× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

দাউদকান্দির কালাডুমুর নদ যেন ময়লার ভাগাড়

বাংলারজমিন

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার

দাউদকান্দি উপজেলার কালাডুমুর নদ। এটি এখন আবর্জনার ভাগাড় বা স্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ময়লা ফেলে নদের গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কালাডুমুর নদ দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজার সংলগ্ন গোমতী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে গৌরীপুর, জিংলাতলি, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর এবং দক্ষিণ ইউনিয়ন অতিক্রম করে  ইলিয়টগঞ্জ বাজার হয়ে চান্দিনা উপজেলার পশ্চিমাংশ দিয়ে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় পড়েছে।  সূত্র মতে, এই নদের পানি দিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুরাদনগর, চান্দিনা এবং চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার বিঘা জমির ধান চাষ করা হয়। এতে উৎপন্ন হয় সাড়ে ১২ লাখ মণ বোরো ধান। এই নদে এক সময় বর্ষায় মালবোঝাই নৌকা, ইঞ্জিনচালিত বড় বোট এবং কার্গো চলাচল করতো। কালের ব্যবধানে সে সব দিন এখন অতীত। সাম্প্রতিক সময়ে কালাডুমুর নদের উৎসস্থলের পাশে গৌরীপুর সুবল-আফতাব উচ্চ বিদ্যালের সামনে মাইথারকান্দি খালের মুখে গৌরীপুর বাজারের বর্জ্য, পলিথিন-প্লাস্টিকসহ সব ধরনের ময়লাই ফেলা হচ্ছে এখানে।
ফলে দূষণে কালাডুমুর নদ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। অপরদিকে  ইলিয়টগঞ্জ বাজারের ময়লা আবর্জনা সরাসরি কালাডুমুর নদেই ফেলা হয়। দীর্ঘদিন পুনঃখনন না করায় বালি পলি জমে কালাডুমুর নদটি ভরাট হয়ে গেছে। উপজেলার গৌরীপুরস্থ পেন্নাই গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, খালের মুখটি বন্ধ হওয়ায় বর্ষার পানি আসে দেরিতে, যায়ও দেরিতে। এ জন্য আমরা কোনো ফসল ফলাতে পারি না। বেশিরভাগ জমিই খিল (অনাবাদি) পড়ে থাকে। অপরদিকে গৌরীপুর সুবল-আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে খালের মুখে ময়লার স্তূপের দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানান প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ময়লার দুর্গন্ধে এখন বিদ্যালয়ের কোয়ার্টারেও শিক্ষকরা থাকতে পারছেন না।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (গৌরীপুর কার্যালয়) মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, খাল ভরাট এবং দখলের বিষয়টি তালিকা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় নদ-নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আবর্জনা ফেলে নদ-নদীর ক্ষতি দুঃখজনক। ময়লা ফেলা বন্ধে গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর