× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

পলাতক থেকেও বেতন তুলছেন ভাস্কর

বাংলারজমিন

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা) থেকে
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

ভোলার লালমোহনে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ও মানুষের কাছ থেকে অর্থ ধার নিয়ে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করে আড়াই বছর আগে পালিয়েছেন ভাস্কর চন্দ্র হাওলাদার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করতেন তিনি। এই আড়াই বছর লালমোহনে তার কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও স্কুলের খাতায় তিনি হাজির ছিলেন। নিয়েছেন প্রতি মাসে বেতনও। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভাস্কর চন্দ্র হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় আদালতে ভাস্কর চন্দ্র হাওলাদার পলাতক হিসেবে আছেন বলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন। জানা গেছে, লালমোহন মহাজনপট্টি এলাকায় মেসার্স সাজ জুয়েলার্স নামে একটি জুয়েলার্সের দোকান চালাতেন ভাস্কর চন্দ্র হাওলাদার। পাশাপাশি শিক্ষকতা করতেন প্রথমে পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডে মায়ানগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
পরে লালমোহন মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। লালমোহন অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ঋণ নেন ভাস্কর। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও টাকা ধার নেন। এসব টাকা নিয়ে ২০১৯ সালের ৯ই এপ্রিল লালমোহন থেকে গা-ঢাকা দেন ভাস্কর। তার দোকানে এখন অন্য ব্যবসায়ী ব্যবসা করেন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু তৈয়ব ২০১৯ সালের ৯ই এপ্রিল থেকে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোতিবিহীন ভাস্কর চন্দ্র হাওলাদার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত বলে নিজের ফেসবুকে স্টাটাসও দেন। যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন শুধু করোনার বন্ধের জন্য ভাস্কর বিদ্যালয়ে আসেনি বলে উল্লেখ করেন, ‘তার আগে সে নিয়মিত ছিল। একজন শিক্ষক দুই বছর মেডিকেল ছুটি নিতে পারেন। তিনি কিছুদিন আগেও ডাকযোগে মেডিকেল ছুটি পাঠিয়েছেন।’ গত ১২ই সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হলেও এখনো ভাস্কর অনুপস্থিত। এ কয়দিন তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক জানান। কিন্তু প্রতি মাসে ভাস্করের বেতন একাউন্টে জমা হয়েছে।
লালমোহন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. জামাল উদ্দিন জানান, চেক রেখে ভোগ্যপণ্য ঋণ বাবদ দুই লাখ টাকা নিয়ে না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ভোলার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় ভাস্কর পলাতক রয়েছে। বুধবারও আদালতে মামলার শুনানি হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. জহির উদ্দিন জানান, তার ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা সিসি নেন। এছাড়া শিক্ষক ঋণ নেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এসব টাকা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে একই বাড়ির দলিল রেখে ইসলামী ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা। এ টাকাও না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকেও ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। এসব টাকা না দিয়ে পলাতক থাকায় দুই ব্যাংক থেকে ভাস্করের বাড়িতে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পল্লব কুমার হাজরা জানান, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর