× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

আসলে কি ঘটছে পাকিস্তানে!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(১ মাস আগে) অক্টোবর ১৮, ২০২১, সোমবার, ১২:১৭ অপরাহ্ন

ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ নিয়ে পাকিস্তানে সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা এখন বাইরে থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভিতরে ভিতরে কি ঘটছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তানে বেসামরিক সরকারগুলোর মেয়াদ পূরণের আগেই সামরিক অভ্যুত্থানের ইতিহাস আছে। তাই অনেকে নানা রকম ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিরোধী দলগুলো এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছে। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীকে নিয়ে মস্করা করছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আবার কেউ বলছেন, সেনাবাহিনী, আইএসআইকে নিজের ‘টাইগার ফোর্স’ বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনের উত্তেজনা নিয়ে প্রকাশ্যে এভাবে মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শুধু তার ৫ বছরের পূর্ণ মেয়াদই শেষ করবেন এমন নয়। পরের মেয়াদেও তিনি সরকার গঠন করবেন। সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর প্রকাশ্য মন্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। একটি দেশে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের এমন বিরোধের বিষয় প্রকাশ্যে আসার ঘটনা বিরল।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়ম নওয়াজ প্রকাশ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন। তারপর অন্যতম শক্তিধর বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রেসিডেন্ট বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি রোববার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কড়া সমালোচনা করেন। করাচিতে এদিন তারা শক্তি প্রদর্শন করছিলেন। সেখানে বিলাওয়াল ভুট্টো অভিযোগ করেন, দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজের দলের ‘টাইগার ফোর্স’ বানানোর চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০০৭ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও তার মা বেনজির ভুট্টোর বাসায় ফেরার সময় গাড়িবহরে বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে করাচির বাগে জান্নাহ’তে পিপিপির র‌্যালিতে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পাঞ্জাব পুলিশ প্রধান, মুখ্য সচিবকে বহুবার পরিবর্তন করেছেন। এ জন্য পার্লামেন্ট, সিনেট, বিচারবিভাগ, নির্বাচন কমিশন, পাঞ্জাব পুলিশ এবং পাঞ্জাবের আমলাতন্ত্রকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন বিলাওয়াল। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী এমন কি আইএসআই’কে তার নিজের টাইগার ফোর্স বানানোর চেষ্টা করছেন। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনার জন্য মানসম্মত কর্মকা- বাস্তবায়নের জন্য সরকার গত বছর গঠন করে করোনা রিলিফ টাইগার ফোর্স (সিআরটিএফ)। আইএসআইয়ের মহাপরিচালক নিয়োগ নিয়ে যখন ব্যাপক গুজব, কানকথা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন এসব মন্তব্য করলেন বিলাওয়াল।

ওদিকে রোববার সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। তিনি এর দু’দিন আগে পরিষ্কার করেন যে, আগামী শুক্রবার আইএসআইয়ের মহাপরিচালক নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হবে। এ বিষয়ে সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব একমত হয়েছেন। তিনি এ সময় এই নিয়োগকে একটি ‘রুটিন ম্যাটার’ বলে আখ্যায়িত করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের (আইএসপিআর) মতে, ৬ই অক্টোবর আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে রদবদল করেন সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। বর্তমান মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট ফয়েজ হামিদকে বদলি করে পেশোয়ার কোরের কমান্ডার বানানো হয়। অন্যদিকে করাচি কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আহমেদ আনজুমকে আইএসআইয়ের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এই ইস্যুটি নিয়ে সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অচলাবস্থা দেখা দেয়। কারণ, আইন ও সংবিধানের নিয়মের বিরুদ্ধে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

আইএসপিআর থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আহমেদ আনজুমকে মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়ার নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়েছে এক সপ্তাহেরও বেশি আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নোটিফিকেশনে স্বাক্ষর বা অনুমোদন দেননি ইমরান খান। এর মধ্যে দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন সেনাপ্রধান বাজওয়া। সরকারের ভিতর থেকেই বলা হয়েছে, তারা আইএসআইয়ের প্রধান নিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কোনো নোটিফিকেশন দেয়া হয়নি। সেনা সূত্রের মতে, করাচি কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আহমেদ আনজুমকে আইএসআইয়ের নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেনাপ্রধান বাজওয়া। কিন্তু এ বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে চান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ।

জাতীয় পরিষদে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)-এর চিফ হুইপ আমির ডোগার গত মঙ্গলবার মিডিয়ার কাছে বলেছেন, প্রতিবেশী আফগানিস্তানের পরিস্থিতি জটিল। তাই আরো কিছু সময় লেফটেন্যান্ট ফয়েজ হামিদকে তার পদে রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এ বিষয়ে নিয়োগে সুনির্দিষ্ট আইন আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে পিটিআইয়ের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, আমি আইন বা সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। তবে প্রশ্ন হওয়া উচিত প্রধানমন্ত্রী আইএসআইয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও সংবিধানের বাইরে যাচ্ছেন কি? তিনি আরো বলেন, সরকারের শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। এটাই আইন। তিনি আরো বলেন, বৃটেনের তো লিখিত সংবিধান নেই। এর অর্থ হলো প্রধানমন্ত্রী যেসব নোটিফিকেশনে স্বাক্ষর করবেন, সেটাই আইন। অবশ্য যদি সুপ্রিম কোর্ট সেটাকে বেআইনি ঘোষণা না করেন।

প্রধানমন্ত্রীর যদি কর্তৃত্বই থাকে তাহলে আইএসআইয়ের মহাপরিচালক নিয়োগের ঘোষণা দিতে কেন এত বিলম্ব হচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে পিটিআইয়ের ওই নেতা বলেন, এটাকে বিলম্ব বলবো কিভাবে? এই নিয়োগ নিয়ে কি কোনো ডেডলাইন বা সময়সীমা আছে?

ওদিকে পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানের কিংবদন্তি প্রয়াত ড. আবদুল কাদের খানের মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। এরপর রোববার তিনি বলেছেন, বিরোধী দলগুলো গত বছর ডিসেম্বর থেকেই বলে আসছে, পিটিআই সরকার ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছে। তাই সরকারের বিষয়ে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি পরিষ্কার হওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য ভাল যে, এমন অকার্যকর বিরোধী দল পেয়েছেন। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। তিনি পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকবেন। এমনকি পরের মেয়াদেও তিনি সরকার গঠন করবেন।
(অনলাইন ডন অবলম্বনে)

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর