× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার , ৮ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
ই-কমার্স

দেউলিয়া হলেই নজরে আসে

প্রথম পাতা

আল-আমিন
২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার

আগে থেকেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্সের প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে করোনাকালীন ঘরবন্দি মানুষের নানা পণ্যের প্রয়োজন দেখা দেয়ায় তারা ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন। তখন এ ব্যবসাটি জনপ্রিয়তা পেলেও এ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন দেউলিয়ার মুখে। অনেকেই অফিসে তালা লাগিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন।

কেউ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কোম্পানিকে দেউলিয়া বানাচ্ছেন যাতে গ্রাহকেরা তাদের পণ্য ও টাকা চাইতে না পারেন। কেউ আবার বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক এবং তাদের প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহকারী বড় বড় কোম্পানিগুলো।
কিছুদিন আগে ইভ্যালির সিইও রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ইভ্যালির কাছে তিনটি বড় কোম্পানি প্রায় ২১৫ কোটি টাকা পাওনা আছে। দেখা গেছে, কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। গ্রাহকদের বিক্ষোভ হলে বা সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে কোনো প্রতারিত গ্রাহক মামলা করলে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ায় র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি সতর্ক রয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (সিআইডি) ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান গতকাল মানবজমিনকে জানান, ‘ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন তারা। অনেক প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। ৩ টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০০ কোটি আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে। তারা হলো,  সিরাজগঞ্জশপ ডটকম, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস লিমিটেড ও ধামাকা। এরই মধ্যে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ১১১ কোটি টাকা পাচার করেছে ধামাকা। এসপিসি ওয়ার্ল্ড ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা পাচার করেছে। আর সিরাজগঞ্জশপ ডটকম গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। সিরাজগঞ্জ ডটকমের মালিক জুয়েল রানা, ধামাকার প্রধান জসিম উদ্দিন চিশতি ও এসপিসি ওয়ার্ল্ডের  মো. আলামিনকে গ্রেপ্তার করতে তৎপর রয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সাধারণ গ্রাহক যখনই তাদের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করছেন ওইসব প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো একদিনে  গজিয়ে ওঠেনি। তারা দীর্ঘদিন ধরে  এবং ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে কম দামে পণ্য দিয়ে  কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়েছে। এ সুবিধা দেয়ায় অন্য গ্রাহকদের জন্য কাল হয়েছে। তারা বছরের পর বছর ব্যাপক ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। তাদের বিনিয়োগ সব স্থানে দৃশ্যমান রয়েছে। ক্রিকেট মাঠ থেকে শুরু করে বড় ইভেন্টগুলোতে তাদের পদচারণা ছিল। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার টেকনিক এবং গ্রাহক প্রতারিত হবে কি-না বা গ্রাহকের টাকা কোথায় যাচ্ছে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কথা বলেনি কেন?
সূত্র জানায়, ধামাকা, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, নিরাপদ ডটকম, সিরাজগঞ্জ ডটকম, এসপিসি ওয়ার্ল্ডের প্রতিষ্ঠনাগুলোর লাখ লাখ গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হাত ছাড়া হওয়ার উপক্রম। এর মধ্যে ই-অরেঞ্জের কাছে ১১শ’ কোটি টাকা এবং ইভ্যালির কাছে রয়েছে ১ হাজার কোটি। এ টাকা পাবেন যেমন সাধারণ মানুষ, তেমন পাবেন তাদের পণ্য সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানগুলো। ই-অরেঞ্জের পরিচালক বনানী থানার বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানা প্রায় ১১০০  কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভারতে পালাতে গিয়ে সে দেশের সীমারক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হাতে ধরা পড়েন।  সূত্র জানায়, ধামাকার প্রধান চিশতি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। আর জুয়েল ও আলামিনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সূত্র জানায়, গুলশান ও বনানী এলাকায় গজিয়ে ওঠা প্রায় ১৫ টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের  বায়োডাটা এখন পুলিশের হাতে। তারা ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবসার পদ্ধতি জানতে পেরেছেন। এছাড়াও তাদের আয়-ব্যয় ও পণ্য প্রদানের নিয়ম  জেনেছেন। তাদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ৭:১৭

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ নয় ব্যবসা তদারক করা। মন্ত্রণালয়ের কাজ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি ও তদারক । আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যখন হস্তক্ষেপ করে, ঠিক তাদের জন্য সঠিক সময়মত করে ।

অন্যান্য খবর