গে থাকতো একটি কালাশনিকভ রাইফেল।
২০১৯ সালে বৃটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন সাজিদ জাভিদ। তখন তিনি জাতীয় নিরাপত্তার কথা ভেবে শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। বর্তমানে তিনি বৃটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিরিয়ায় অবস্থান করে শুধু ‘একজন মা এবং স্ত্রী’ ছিলেন বলে শামীমা মিথ্যাচার করছেন। সাজিদ জাভিদ বলেছেন, আমি এ মামলার বিষয়ে বিস্তারিত বলবো না। তবে আমি বলবো, আমি যা দেখেছি, আপনারা অবশ্যই তা দেখেননি। আমি যা জানি, যদি আপনারা তা জানতেন, তাহলে আপনিও একই সিদ্ধান্ত দিতেন। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় শামীমা বেগমের মাথায় ছিল একটি নাইকি ব্র্যান্ডের বেসবল ক্যাপ। গায়ে ছিল নেকাবের পরিবর্তে অনেকটা নিচু কাটের টপ। তবে মুখে তেমন গ্লামার ছিল না। কারণ, শরণার্থী ক্যাম্প সুখের জায়গা নয়। সেখানে থেকে তার চেহারার লাবণ্য কমে গেছে। শামীমা বলেন, তিনি সন্ত্রাসীদের সাজানো ঘটনার শিকার। এখন তার উপলব্ধি আইএস বা আইসিসে যোগ দেয়ার চেয়ে মৃত্যু হওয়াই ভালো ছিল। এ ছাড়া ম্যানচেস্টার অ্যারিনাতে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তা যথার্থ বলে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তাকে ভুল বলে স্বীকার করেছেন। শামীমা বলেন, যখন তিনি আইসিসে যোগ দেন তখন জানতেন না যে আইসিস একটি খুনিদের আখড়া।
তিনি আরও বলেন, কৃতকর্মের কারণে আমার চেয়ে অন্য কেউ আমাকে বেশি ঘৃণা করতে পারবে না। আমি যা বলতে পারি তাহলো, আমি দুঃখিত। আমাকে শুধু একটি দ্বিতীয় সুযোগ দিন। নিজেকে ক্রিমিনাল বলে স্বীকার করেন না শামীমা। বলেন, আমার একমাত্র অপরাধ যা আমি করেছি, তা হলো আমি আইসিসে যোগ দিয়েছি।
পূর্ব লন্ডনের এই যুবতী মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৃটেন থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে এক জিহাদিকে বিয়ে করেন। সন্তানের মা হন। কিন্তু একটি সন্তানও বাঁচেনি। এখন তিনি বৃটেনে ফিরতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। গত বছর বোরকা ছেড়েছেন। এখন চুল সোজা করে তা রঙিন করেছেন। হাতের নখে রঙ লাগিয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর