× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২১, শনিবার , ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ
কুমিল্লার ঘটনা

মূল হোতাকে ধরতে গোয়েন্দা জাল

প্রথম পাতা

আল-আমিন
১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার

কুমিল্লার ঘটনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার মূল হোতাকে ধরতে তৎপর রয়েছে গোয়েন্দারা। মণ্ডপে হামলার জন্য যে ক’জনকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাদের কাছে পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত অব্যাহত আছে। এ ছাড়াও নানুয়ারদিঘিতে যে কাণ্ডটি ঘটেছে এর পেছনে কারও উস্কানি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি শান্ত ছিল। কিন্তু, এ শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য একটি গোষ্ঠী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ওই মণ্ডপে ধর্মীয় অবমাননার বিষয়টি তুলে আনার চেষ্টা করে। ওই চক্রটি দেশে হাজার বছর ধরে চলে আসা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এ কাজ করেছে।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায় ২০টি আইডি থেকে অপপ্রচার শুরু হয়। দুর্বৃত্তরা দ্রুত ভিডিও আপলোড করে ছড়াতে থাকে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুব দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করেছে। পুলিশ ওইসব আইডি ও আপলোড হওয়া ভিডিওগুলোর তালিকা করেছে। তদন্তে নানুয়ারদিঘির পাড়ের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে করা হচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ফুটেজে প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা অধিকাংশই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। এ ছাড়াও ২ টি রাজনৈতিক দলের দুই নেতাকে রাখা হয়েছে নজরদারিতে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হতে পারে। ওই দুই নেতার বাড়ি কুমিল্লা হলেও তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তদন্তকারীরা সেখানে ৫টি বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন এবং প্রশ্নের উত্তর  খুঁজছেন। তা হলো: মন্দিরের ঘটনাটি কে আগে দেখেছেন,  ৯৯৯  ফোনকারী ব্যক্তির আশপাশে আর কারা ছিল, কারা দ্রুত সেখানে লোক জড়ো করেছে, কতোজন সেখানে ফেসবুকে লাইভ করেছে এবং মণ্ডপ ভাঙচুরে কে নেতৃত্ব দিয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে জানান, ‘কুমিল্লার ঘটনাটি তদন্ত অব্যাহত আছে। আমরা ঘটনার মূল কারণ জানার চেষ্টা করছি। আশা করছি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটিত ঘটনার কারণ জানতে পারবো। তিনি আরও জানান, মণ্ডপের ঘটনায় যারা সহিংসতা চালাচ্ছে তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক  কে এম আজাদ মানবজমিনকে জানান, ‘র‌্যাব মাঠে কাজ করছে। যারা ফেসবুক লাইভসহ ভাঙচুর করেছে তাদের অনেকেই চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার হয়েছে।’
পুলিশ ও র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ফেসবুকে দুইজন ব্যক্তির লাইভকে প্রথম সূত্রপাত হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে তাদের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যজনকে খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় কতোজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা পুলিশ সদর দপ্তর সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেনি। তবে একজন কমকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকাংশদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, তদন্তকারীরা বিষয়টি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। পূজার আগের দুইদিন সারা দেশের পরিস্থিতি শান্ত ছিল। সুন্দরভাবে সনাতন ধর্মের লোকজন তাদের পূর্জা অর্চনার অনুষ্ঠান পালন করেছে। কিন্তু, পরের দিন ভোররাতে দুর্বৃত্তরা প্লট সাজিয়েছে।  
সূত্র জানায়, যে দুর্বৃত্ত নানুয়ারদিঘির মণ্ডপে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তখন ভোরের আলো কেবল ফুটে উঠার অপেক্ষায় ছিল। রাতের বেলায় গান বাজনা করে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় মণ্ডপে কে ছিল তা জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। সেখানে ৯৯৯-তে যে ব্যক্তি ফোন দিয়েছেন তাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ওই ঘটনায় জব্দকৃত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে যে, যখন সেখানে লোকজন স্লোগান দিচ্ছিলো এবং মণ্ডপে ভাঙচুর চালাচ্ছিল তখন প্রায় অনেকেই সেখানে ভিডিও করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ভিডিওটি দেশে এবং বিদেশে দ্রুত ছড়ানোর জন্য এবং ঘটনার প্লট তৈরির জন্য তারা এটি করেছে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লার ঘটনাটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ২টি পেইজকে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দারা। একটিতে ৮ লাখ আরেকটি ৩ লাখ শেয়ার হয়েছে। তার মধ্যে একটি পেইজ বিদেশ থেকে চালানো হয় বলে নিশ্চিতও হয়েছে তারা। অপর পেইজটি দেশে কে চালাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দুইটি পেইজ বিটিআরসি লিংক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ফেসবুকে দ্রুত লাইভ হওয়ার কারণে সেখানে লোকজন দ্রুত জড়ো হয়েছে বলে ধারণা করছে।  
সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এ ঘটনার জন্য কার কী ভূমিকা ছিল তা দ্রুত খতিয়ে দেখার আদেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন ছাড়াও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছে।  
সূত্র জানায়, কুমিল্লার মণ্ডপে ঘটনার পর থেকেই সারা দেশে সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের প্রত্যেক স্থানে টহল দেয়া হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
পিন্টু দাশ
১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার, ৯:১১

দেখার অপেক্ষায়, কতটা প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠ তদন্ত সম্ভব। কিন্তু হয়ে যায় ভিন্ন। কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে গেলে গর্তের মুখে মাটি দিয়ে আরেকটি নতুন গর্ত খোঁড়া হয়।

Mohammad Hoque
১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার, ৪:২১

কুমিল্লার ওই পূজামণ্ডলের জন্য গঠিত দুটি চাঁদা কমিটির বিরোধ থেকে পবিত্র কোন অবমাননার উৎপত্তি বলে জোর অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তুষ্ট পার্টি অন্য পার্টিকে হেনস্তা ও পূজা ভণ্ডুল করার জন্য ওই স্থানে কোরান রেখে দেয় বলে শুনা যায়। পুলিশ ওই দুই ধান্দাবাজদের ধরে জিজ্ঞাসা করলে আসল ঘটনা জানা যাবে।

অন্যান্য খবর