× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠি
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২১, মঙ্গলবার , ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ
বাল্য বিবাহে শিক্ষার্থী সংকট

ফুলবাড়ীতে এক স্কুলের ৮৫ জন ছাত্রী স্বামীর ঘরে

বাংলারজমিন

রবিউল ইসলাম বেলাল, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) থেকে
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বাল্য বিবাহ। শুধুমাত্র উপজেলার বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের  ৮৫ জন শিক্ষার্থী বিয়ে হয়ে স্বামীর ঘরে। ফলে বিদ্যালয় খোলার পর কমে গেছে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।  
ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর, নাছিমা, আতিকা খাতুনসহ অনেকেই জানায়, ১২ই সেপ্টেম্বর  বিদ্যালয় খোলার দিনে ১৭ জন বান্ধবীর বিয়ে হওয়ার খবর শুনে তাদের সকলের মন খারাপ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খোলার আনন্দ ম্লান হয়ে যায় সহপাঠিদের বিয়ের খবরে। বাল্যবিয়ের শিকার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বীথি খাতুনের বাবা ভ্যানচালক বাদশা মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। মেয়ে বড় হয়েছে, কখন কী হয় তাই ভালো সম্বন্ধ পাওয়ায় মেয়েটার বিয়ে দিয়েছি।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ওই বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪৫ জন।  এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ২ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১১ জন , অষ্টম শ্রেণিতে ১৭ জন , নবম শ্রেণিতে ২৮ জন, দশম শ্রেণিতে ১৪ জন এবং চলতি বছরের এস এস সি পরীক্ষার্থী ১৩ জন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না। তাদের সকলের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা এখন স্বামীর বাড়িতে ঘর-সংসার করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন  গড়ে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হলেও বর্তমানে উপস্থিতির হার ৪০-৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. মতিউর রহমান খন্দকার জানান, বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের বাল্যবিয়ের খবর জানা গেছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তারা পড়াশুনা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। এই সুযোগে পরিবার তাদের বিয়ে দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাল্যবিয়ের তথ্যটি পেয়েছি। এ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস জানান, বড়ভিটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৫ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের বিষয়টি শুনেছি। বাল্য বিয়ে কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন  ধরনের প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে আমরা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
সিয়াম খান
২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার, ৮:২৮

শুধু ফুলবাড়িতে নয়, বাল্যবিবাহ এবং অকাল বিবাহ সারা বাংলাদেশে একটি বড় সমস্যা। বাল্য বিবাহ এবং অকাল বিবাহ বাংলাদেশের সকল সমস্যার জন্য দায়ী। বাল্যবিবাহ এবং অকাল বিবাহের কারণে আমরা বাংলাদেশীরা কোন কাজে সাফল্য পাচ্ছি না।

অন্যান্য খবর