× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ৮ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকার কি হবে?

প্রথম পাতা

পিয়াস সরকার
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

দীর্ঘ অপেক্ষার পর খুলেছে স্কুল-কলেজ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার অবসান যেন হচ্ছেই না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা এলেও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে প্রথমে গুগল ফরমে আবেদন চাওয়া হয়। সেই ফরম পূরণ করেননি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এবার প্রথম ডোজ টিকার জন্য যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তাও চলছে ঢিমেতালে।

টিকার জন্য প্রায় কয়েক মাস আগেই চাওয়া হয়েছিল তথ্য। রাজধানীর স্বনামধন্য ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুগল ফরমে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল তা পূরণ করেননি অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও দেয়া হয়নি চাপ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা টিকার রেজিস্ট্রেশন করা শুরু করেছেন। ইউজিসি’র দেয়া লিংক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেও তথ্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের তথ্য ইউজিসিতে দিয়েছে। এ ছাড়াও গতকাল কিংবা আজ শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হবে। এতে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্মনিবন্ধনের তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে নির্দেশনা দেয়া হবে। জরুরিভিত্তিতে তথ্য প্রদানের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল ১৩ই সেপ্টেম্বর সোমবারেও। সেখানে তিনদিনের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তথ্য না মেলায় ফের দেয়া হচ্ছে চিঠি। দেশে বর্তমানে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩৯ লাখ। ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। নিবন্ধন করেছেন ১৭ লাখ শিক্ষার্থী। আর নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন ২১ লাখ শিক্ষার্থী। আর শুক্রবার ইউজিসির লিংক চালু হওয়ার পর থেকে রোববার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত আবেদন করেছেন ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী। যাদের মধ্যে টিকা পাননি ৫৫ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষক বলেন, আমি যেহেতু প্রশাসনের কেউ না তাই আমার নাম দেয়াই ভালো। শিক্ষার্থীদের আমরা নিয়মিত ফরম পূরণের জন্য বলছি। ক্লাস, অনুষ্ঠান কিংবা অফিসিয়াল নোটিশ সব স্থানেই তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মল্লিকা চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিদিনই মেইল করছে ফরম দিয়ে। পূরণ করার জন্য তাগাদাও দিচ্ছে। তবে আমিসহ আমাদের ক্লাসের অধিকাংশই পূরণ করিনি। তবে শিগগিরই করবো আশা করি।

দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে চাই প্রস্তুতি। কিন্তু এই প্রস্তুতিতেও ঘাটতি রয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতির জন্য কোনো নির্দেশনা তাদের দেয়া হয়নি। তবে তারা জানান, নিয়মিত যে পরিচ্ছন্নতার কাজ তা অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেশে ১০৫টি চলমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কবে নাগাদ খুলবে সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই টিকার রেজিস্ট্রেশনের সাপেক্ষে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। এ ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্ত চটজলদি দেয়া হতে পারে। যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই নেই আবাসিক হল। তাই মন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসি’তে তাদের নিয়ে আলোচনা ও শঙ্কাও কম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রস্তুতি সাপেক্ষে খোলা শুরু হবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে। এরপর ধীরে ধীরে সেগুলো খুলবে। আর অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রস্তুতি নিচ্ছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যদি ২৭শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের টিকার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারে তাহলে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, আজ বা আগামীকাল একটি চিঠি যাবে তাতে বলা হবে, শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধনের তথ্য দিয়ে ইউজিসির ওয়েব লিংকে নিবন্ধন করবে এবং এরপর সুরক্ষা অ্যাপে আবেদন করবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন ১৪৬৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। টিকার আওতায় আনার শতভাগ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর কীভাবে টিকার আওতায় আনা হবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তাদেরও আমরা একটা প্রক্রিয়া ঠিক করে টিকার আওতায় আনবো। তারাও আমাদের শিক্ষার্থী, তাদের পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা তালিকা দেবো- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার, ৬:৫৬

টিকার ব্যাপারে বৈষম্য করা যাবে না সরকারি বেসরকারি সীমা টেনে । সব শিক্ষার্থীদের টিকা দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তত্বাবধানে । কানাডায় বেআইনি ভাবে বসবাসকারী কে ও সরকার টিকা দিয়েছে। বাংলার মাটিতে যারা স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী বসবাস করে তারাও টিকা পাওয়ার যোগ্য। নতুবা তাদের মাধ্যমে ও রোগ ছড়ানোর ভয় আছে ।

অন্যান্য খবর