× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২১, রবিবার , ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ

প্রথম পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার

 বাংলাদেশ চাইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ- এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক
মিয়া সেপ্পো। গতকাল দুপুরে কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ দূত ওপেন এই প্রস্তাব দেন। তবে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় জাতিসংঘ মধ্যস্থতার কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা? সে বিষয়ে তিনি খোলাসা করে কিছু বলেননি। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির বহুল আলোচিত নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যস্থতায় দু’দফা ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু সেই সিরিজ রাজনৈতিক সংলাপ সফল হয়নি। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ডিকাব টক-এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন জাতিসংঘ দূত মিয়া সেপ্পো। ঘুরে ফিরে তিনি যেটা বলার চেষ্টা করেন তা হলো- নির্বাচন অনুষ্ঠান একান্তই হোস্ট কান্ট্রির স্টেক হোল্ডারদের বিষয়। যে কোনো দেশ চাইলেই তাদের নির্বাচনে সহযোগিতা দেয় জাতিসংঘ।
সেটা বাংলাদেশেও ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী কর্মপন্থা ঠিক করতে যাচ্ছে বিএনপি। জাতীয় পার্টিও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন আইন প্রণয়নের দাবিতে সক্রিয়। সব মিলে দেশে নির্বাচন নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে তৎপর থাকবেন কূটনীতিকরা: এদিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে জাতিসংঘ আগের মতো এবারো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো সংলাপের কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা? জানতে চাইলে আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, নির্বাচন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বরাবরই আগ্রহ থাকে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে ব্রিফ করেন। সেটি বাংলাদেশেও হয়। তবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রশ্নে সংলাপের আয়োজন জাতিসংঘ করতে পারে বা যেকোনো রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে হতে পারে। আগের থেকে এবার আলাদা কিছু হবে না বলে মনে করেন তিনি। প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ বছর আগে তৎকালীন ঢাকার জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর নেতৃত্বে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে মিয়া সেপ্পো বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বে ও বাংলাদেশের নারীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও বৈষম্য নিয়ে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। বৈশ্বিকভাবে নাগরিকদের স্বাধীনতা কমে আসাও আমাদের উদ্বেগের কারণ। আমরা আশা করি জাতিসংঘের ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউয়ের যে সুপারিশগুলো করা হয়েছিল, বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, পরিস্থিতির উন্নয়ন বা বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সেগুলো সংসদে আলোচনায় নিয়ে আসবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে অব্যাহত উদ্বেগের বিষয়টি স্মরণ করে জাতিসংঘ দূত বলেন, আইনটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর প্রয়োগ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর পর্যালোচনায় সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত, যাতে করে এর অপব্যবহার কমে আসে। গুম প্রসঙ্গে মিয়া সেপ্পো বলেন, সব নাগরিকের সুরক্ষা এবং জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে কনভেনশনে সইয়ের জন্য জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে। এশিয়ার বেশির ভাগ রাষ্ট্র এ কনভেনশনে সই করেনি। ফলে এটি সই করে, এ নিয়ে আইন তৈরি করে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে সমর্থন জাতিসংঘের: ওদিকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে রেখে দেয়া সংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব নাকচ হওয়ার দু’মাস পর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন জাতিসংঘ দূত। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর সুপারিশে তৈরি করা বিশ্বব্যাংকের রিফিউজি পলিসিতে রোহিঙ্গাসহ অন্য উদ্বাস্তুদের আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের (একীভূত) প্রস্তাব করা হয়েছিল। ঢাকার তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জুলাইতে প্রস্তাবটি নাকচ করা হয়। তখন বাংলাদেশে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসনে বিশ্বব্যাংক একটি ব্যাখ্যা দিলেও জাতিসংঘ বা ইউএনএইচসিআর ছিল নীরব। এতদিন পর জাতিসংঘ দূত মিয়া সেপ্পো ডিকাব টকে অংশ নিয়ে সেই প্রস্তাব প্রসঙ্গে বলেন, এ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। জাতিসংঘ বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক শরণার্থী বিষয়ক নীতিকে সমর্থন করে। যদিও অনেক দেশের স্থানীয় নীতির সঙ্গে বৈশ্বিক নীতির পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য থাকবে। বৈশ্বিক উদ্বাস্তু নীতির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ একই মনোভাব পোষণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের নীতি বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করলেও জাতিসংঘ কর্মকর্তা এ নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন। তার মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানবিক সহায়তার জন্য অর্থায়ন। তিনি এ নিয়ে কথা না বাড়িয়ে বরং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে তাগিদ দেন। বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সকলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সংকটটির টেকসই সমাধানে প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা। আফগানিস্তান সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি কিছুটা হলেও আড়ালে চলে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইস্যুকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে রাখা বাংলাদেশের দায়িত্ব। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান কামনা করে মিয়া সেপ্পো বলেন, সংকটটি কেবল মানবিক নয়, বরং রাজনৈতিকও। নিরাপত্তা পরিষদ একমত হতে না পারায় সংকটটির রাজনৈতিক সমাধান হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের পরিবর্তিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান না হওয়ায় আসন্ন ৭৬তম হাই লেভেল সামিটে দেশ দুটির প্রতিনিধিত্ব থাকছে না বলে জানান জাতিসংঘ দূত।
ভাসানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার সমঝোতা চূড়ান্ত প্রায়: ভাসানচরে জাতিসংঘ যুক্ত হওয়ার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, গত মার্চে জাতিসংঘের টেকনিক্যাল টিম তাদের কাজ শেষ করেছে। ভাসানচর নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর আমরা সেখানে দ্রুত সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ শুরু করবো। তবে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে জাতিসংঘের ভূমিকা ভিন্ন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দু’টি জায়গার পরিস্থিতিতে ভিন্নতা রয়েছে। আলোচনায় বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনের দিনের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে সেপ্পো জানান, সমুদ্রে পানি বাড়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি ডুবে যেতে পারে। প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশে স্কুল খোলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মিয়া সেপ্পো বলেন, আমাদের স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা দরকার। ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমানের সঞ্চালনায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনুদ্দিন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর