× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সালমান এফ রহমানের বৈঠক

শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইলেন ১৩৭ পণ্যের

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার

সৌদি বাজারে বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইলেন সৌদি আরবে সফররত প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল শনিবার সালমান এফ রহমানের সঙ্গে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় তিনি এ অনুরোধ জানান।

সালমান এফ রহমান বলেন, সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে। তবে সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানির মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য অসমতা দূর করা যেতে পারে। এ সময় বাংলাদেশের ১৩৭টি পণ্যের সৌদি বাজারে প্রবেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের বিষয়ে তিনি সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে এ অনুরোধ জানান। বর্তমানে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়ে থাকে।
এর জবাবে সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ)-এর আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুরোধ জানালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন।
এ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ও কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সালমান এফ রহমান ২০১৮ সালে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা স্মারকসমূহের পর্যালোচনা করে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার অনুরোধ জানান। এ সকল সমঝোতা স্মারক-এর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। যে কমিটি কিছুদিন পর পর এ সকল বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানান, সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। দু’দেশের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) বিষয়ে ২০১৮ সালে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে সালমান এফ রহমান অনুরোধ জানান। তিনি এ বিষয়ে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সালমান এফ রহমান সৌদি আরবের বিদেশি অভিবাসীদের ব্যবসা-বাণিজ্য বৈধভাবে করার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের গৃহীত Anti Concealment Law-এর বিষয়ে উল্লেখ করে বাংলাদেশি যে সকল অভিবাসী সৌদি আরবে ব্যবসা করছে তাদের সহায়তার জন্য সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
পরে সালমান এফ রহমান সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় আগামী দিনে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের ব্যবসা- বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং সৌদি আরব বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে সালমান এফ রহমান এমপি’র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আটদিনের সফরে ঢাকা ত্যাগ করে। ঢাকা ত্যাগের আগে সালমান এফ রহমান মানবজমিনকে বলেন, এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে ঢাকা-পায়রা বন্দর রেল সংযোগ ও কক্সবাজার উন্নয়নে সৌদি অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া বেসরকারি কয়েকটি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও সফরে গুরুত্ব পাবে। সালমান এফ রহমান বলেন, ২০১৯ সালে সৌদি আরব থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিনিয়োগ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন তাদের সঙ্গে বেশকিছু চুক্তি হয়েছিল এবং অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম।

সফর নিয়ে কতোটা আশাবাদী- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সেটা যাওয়ার পরে বোঝা যাবে। ওনারা জানিয়েছেন তারা অনেক আগ্রহী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ২০১৮ সালে সৌদি বাদশাহ’র সঙ্গে এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তখন সৌদি যুবরাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন তিনি চান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদির অর্থনৈতিক সহযোগিতা যেন আরও নিবিড় হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই সফরের পর সৌদির বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছিল। এখন আমরা যাচ্ছি তার ফলোআপ করার জন্য। আমি আশাবাদী সৌদি বিনিয়োগ পাবো ইনশাআল্লাহ। প্রতিনিধিদলে আরও আছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ, বিডা সচিব ড. আবদুল হামিদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের মহাপরিচালক এফএম বোরহান উদ্দিন, এফবিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল মোমেন, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ। আটদিনের সফরে পরিবহনমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আল জাসের, সৌদি চেম্বার অব কমার্স, পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি গভর্নর ইয়াজিদ আলহুমাইদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবে প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ বিষয়ক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর প্রতিনিধিদলটি দেশে ফিরে আসবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর