× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২১, সোমবার , ৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার

রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও সেইসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় হাঁটু পানি। অনেক এলাকায় উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি রয়ে গেছে। তাহলে এত টাকার উন্নয়ন করে লাভ কী হলো? জানা যায়, ২০১৯-২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে খুলনা মহানগরীর কেডিএ এভিনিউ ও আবু আহমেদ সড়কে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও জলাবদ্ধতার পুরনো ভোগান্তিই রয়ে গেছে ওই এলাকার মানুষের। অনুরূপভাবে শামসুর রহমান রোড, খানজাহান আলী রোডের একাংশ, আহসান আহমেদ রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হলেও জলাবদ্ধতার সেই আগের ভোগান্তি রয়ে গেছে নগরবাসীর। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত, ত্রুটিযুক্ত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণে খুলনা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। মহানগরীর ২২টি খালের অধিকাংশ দখলে থাকার ফলে বেশিরভাগেরই আয়তন সংকুচিত হয়েছে।
খালগুলোর যখন এই অবস্থা তখন শহরে পানির চাপ বাড়ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র রয়্যালের মোড় এলাকার একটি পরিবহন কাউন্টারের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ আর আক্ষেপ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক ডুবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ইসলামপুর রোডের বাসিন্দা ইলিয়াস বলেন, টানা আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই রয়্যালের মোড়, শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, সাতরাস্তার মোড় সংলগ্ন ইসলামপুর সড়ক, শামসুর রহমান রোড, খানজাহান আলী রোড, টুটপাড়া, বাইতিপাড়া, দোলখোলা, কেডিএ এভিনিউ, সোনাডাঙ্গা, আহসান আহমেদ রোড, শিববাড়ী, জীবনবীমা এলাকা, শেখপাড়া, তেঁতুলতলা, মিস্ত্রী পাড়া, বিআইডিসি রোড, গোবরচাকা, এম এ বারি লিংক সড়ক, শিপইয়ার্ড সড়ক, মোক্তার হোসেন সড়ক, মুজগুন্নি আবাসিক, নিরালা, গল্লামারী, খালিশপুর ও দৌলতপুরের বিভিন্ন সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে পয়ঃবর্জ্যে সয়লাব হয়ে যায় রাস্তা। অনেক জায়গায় বর্জ্যের অংশ ড্রেনে আটকে গিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ নগরবাসীর। নাগরিক নেতারা আক্ষেপ করে বলছেন, মহানগরীর সড়ক মেরামত ও উন্নয়নে এবং শহরে জলাবদ্ধতা দুরীকরণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে মোট ১৪শ’ কোটি টাকার দু’টি মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে।
এর মধ্যে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার সড়ক মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্প ও ৮২৩ কোটি টাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প। বিশাল অঙ্কের খরচ হলেও নগরবাসীর সামান্য উপকার হচ্ছে না। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করে বর্ষার আগে শেষ না হলে শহর তো তলিয়ে যাবেই। শহর তলিয়ে গেলে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ে তেমনি কিছু রোগেরও প্রাদুর্ভাব বাড়ে। আমার মনে হয়, যারা উন্নয়ন কাজগুলো করেন তাদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করা উচিত। যারা কাজ করে তারা কী পরিকল্পনা করে তারা জানে আর আল্লাহ জানে। শহরে উন্নয়ন হয়েছে দুর্ভোগও বেড়েছে। ২২ খাল উদ্ধার প্রকল্প পেপার বক্সে চলে গেছে। কোনো নড়াচড়াও নেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর