× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২১, সোমবার , ৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ডিজিটাল নিরাপত্তায় ৯৯৯ সংযুক্তির দাবি

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার

বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহার। বাড়ছে এর অপব্যবহারও। ঘটছে নানা ধরনের অপরাধ। জীবন বিপন্নের শিকার হচ্ছেন লাখো মানুষ। কিন্তু সেই অর্থে মিলছে না প্রতিকার। নিত্য নতুন ডিজিটাল অপরাধ দমন করাই এখন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জুয়া, পর্নোগ্রাফি ও মানব পাচার কিছুই বাদ যাচ্ছে না। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়, এতে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা।
এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে দাবি উঠেছে ডিজিটাল নিরাপত্তায় পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ সংযুক্তির। দেশের প্রায় ১২ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসেসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা যেকোনো সময় নাগরিক নিরাপত্তা বা কোনো বিপদগ্রস্ত হলে ৯৯৯-এ ফোন করে দ্রুত সেবা পেয়ে থাকি। কিন্তু মুক্ত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিকরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও সাইবার ঝুঁকিতে পতিত হচ্ছে। এ থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পাবার মতো সেবা পাবার কোনো পদ্ধতি বা কল সেন্টার এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাইকোর্টের আদেশের পর ফ্রি ফায়ার পাবজি গেম বন্ধ ও স্কুল-কলেজ খোলার পর অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম অনেকাংশে কমে গেলেও এখনো ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় আগের মতোই অর্থাৎ প্রায় ২৬৪৬ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে। এ থেকেই অনুমেয় ইন্টারনেট ছাড়া নাগরিক জীবন অচল। কিছু দুষ্কৃতকারী বা ইন্টারনেট অপব্যবহারকারী গ্রাহকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ, সাইবার বুলিং, মিথ্যা অপপ্রচার, ব্যক্তিগত ভিডিও প্রচার, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও আমাদের দেশে এ থেকে গ্রাহকদের নিরাপত্তা দিতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ডিবি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি, বিটিআরসি, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর ডট, সিআইডি, পুলিশসহ সরকারি অন্যান্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থা। কিন্তু সবগুলো প্রতিষ্ঠানের একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি না থাকায় গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ করে। এমনকি অনেকেই ইতিমধ্যে বিটিআরসিকে প্রধান টার্গেট করে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে। দ্রুত সমাধান পেতে কোথায় ফোন করবে বা যাবে সেটি স্পষ্ট নয়। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় পুলিশের দ্রুত সেবাদানকারী কল সেন্টার ৯৯৯-কে সমন্বয় করা গেলে তারাই গ্রাহকের অভিযোগ শুনে নির্ধারণ করে দেবে এটির সমাধান কে করবে বা গ্রাহককে নিরাপত্তা দিতে কোন এজেন্সি বা কোন দপ্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দ্রুতই ডিজিটাল নিরাপত্তা দিতে পুলিশের কল সেন্টার ৯৯৯-কে সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হোক। প্রযুক্তিবিদরা জানান, অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা, যৌন হয়রানিসহ আরও অনেক অপরাধ বাংলাদেশে আগে থেকেই চলছে। কিন্তু নতুন ধরনের বিভিন্ন অপরাধ শঙ্কার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর এইসব অপরাধের জন্য অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অ্যাপে অপরাধীদের নানা ধরনের গ্রুপ আছে। তদন্তে সেসব গ্রুপ-এর নাম জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি সংঘবদ্ধভাবে এক নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় ভারতের ব্যাঙ্গালুরু পুলিশ পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের একজন এ ভি হৃদয়। তিনি ‘টিকটক হৃদয়’ নামে পরিচিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টিকটক অ্যাপে কাজ করার প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচারের অপরাধ করে আসছিল হৃদয়। তিনিসহ ভারতে আটককৃতরা বাংলাদেশ থেকে এক তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে নির্যাতন করে। সেই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই ভারতের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। মেয়েটির বাবা ঢাকার হাতিরঝিল থানায় মামলা করার পর বাংলাদেশের পুলিশও অভিযুক্তদের ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা টিকটক ভিডিও করার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্র হিসেবে কাজ করতো। এরপর আরেকটি অনলাইন অপরাধী চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। তার ‘স্ট্রিমকার’ নামে একটি জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের বাইরে টাকা পাচার করে আসছিল। তারা এই জুয়ায় বিটকয়েনসহ আরও কিছু অনলাইন মুদ্রা ব্যবহার করতো। বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার জগতে অপ্রীতিকর ঘটনা বাড়ছে। এতে অনেকের সামাজিক এবং পারিবারিক ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এদিকে প্রযুক্তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাইবার জগৎ-এর কনটেন্ট মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনায় নতুন করে ‘সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করেছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, সরকারের অনুমোদনক্রমে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম (ডট)-এ স্থাপিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) নামক কারিগরি সিস্টেমের মাধ্যমে আপত্তিকর ওয়েবসাইট, ডোমেইন এবং ব্লগ বন্ধ করার কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। ইতিমধ্যে সিটিডিআরের মাধ্যমে ২২,০০০ পর্নোগ্রাফি ও জুয়াড়ি সাইটে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। গত এক বছরে বিটিআরসি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ১৮,৮৩৬টি লিংক অপসারণের অনুরোধ করে। যার মধ্যে ৪,৮৮৮ লিংক অপসারণ করা হয় এবং ইউটিউবে ৪৩১টি লিংক বন্ধ করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ৬২টি লিংক বন্ধ করা হয়। এ ছাড়া সিটিডিআর’র মাধ্যমে ১,০৬০টি ওয়েবসাইট এবং লিংক বন্ধ করা হয়। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগ একটি ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে দেয়া। এরা প্রতিষ্ঠানের কেউ নয়। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে ক্রমশই। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস (সিসিএ) ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট মতে, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে ৬৮ শতাংশ নারী সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছে। সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে নারীদের একান্ত ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া বা ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় এমনকি ধর্ষণ করা, ছবি বা ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেয়া, ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেয়া, অশ্লীল বা হয়রানিমূলক মেসেজ বা মেইল পাঠানো প্রভৃতি অপরাধকর্মের শিকার হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, গৃহিণী, চাকরিজীবী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, শিশুসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে চলে এসেছে ইন্টারনেট, যাদের অধিকাংশের ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। ফলে অপরাধীরা এর সুযোগ নিয়ে অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়। অধিকাংশ সাইবার ক্রাইম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। এসব অপরাধ থেকে পরিত্রাণ পেতে জরুরি সেবা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে জানান প্রযুক্তিবিদরা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর