× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ১২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

তালেবানদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করছে রাশিয়া চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১, সোমবার, ৭:৪১ অপরাহ্ন

আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা যাতে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এ জন্য একসঙ্গে কাজ করছে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে একটি প্রতিনিধিত্বশীল প্রকৃত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস বিস্তার প্রতিরোধ হয় এমন একটি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য এ প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ল্যাভরভ বলেছেন, চলমান যোগাযোগের মধ্যদিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এই চারটি দেশ। এ জন্য সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহা সফর করেছেন রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা। এরপর তারা সফর করেছেন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। এসব স্থানে তারা তালেবান এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে আছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সমঝোতা বিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে তালেবানদের সঙ্গে মধ্যস্থতায় তারা অংশ নিয়েছেন।
সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, দেশটিতে তালেবানদের অন্তর্র্বর্তী সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে এখনো আফগান সমাজের পুরো চিত্র ফুটে ওঠেনি। বিশেষ করে জাতিগত, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক দিক থেকে। এ জন্য আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। তা চলমান অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ছিল তালেবান সরকার। তখন তারা যে প্রক্রিয়ায় সরকার পরিচালনা করেছে এবার তা থেকে বেরিয়ে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অধিক উদার সরকার হবে। সেখানে নারীর অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো হবে। ২০ বছরের যুদ্ধের পর দেশে স্থিতিশীলতা আনা হবে। লড়াই হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে। নিজেদের ভূখ- ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলা চালাতে দেবে না।
কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তাদের সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিল খায় না। এখন পর্যন্ত তারা যা প্রদর্শন করেছে তাতে আফগানিস্তান আবার সেই নিষ্পেষণমূলক শাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও বালিকাদের অধিকারের বিষয়ে।
সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তালেবানদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিশ্চিত করা। কারণ, তারা প্রকাশ্যে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে। আর তাই, বিষয়টি আমাদের কাছে এখন শীর্ষ
অগ্রাধিকার। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ল্যাভরভ। আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি করে সেনা প্রত্যাহারসহ বাইডেন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তিনি। বলেন, পরিণতি কি হবে তা বিবেচনায় না নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখনো আফগানিস্তানে রয়ে গেছে অনেক অস্ত্র। দেশটি এখনো সংকটময় এক অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, জার্মানি ও ফ্রান্স সম্প্রতি এলায়েন্স ফর মাল্টিলেটারেলিজম সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘের চেয়ে বহুপক্ষীয় আর কি কাঠামো হতে পারে? এ প্রশ্ন রাখেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁ সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যকার অকার্যকর সম্পর্ক পুনরায় মেরামত না করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ বিপজ্জনক নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে রাশিয়ার মন্তব্য চেয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ল্যাভরভকে। জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। আমরা তো দেখতেই পাচ্ছি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টান টান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। এ অবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সের্গেই ল্যাভরভ। বিশেষ করে সম্প্রতি চীনকে মোকাবিলার জন্য অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত অকাস চুক্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। আরও জোর দিয়ে ল্যাভরভ বলেন, বড় শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক অবশ্যই শ্রদ্ধার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক থেকে পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হোকÑ এটা কখনোই হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর বড় দায়িত্ব আছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর