× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সিলেটে প্রতিবন্ধী দুই বোনের বাড়ি আত্মসাতের ষড়যন্ত্র তদন্তে প্রমাণিত

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

 সিলেট নগরীর বাগবাড়ির প্রতিবন্ধী ২ বোন চামেলী রানী কপালী ও লাভলী রানী কপালীর বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টার সত্যতা মিলেছে। আপন বড় ভাই মনোজ কুমার কপালী ও তার স্ত্রী শিলি রানী কপালীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নির্যাতিত দু’বোনের আবেদনের তদন্ত শেষে নগর বিশেষ শাখা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কপালীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ২৩শে জুন সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে প্রতিবন্ধী চামেলী ও লাভলী। আবেদনের পর তা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর বিশেষ শাখা। আবেদনে মাদকাসক্ত ভাইয়ের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান প্রতিবন্ধী দুই বোন চামেলী রানী কপালী (৪১) ও লাভলী রানী কপালী (৪০)। তারা সিলেট নগরীর কোতোয়ালি থানার উত্তর বাগবাড়ির প্রমুক্ত একতা-৩৩১ নম্বর বাড়ির মৃত স্কুলশিক্ষক হরিদাস কপালীর মেয়ে।
তারা আরও উল্লেখ করেন- স্কুলশিক্ষক বাবা বেঁচে থাকতে মা, বড় ভাই ও আমরা শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই বোনসহ খুব সুখেই চলছিল পরিবার। এরইমধ্যে তাদের বড় ভাই মনোজ কপালী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিন মাদকের টাকার জন্য পরিবারের ওপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এরইমধ্যে পিতা হরিদাস কপালীও মারা যান। বাবার মৃত্যুর কিছুদিন যেতে না যেতেই নেশার টাকার জন্য দুই প্রতিবন্ধী বোন ও মায়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে ভাই মনোজ কপালী। এই শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়াসহ বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল বাড়িটি রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে ছোট বোন লাভলী রানী কপালী বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমাদের ওপর নেমে আসে অন্ধকার। আমাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ভাগবাটোয়ারা হওয়ার পর আমরা দুই বোন একটি বাড়ি পাই। এই বাড়ির একটি কক্ষে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে কোনোরকমে থাকি আর বাড়ির অন্য কক্ষগুলো ভাড়া দিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসারের খরচ চলে। সচ্ছলভাবে না হলেও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে কোনোরকম আমরা দিনাতিপাত করছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরিত নগর বিশেষ শাখার প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান উল্লেখ করেন- ২০০৫ সালে চামেলী ও লাভলীর প্রতিবন্ধিতার কথা চিন্তা করে তাদের পিতা ২ মেয়ের নামে ৫.৪৪ শতাংশ ভূমি লিখে দেন। এ সংবাদ পেয়ে ভাই মনোজ কপালী জোর জবরদস্তি করে লিখে দেয়া ভূমি ফিরিয়ে নেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষক হরিদাস কপালী স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৩-৪ বছর বিছানায় ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পিতার মৃত্যুর পর এলাকাবাসী সালিশ বৈঠক করে দেয়া বাড়িতে মাকে নিয়ে ২ প্রতিবন্ধী বোন বসবাস করে আসছেন। ঘর ভাড়া, দোকান ভাড়া ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে কোনোমতে চলে যাচ্ছে তাদের জীবন। কিন্তু বাড়িটি আত্মসাতের লক্ষ্যে বড় ভাই মনোজ কপালী ও তার স্ত্রী শিলি রানী কপালী তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাদকাসক্ত মনোজ কপালীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না। মা বোনকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করেন যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যারাই মনোজ কপালীর বিচারে যান তাদেরও গালিগালাজ করে সম্মানহানি করা হয়। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন, মনোজ কপালী ও তার স্ত্রী শিলি রানী কপালী মৃত হরিদাস কপালীর পুরো সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিতে পাঁয়তারা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর