× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২১, সোমবার , ৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ইউপিতেও কেন অটোপাস?

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(৩ সপ্তাহ আগে) সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, সোমবার, ১২:২৩ অপরাহ্ন

এটা একেবারে অভিনব নয়। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে। বিরোধীরা যখন নির্বাচন বর্জন করে এমন দৃশ্যপট তৈরি হয়। ২০১৪ সালে তো রীতিমতো রেকর্ডই হলো। ১৫৩ জন এমপি নির্বাচিত হলেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ নিয়ে নানা আলোচনা, বিতর্ক। কিন্তু অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
কিন্তু এবারে একেবারে ভিন্ন এক রেকর্ড হতে চলেছে। সাড়ে চার হাজার ইউপিতে নির্বাচন হবে কয়েক দফায়। এরমধ্যে এ দফার ১৬০টির মধ্যে ৪৫টিতেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া। বলা বাহুল্য তারা সবাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। নয়টি পৌরসভার মধ্যে তিনটির একই পরিণতি হয়েছে।

২০১৬ সাল থেকে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে দেশে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না। মূলত এ কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। অনেকটা অটোপাসের মতোই পাস করে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। যেসব ইউপিতে নির্বাচন হচ্ছে সেখানেও খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এমনটা নয়। ফল আগেই অনুমেয়। নিবন্ধন হারানো জামায়াতও নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছে বহুদিন। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এমনকি সংসদের উপ-নির্বাচনগুলোতেও এ দলের প্রার্থীরা কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে সরে যাচ্ছেন। সহযোগী দৈনিক প্রথম আলো’তে খবর বের হয়েছে, মূলত সুযোগ-সুবিধা নিয়েই দলটির প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

এটা একধরনের পরিস্থিতি। এবারও ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন কিছু জায়গায়। অতীতে দেখা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে অনেক জায়গাতেই সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে। যে কারণে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে যে, বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ কারণে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতাও প্রার্থী হতে সাহস করেননি। বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান এমন অনেক নেতাকে প্রার্থীরা নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নিবৃত করেছেন।

ইউপি নির্বাচনগুলোতে অতীতে অনেক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রার্থী হতেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভোটের পরিবেশ দেখে ধীরে ধীরে তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের কোনো না কোনো পর্যায়ের সমর্থন ছাড়া ভোটের ময়দানে যে শেষ পর্যন্ত টেকা যাবে না তা তারা অনেকটাই বুঝে গেছেন। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যেমন গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষ জেনে গেছে যে দিনশেষে জয়ী হবেন সরকারদলীয় প্রার্থীরা। ফলে নির্বাচনে অংশ নেয়াকে প-শ্রম ও অর্থের অপচয় মনে করেন অনেকে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ অবশ্য পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করেছেন আরেকটু এগিয়ে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সরকারতো বলছে মানুষ শান্তিতে আছে। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। দেশের ভবিষ্যৎ ভালো। আমি মনে করি এমন দেশে নির্বাচন না হলেও সমস্যা নেই। কারণ দেশে যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে এই ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কোনো দরকার নেই।

করোনকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে সারা দুনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থাতেই অটোপাসের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও পাবলিক পরীক্ষায় অটোপাস দেয়া হয়েছে। যদিও দেড় বছরের বেশি সময় পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সচল হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতির বিশেষ এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনেও চলছে অটোপাস। অথচ স্থানীয় নির্বাচনগুলো হতে পারতো উৎসব। যেটা গণতন্ত্রেরই দাবি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মোঃ জহিরুল ইসলাম
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ২:৪২

এই ইসির আরও তেলেসমাতি দেখার অপেক্ষায় থাকুন।

এ,টি,এম,তোহা
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ২:২৮

পানি নিচের দিকে ধাবিত হয়। ছোটরা বড়দের অনুসরণ করে। সংসদ সদস্যরা অটো পাশ করেছেন। তাদের সে দৃষ্টান্ত ও অভিজ্ঞতা নিচের ল্যাবেলে অনুসরণ করাটাই স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক ব্যাপার হলো জেনে বুঝে দেশের টাকা নষ্ট করছে নির্বাচন কমিশন। তারা বেতন ভাতা নিক, সমস্যা নেই। এটা তাদের চাকরি। কিন্তু তারা ভোটের নামে যেভাবে অযথা টাকা খরচ করছে তা ক্ষমা করা যায় কী? তারা নির্বাচন ছাড়া যে নৌকা প্রতীক পাচ্ছে তাকে দলীয় প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী করলেই পারে।

Professor Dr, Habibu
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ২:৪০

অন্যান্য জায়গার মত আজ, আমার ইউনিয়নেও ভোট হচ্ছে তবে মানুষ সঠিক ভাবে তার মতামত প্রয়োগ করতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। ১৯৩৭ সাল থেকে ইউনিয়ন কাউন্সিল মেম্বারি / প্রেসিডেন্ট ভোট হলেও প্রায় ১০০ বছর পরেও আমরা যেন সঠিক ভাবে ভোটে অংশ গ্রহন করতে শেখার চেষ্টা করিনি । এ জন্য আমি কাউকে একক ভাবে দোষী সাব্যস্ত করতেও নারাজ । কারন , যারা রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র তাঁরা আর রাজনীতিতে নেই । যারা আইন নিয়ে লেখাপড়া করেছেন তাঁরা সাধারনত পার্লামেন্টে যেতে চান না । যে কারনে, গত ১০০ বছরে আমাদের সমাজ বাবস্থা তৃণমূল পর্যায়ে জন প্রতিনিধি নির্বাচনে তেমন কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি; মানুষ ভোটে অংশ গ্রহনকে উৎসব মনে করে - যা এক ধরনের দায়িত্বহীন উক্তি। এমতবস্থায় , এই দুষ্ট চক্র থেকে বের হয়ে আশা আমাদের জন্য জরুরি এবং ভোটের বাবস্থাপনা প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হওয়া দরকার । সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যেমন গণমাধ্যমকে বলেন, মানুষ জেনে গেছে যে দিনশেষে জয়ী হবেন সরকারদলীয় প্রার্থীরা ।তবে, এটা যে শুধু আওয়ামী লীগের মনপলি তা আমি মনে করি না । পূর্বে , বি এন পি বা জাতীয় পার্টি এই দোষে কোন না কোন ভাবে কালিমা লিপ্ত হয়ে আছে । ২০২১ সালের আজকের দিনের নির্বাচনে অংশ নেয়াকে পনড-শ্রম ও অর্থের অপচয় মনে করেন অনেকে কিন্তু; এখন জীবনেরও অপচয়ও হচ্ছে কারন, এর মধ্যে, বাগেরহাট থেকে একজন এবং মহেশ খালি থেকে দুই জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে যা বড় কষ্টের এবং অপ্রয়োজনীয় ।

Khokon
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ১২:২৮

কেন?এই কেন-র উত্তর দিবে মইন -ফখর -সুজাতা সিং।

Shobuj Chowdhury
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ১২:৪৯

The answer to your question lies on your piece. An inaction and false justification of a 100% fraudulent national election is the hint. I would leave it to your readers to figure out the the 1- piece puzzle.

Kazi
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, রবিবার, ১১:৪৬

বাকশাল প্রস্তাব থেকেও বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা খারাপ। শেখ মুজিব বাকশাল করতে চেয়েছিলেন- একই দল থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে । কার ও প্রতি দলের সমর্থন থাকবে না । নিজের গুণে প্রার্থী জয়ী হলে স্বাভাবিকভাবেই সৎ লোক নির্বাচিত হবে । জনগণ সৎ ব্যক্তিকে ই ভোট দিবে । তখনকার সময়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে এমন পদ্ধতির চিন্তা ভাবনা করেছিলেন শেখ মুজিব।

অন্যান্য খবর