× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার , ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসেরের সাড়ে ৩ ঘণ্টা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
১৩ অক্টোবর ২০২১, বুধবার

ধনকুবের মুসা বিন শমসের ওরফে প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সচিব পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গতকাল সাড়ে ৩ ঘণ্টা ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুসা বিন শমসের জানিয়েছেন, কাদের সম্পর্কে বেশি জানতেন না। প্রতারণার বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। এ ছাড়াও কাদেরের সঙ্গে কীভাবে পরিচয়, কেন কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি। এর আগে মুসা বিন শমসেরকে ডিবি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে চিঠি দেয়া হয়েছিল। চিঠির প্রেক্ষিতে গতকাল বিকালে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকার মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যান মুসা বিন শমসের। বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হন ৬টা ৫৫ মিনিটে।
মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (গুলশান) হারুন অর রশীদ। এ সময় তিনি বলেন, অতিরিক্ত সচিব পরিচয়দানকারী আবদুল কাদেরের প্রতারণার দায় মুসা বিন শমসের এড়াতে পারবেন না। তিনি প্রতারক কাদেরকে তার আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিয়েছেন। এমনকি তাকে ‘বাবা’, ‘সোনা’ বলেও ডাকতেন মুসা বিন শমসের।
তবে প্রতারক কাদের সম্পর্কে বেশি জানতেন না বলে দাবি করেছেন মুসা বিন শমসের। এ বিষয়ে হারুন অর রশীদ বলেন, মুসা বিন শমসের বলেছেন প্রতারণার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আমরা তাকে বলেছি, একজন নাইন পাস লোককে আপনি না বুঝে কীভাবে নিয়োগ দিলেন, তার থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়ে কীভাবে লাভসহ ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন? এসব বিষয়ে তিনি অনেক তথ্য দিয়েছেন। কাদেরের সম্পর্কে তিনি বেশি জানেন না বললেও আমরা তার সঙ্গে কাদেরের অজস্র কথোপকথন পেয়েছি। প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারো ডাকা হতে পারে বলে জানান হারুন অর রশীদ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারক আব্দুল কাদেরের সঙ্গে মুসা বিন শমসেরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্পর্কের চুক্তিপত্রসহ নানান তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
গত ৭ই অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাদের চৌধুরী, শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলিসহ একটি ওয়াকিটকি, একটি প্রাডো গাড়ি, অতিরিক্ত সচিবের অফিসিয়াল আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ডসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার চার প্রতারকের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি অস্ত্র মামলা ও তেজগাঁও থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।
আব্দুল কাদেরের প্রতিষ্ঠানে মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার একাধিক ছবি টানানো রয়েছে। মুসা বিন শমসেরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো আব্দুল কাদের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক আব্দুল কাদের চৌধুরীর কাছ থেকে মুসা বিন শমসের ও তার স্ত্রীর সঙ্গে করা কিছু চুক্তিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে তার ২০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পায় ডিবি। কিসের ভিত্তিতে এসব লেনদেন করা হয়েছে তা জানতেই মূলত মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর