× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেছিল রাসেল

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার

২০১৮ সালে পুরনো প্রতিষ্ঠান বিক্রির এক কোটি টাকা দিয়ে ইভ্যালির যাত্রা শুরু করেছিলেন মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন। রাসেল প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাসরিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। বলতে গেলে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হর্তাকর্তা তারা দু’জনই ছিলেন। শুরু থেকেই ইভ্যালি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। পণ্য পাওয়ার আশায় গ্রাহকের বিনিয়োগ করা টাকা দিয়েই ভাড়া করা অফিস, কর্মচারীদের বেতনসহ যাবতীয় সব খরচ চলতো। লাভ না হলেও দিনে দিনে খরচ ও দেনার পরিমাণ বাড়তে থাকে। নতুন গ্রাহকদের ওপর দায় চাপিয়ে পুরাতন গ্রাহকদের একটু একটু করে দেনা মেটানো হতো। বিশেষ বিশেষ দিবসকে সামনে রেখে বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি কাড়া হতো।
ছাড়ের ছড়াছড়িতে অল্প সময়েই ৪৪ লাখের উপরে গ্রাহক হয়ে যায়। গ্রাহক যত বাড়ছিল দেনা তত বাড়ছিল। একসময় এক হাজার কোটি টাকা দেনা হয়ে যায়। রাসেল ও তার স্ত্রী লোকসান হচ্ছে এটি বুঝতে পেরেও ব্যবসা বন্ধ করেননি। কারণ হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ করলে বিনিয়োগকারীরা ঝামেলার সৃষ্টি করবে। আর দ্বিতীয়ত- রাসেল চেয়েছিলেন এশিয়ার মধ্য তার প্রতিষ্ঠানটির একটা ব্যান্ডভ্যালু তৈরি  হোক। যাতে করে ইভ্যালিকে সবাই একনামে চেনে। এর মাধ্যমে তিনি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনিয়োগ করাতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি ঘন ঘন বিদেশে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ইভ্যালিকে শেয়ার বাজারের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও ছিল। আর কোনো কিছু না হলে ইভ্যালিকে দেওলিয়া ঘোষণা করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেছিলেন রাসেল। কিন্তু তাদের সব পরিকল্পনাই পণ্ড হয়েছে এক গ্রাহকের করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় র‌্যাব’র হাতে গ্রেপ্তারের পর।

গুলশান থানার করা মামলায় র‌্যাব বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। র‌্যাব সদরদপ্তরের ওই রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে গতকাল তাদেরকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে আসামিপক্ষের শুনানি করেন আইনজীবী এডভোকেট এম. মনিরুজ্জামান আসাদ ও জেআর খান রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আবু।

রাসেল ও তার স্ত্রী নাসরিনকে থানায় হস্তান্তরের আগে র‌্যাব গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে। র‌্যাব সদরদপ্তরের ওই সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ইভ্যালি কারসাজির মূলহোতা রাসেল ২০০৭ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ২০১৩ সালে এমবিএ করেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি নেন। ৬ বছর চাকরি করার পর ২০১৭ সালে শুরু করেন এক বছর বয়সী শিশুদের একটি আইটেম নিয়ে ব্যবসা। ২০১৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে ওই টাকা দিয়েই ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ নেন। ধানমন্ডির ভাড়া করা জায়গা নিয়ে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয় ও আরেকটি জায়গায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস চালু করেন তারা। একইভাবে ভাড়া নিয়ে আমিন বাজার ও সাভারে দু’টি ওয়ার হাউজ চালু করা হয়। কোম্পানিতে একপর্যায়ে ২০০০ স্টাফ ও ১৭০০ অস্থায়ী কর্মচারী ছিল। তখন কর্মচারীদের বেতন দেয়া হতো পাঁচ কোটি টাকা। ব্যবসায়িক অবনতির কারণে পরে সেটি ১৩০০ জন স্টাফ ও অস্থায়ী পদে ৫০০ কর্মচারীতে এসে দাঁড়ায়। বেতনও এসে দাঁড়ায় দেড় কোটিতে। গত জুন মাস অনেক বেতন বকেয়া রয়েছে। পদাধিকার বলে রাসেল ও তার স্ত্রী মাসে ১০ লাখ টাকা বেতন নিতেন। তারা দু’জনে রেঞ্জ রোভার ও একটি অডি গাড়ি ব্যবহার করতেন। কোম্পানির জন্য ৩০টি গাড়ি বরাদ্দ ছিল। ইভ্যালির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে গ্রাহকের ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা আটক হয়ে আছে।

মঈন বলেন, ইভ্যালি ছাড়াও রাসেলের আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। সেগুলো হলো- ই-ফুড, ই-খাতা, ই-বাজার ইত্যাদি। ইভ্যালির ব্যবসায়িক কাঠামো শুরু হয়েছিল নিজস্ব ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে। তার ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেয়া। তিনি বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের অফার নিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রলুব্ধ করতেন। এভাবে দ্রুত ক্রেতা বাড়ানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইভ্যালির গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখের বেশি। তিনি বিভিন্ন লোভনীয় অফারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে এত সংখ্যক গ্রাহক সৃষ্টি করেছেন। ইভ্যালির বিভিন্ন লোভনীয় অফারগুলো হলো- সাইক্লোন অফার (বাজার মূল্যের অর্ধেক মূল্যে পণ্য বিক্রয়); ক্যাশব্যাক অফার (মূল্যের ৫০-১৫০ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার) আর্থকোয়েক অফার, প্রায়োরিটি স্টোর, ক্যাশ অন ডেলিভারি। এছাড়া বিভিন্ন উৎসবেও ছিল জমজমাট অফার, যেমন-বৈশাখী ও ঈদ অফার ইত্যাদি। তাছাড়া আরও রয়েছে টি-১০, ৫ ও ৩ অফার। এভাবে বিভিন্ন অফারে প্রলুব্ধ হন সাধারণ মানুষ। বিক্রি বাড়ায় গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত চাহিদাও বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ, এসি, মোটরবাইক, গাড়ি, গৃহস্থালি, প্রসাধনী, প্যাকেজ ট্যুর, হোটেল বুকিং, জুয়েলারি, স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী ও ফার্নিচার পণ্যগুলো বেছে নেয়া হয়। এসব পণ্যের মূল্য ছাড়ের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। এতে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল আকারে দেনা তৈরি হয়।
মঈন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইভ্যালির দায় ও দেনা ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেয়া ২১৪ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে বকেয়া প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। তবে র‌্যাব’র জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছেন, তার দেনা এখন হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লোকসানি এ কোম্পানিটি কোনো ব্যবসায়িক লাভ করতে পারেনি। গ্রাহকের অর্থ দিয়েই যাবতীয় ব্যয় ও খরচ নির্বাহ করায় দেনা বরাবর বেড়েছে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ইভ্যালির ব্যবসায়িক অপকৌশল ছিল, নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে পুরনো গ্রাহক ও সরবরাহকারীর দায়ের আংশিক করে পরিশোধ করা। অর্থাৎ দায় ট্রান্সফারের মাধ্যমে দুরভিসন্ধিমূলক অপকৌশল চালিয়ে যাচ্ছিলেন রাসেল। তিনি জানান, রাসেল ও তার স্ত্রীর ইভ্যালি প্রতিষ্ঠান চলতো পরিবার নিয়ন্ত্রিত পরিকল্পিত ব্যবসায়িক গঠনতন্ত্রে। একক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতা দেখিয়েছেন তারা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি ছিল। ফলে ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানের দায় বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় অচলাবস্থায় উপনীত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, একটি বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় অফার (১:২) এর আলোকে ইভ্যালির ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন রাসেল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে কোম্পানি শেয়ারের অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করে দায় চাপানোও ছিল পরিকল্পনার অংশ। এছাড়া তিন বছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে দায় চাপানোর পরিকল্পনা নেন রাসেল। দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়ানোর আবেদনও একটি অপকৌশল মাত্র। সর্বশেষ তিনি দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন। বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে তার প্রতিষ্ঠানকে বিক্রি করার চিন্তা করেছিলেন। এজন্য ঘনঘন বিদেশ গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বুধবার রাতে রাসেল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ইভ্যালি ডটকমের চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে পণ্য কিনতে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা দেন। ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ইভ্যালি পণ্য বিক্রির নামে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর মতো অসংখ্য গ্রাহকের ৭০০-৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

রাসেল ও শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে
ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। তবে আদালত তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে যেকোনো ৩ দিন আসামিদের রিমান্ড হবে, রিমান্ডের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে এবং রাসেলের স্ত্রী অর্থাৎ শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশের উপস্থিতি থাকতে হবে।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট এম. মনিরুজ্জামান আসাদ ও আইনজীবী জে আর খান রবিন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আবু। আদালতে শুনানি শুরু হওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মামলার এজাহারের কপি চেয়ে পাইনি। আমাদেরকে মামলার এজাহারের কপি সরবরাহ করা হোক। তখন আদালত বলেন, আপনার দায়িত্ব মামলার কপি নিয়ে এসে শুনানি করা। আমার দায়িত্ব শুনানি শোনা। পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের কাছ থেকে একটি মামলার কপি চেয়ে দেখার সুযোগ দেন।  

আদালতে রাসেল ও তার স্ত্রীর ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ওহিদুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু। শুনানিকালে আদালতকে বলেন, ইভ্যালি বিজ্ঞাপন দিয়ে লাখ লাখ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অর্থ নিয়ে তারা চিট করেছে। মামলার বাদী টাকা পরিশোধের ৭ মাস পরেও পণ্য হাতে পাননি। পণ্যও দিচ্ছে না, আবার টাকাও  ফেরত দিচ্ছে না। টাকা চাইতে গেলে হুমকি দিচ্ছে। তাই তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। অপরদিকে, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার মামলা করা হয়েছে, তবে এ অভিযোগগুলো ঠিক নয়। কারণ প্রতিষ্ঠানটি কোনো গ্রাহকের টাকা নিয়ে চলে যায়নি। ইভ্যালি বলেছে তারা টাকা দিয়ে দেবে। তবে কিছু সময় লাগবে। ইভ্যালি যাদের পণ্য দিতে পারেনি, তাদের টাকা ফেরত দিতে কাজ করছে। তাই আমরা চাই গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার জন্যই তাদের জামিন দেয়া হোক। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে ৩ দিনের হেফাজতে নিয়ে রাসেল ও শামীমাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
এদিন দুপুর ২টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে রাসেল ও তার স্ত্রীকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২২ নম্বর রুমের কাঠগড়ায় তোলা হয়। কাঠগড়ায় রাসেলের সঙ্গে অন্য মামলার পুরুষ আসামি রাখার কারণে তার স্ত্রীকে নামিয়ে বেঞ্চে বসানো হয়। আদালতে নির্বাক ছিলেন। আদালতে ওঠার পর থেকেই কারো সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি তাকে। তার পরিবারের সদস্যরা আদালত কক্ষে থাকলেও কারও সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। প্রথমে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আনা হয় রাসেলকে। পরবর্তীতে তার এক হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়া হয়। আইনজীবীরা কোর্টের কয়েকটি দলিলে তার স্বাক্ষর নেন। এর আগে দুপুর ১টায় র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে রাসেল দম্পতিকে র‌্যাবের সাদা প্রাইভেটকারে করে গুলশান থানায় আনা হয়। সেখান থেকেই পরে নেয়া হয় আদালতে।
রাসেল ও তার স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের খবর শোনার পর ৪০-৫০ জন গ্রাহক আদালতের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী নাসরিনের মুক্তি দাবি করেন। তাদের দাবি- রাসেলকে গ্রেপ্তার না করা হলে তারা দ্রুত পণ্য অথবা টাকা ফেরত পেতেন। তবে রাসেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে নেয়ায় তাদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজন্য তারা বিক্ষোভ করছেন। পরে পুলিশ তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় একজনকে আটক করা হয় বলে জানান কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের আদালতের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় একজনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Abid
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, শনিবার, ৬:৩৯

তাহসান-মিথিলা-ফারিয়া এই তিন নরতোকীদের গ্রেফতার করা হয় না কেন? ওদের মোটিভেশনের কারনে মানুষ গেছে।

অন্যান্য খবর