× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার , ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ
মুখ খুললেন সাবেক সভাপতি

‘মেসিকে পিএসজিতে যেতে দেয়া ঠিক হয়নি বার্সেলোনার’

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ অক্টোবর ২০২১, শনিবার

বার্সেলোনার বর্তমান অবস্থার জন্য সমর্থকরা দায়ী করেন আগের সভাপতি হোসেপ মারিয়া বার্তোমেউকে। মোটা বেতনে ফিলিপে কুতিনহো, অঁতোয়ান গ্রিজমান, উসমান দেম্বেলেদের দলে ভেড়ানোটা বার্সার আর্থিক দুর্র্দশার অন্যতম কারণ। আর আর্থিক কারণেই লিওনেল মেসিকে ধরে রাখতে পারেনি কাতালান জায়ান্টরা। বার্তোমেউয়ের সময়েই বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েছিলেন মেসি। ক্লাবের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে যেতে দেননি বার্তোমেউ। পরের মৌসুমে বার্সেলোনা ছেড়ে যেতে হয় মেসিকে যদিও থেকে যাওয়ারই ইচ্ছা ছিল আর্জেন্টাইন তারকার। অর্ধেক বেতনেও রাজি ছিলেন মেসি। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মেসির চুক্তি নবায়ন করতে পারেনি বার্সেলোনা। আর মেসিকে ধরে রাখতে না পারায় হুয়ান লাপোর্তাকে দুষছেন বার্তোমেউ।
২০২০ সালের আগস্টে ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয় মেসির বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাঠানো বুরোফ্যাক্স। তৎকালীন সভাপতি বার্তোমেউর সঙ্গে মত-বিরোধের জেরে বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসি। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার ফ্রিতে বার্সা ছাড়তে চেয়েছিলেন। বার্তোমেউ মেসিকে আটকাতে তার রিলিজ ক্লজ সামনে আনে। তাতে আটকে যায় মেসির বার্সা ছাড়ার প্রক্রিয়া। মত পাল্টাতে বাধ্য হন মেসি। বার্সায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর সময় বার্তোমেউকে ধুয়ে দেন মেসি। বার্তোমেউকে ‘প্রতারক’ বলেও অ্যাখ্যায়িত করেন তিনি। মেসির সঙ্গে বার্তোমেউর সেসময় কি আলাপ হয়েছিল তা এতদিন অজানাই ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর মেসির বার্সা ছাড়ার বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন বার্তোমেউ। তিনি বলেন, ‘সে বার্সা ছাড়ার কথা জানায়। আমরা এ বিষয়ে আলোচনাও করেছিলাম। আমি সরাসরি না করে দিয়েছিলাম।’ তবে একটি শর্তে মেসিকে ছাড়তে রাজি হয়েছিলেন বার্তোমেউ। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি জাভি কিংবা ইনিয়েস্তার মতো করে যেতে পারো। কাতার, চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে। আমরা এই বিষয়ে আলোচনাও করেছিলাম।’ মেসিকে ইউরোপের কোনো ক্লাবে যেতে দিতে নারাজ ছিলেন বার্তোমেউ। তিনি বলেন, ‘আমরা মেসিকে বলেছিলাম, ইউরোপে বার্সেলোনাই হবে তোমার শেষ ক্লাব। পরে তুমি অন্য মহাদেশের যেকোনো দলে যেতে পারো। তবে সেটা কয়েক বছর পর। এখন তোমাকে এখানেই খেলে যেতে হবে।’ মেসি কোন ক্লাবে যেতে চেয়েছিলেন সেটা বার্তোমেউকে বলেননি। বার্তোমেউ বলেন, ‘সে শুধু বারবার চলে যাওয়ার কথা বলছিল। কিন্তু কোথায় যেতে চায় সেটা বলেনি। আমি তাকে বেশ কয়েকবার প্রশ্ন করেছি, কোথায় যেতে চায় সে?’
চুক্তির নিয়ম মেনে পুরোটা সময় বার্সায় কাটিয়ে ফ্রিতে পিএসজিতে নাম লিখিয়েছেন মেসি। চোখের জলে প্রিয় ন্যু ক্যাম্প ছাড়ার আগে বলেছিলেন, ‘অর্ধেক বেতন কমিয়ে খেলতে চান বার্সার জার্সিতে’। সেই সক্ষমতাও ছিল না বার্সেলোনার। কাতালানদের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নতুন শুরু করেছেন পিএসজিতে।
মেসির চলে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বার্সেলোনার খেলা ও আয়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে খেলা ২ ম্যাচের দুটিতেই বড় ব্যবধানে (৩-০) হার। স্প্যানিশ লা লিগায় ৭ ম্যাচে জয় মাত্র তিনটি। ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবম স্থানে বার্সেলোনা। মাঠের বিবর্ণ পারফরমেন্সের মতো আয়েও পড়েছে মেসির ঠিকানা বদলের প্রভাব। চলতি মৌসুমে কোনো ম্যাচেই ন্যু ক্যাম্পের সবগুলো টিকেট বিক্রি হয়নি। যদিও করোনা মহামারির কারণে ধারণক্ষমতার ৬০ শতাংশ টিকেট বিক্রির নিয়ম করেছে লা লিগা কতৃপক্ষ। নির্বাচনে জিততে হুয়ান লাপোর্তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘সভাপতি পদে জিতলে যেকোনো মূল্যে মেসিকে ধরে রাখবেন’। কথা রাখেননি লাপোর্তা। বার্তোমেউ সরাসরি আক্রমণ করেছেন লাপোর্তাকে। বার্তোমেউ বলেন, ‘আমি সব সময় মনে করি মেসিকে বার্সেলোনার প্রয়োজন। সে বিশ্বসেরা। দলে থাকলে মাঠের পারফরমেন্স এবং অর্থনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব পড়ে। মেসিকে যেতে দেয়া বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় ভুল। সে একজন ফুটবলারের চেয়ে বেশি কিছু। যাকে আপনি ভালো না বেসে পারবেন না।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর