× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার , ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

‘বিচারহীনতা, পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে বারবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক
(১ মাস আগে) অক্টোবর ২৩, ২০২১, শনিবার, ৪:৪২ অপরাহ্ন

বিচারহীনতা, পরস্পরের ওপর দোষারোপ ও পক্ষপাতমূলক আচরণের সংস্কৃতির কারণে দেশে বারবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে সুজনের সম্পাদক বলেন, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় যে অন্যায়, অবিচার হয়েছে তার বিচার হয়নি। শুধু তাই নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়-অসংগতি হয়, তার বিচার হয় না। আবার আমরা দেখি, একটা ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রাজনীতিবিদেরা একে অপরকে দোষারোপ করেন। আমাদের প্রশাসন ও সরকার সমর্থক কিছু কিছু নেতা হামলার ঘটনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।

বদিউল আলম বলেন, গত কয়েক দিনে দেশে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেখানে আমাদের তরুণেরা সামনে ছিল। তারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে বোঝা যায়, আমাদের তরুণেরা উচ্ছন্নে যাওয়া শুরু করেছে।
তরুণদের সঠিক পথে আনতে আজ আমাদের জাতীয় কর্মসূচি দেয়া দরকার, যাতে তারা এসব অন্যায় অপকর্ম থেকে দূরে থাকে। তিনি বলেন, এই যে অপসংস্কৃতি ও অপকর্ম শুরু হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের সবার অবস্থান নেয়া দরকার। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে আমাদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি করা দরকার। সমাজ ও আন্তধর্মে সম্প্রীতি সৃষ্টি করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

মানববন্ধনে সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দোষী ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সুজন, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক ও ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার এই মানবন্ধনের আয়োজন করে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২৩ অক্টোবর ২০২১, শনিবার, ৪:০৭

আমাদের তরুণদের বিপথগামীতা ও উচ্ছনে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষা ক্যারিকুলামে ধর্ম গ্রন্থের পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ আজকের প্রথম আলোর মতামত বিভাগে 'ধর্মীয় সহিংসতা রোধে নতুন শিক্ষাক্রম যে ভূমিকা রাখতে পারে' শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন। তাঁর লেখাটি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লেখাটির পরিশিষ্টে আমি কুরআন ও হাদিসের কয়েকটি উদ্ধৃতি সংযুক্ত করেছি। তাতে তাঁর মতামতের যৌক্তিকতা ও আবশ্যকতার গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। নিম্নে তাঁর লেখাটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশঃ২৩ অক্টোবর ২০২১, দৈনিক প্রথম আলো। 'সমাজে একদিকে নৈতিক অবক্ষয় যেমন ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, ধর্ষণ, বেহায়াপনাসহ ধর্মীয় নীতির পরিপন্থী নানা অন্যায় কাজের ছড়াছড়ি, অন্যদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় সহিংসতার ব্যাপক উত্থান লক্ষণীয়। এর কোনোটাই কোনো ধর্মের মূলনীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। সভ্য সমাজের সঙ্গে তো নয়–ই। আর যে বাঙালির রয়েছে হাজার বছরের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির ইতিহাস, তাদের জন্য তো একেবারেই বেমানান। তাহলে কেন মানুষের এ দ্বিমুখী আচরণ, তা নিয়ে বিস্তারিত বিচার-বিশ্লেষণ ও গবেষণার অবকাশ রয়েছে। এর পেছনে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি কিংবা ষড়যন্ত্র, যা–ই থাকুক না কেন, ধর্মীয় মূলনীতির কেউ সঠিক অনুশীলন করলে তার পক্ষে নিশ্চয়ই অন্য ধর্মের উপাসনালয় কিংবা পূজনীয় বস্তু ভাঙচুর তো দূরের কথা, অন্য ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে সামান্য আঘাত দেওয়াও সম্ভব নয়। মানুষের সঙ্গে সদাচরণকেই ইসলামে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হিংসা-বিদ্বেষ, রেষারেষি, পরনিন্দা, পরচর্চা, পরশ্রীকাতরতা, কুৎসা রটানো এবং সহিংসতা ছড়ানো ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অন্য ধর্মেও এগুলোর কোনো সমর্থন নেই। এগুলোর সবই মানুষের হক নষ্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আর ইসলামে মানুষের হক পালনের ওপরও সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ কোনো ব্যক্তির হক নষ্ট করলে ওই ব্যক্তির জীবদ্দশায় তার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়াই বিধান, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে ইসলামের। কারোর ধর্মীয় বিধিবিধান পালনে ঘাটতি থাকলে আল্লাহ হয়তো তাকে নিজ গুনে মাফ করে দিতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহর হক নষ্ট করলে আল্লাহ চাইলে কাউকে মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের হক নষ্ট করলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের মূলনীতি এটিই বলে। দেখা যায় আমরা অনেকেই একদিকে ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করছি, আবার অন্যদিকে অহরহ মানুষের হক নষ্ট করছি। আমরা অনেকে হয়তো মনে করছি, মন্দ কাজের পাপের তুলনায় ভালো কাজের পুণ্যের পাল্লা ভারী হলেই পার পাওয়া যাবে। কিন্তু বিষয়টা মোটেও তা নয়। মানুষের হক নষ্টের যে পাপ, তা ধর্মীয় আচার পালনের পুণ্যের সঙ্গে তুলনীয় নয়। বরং পুণ্যের ঘাটতি থাকলে যাদের হক নষ্ট করা হয়েছে, তাদের পাপ হক নষ্টকারীর ওপর বর্তাবে। ফলে অনেক ব্যক্তি যারা আল্লাহর হক ঠিকঠাক মতো পালন করেছে কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করেছে, তাদের ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিশ্বাসের ধারক কোনো ব্যক্তি অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপাসনালয় ও পূজনীয় বস্তু ভাঙচুর এবং ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা তো দূরের কথা, কারও কোনো প্রকার ক্ষতি করার চিন্তাও মাথায় আনতে পারে না। ইসলাম আরও বলে, প্রত্যেক মানুষের চেষ্টার ধরনের ওপর তার জন্য নির্ধারিত রিজিক নির্ভর করে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি বৈধ উপায়ে তার রিজিকের চেষ্টা করে, তাহলে তার জন্য নির্ধারিত রিজিক বৈধ পন্থায় আসবে। আর কেউ যদি অন্যায় পন্থা বেছে নেয়, তাহলে তার জন্য নির্ধারিত রিজিক অন্যায়ভাবে আসবে। দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি কিংবা ষড়যন্ত্র, যা–ই থাকুক না কেন, ধর্মীয় মূলনীতির কেউ সঠিক অনুশীলন করলে তার পক্ষে নিশ্চয়ই অন্য ধর্মের উপাসনালয় কিংবা পূজনীয় বস্তু ভাঙচুর তো দূরের কথা, অন্য ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতে সামান্য আঘাত দেওয়াও সম্ভব নয়। ইসলামের এ দুই নীতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অন্যায় পন্থায় অর্থ উপার্জন মানে মানুষের হক নষ্ট করা। আর মানুষের হক নষ্ট করলে আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন না। ফলে পারলৈকিক মুক্তির জন্য শুধু ধর্মীয় আচার পালনই যথেষ্ট নয়। ধর্মীয় বিধিবিধান সঠিকভাবে অনুশীলনের সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের হক পালনের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। একটু ভাবুন তো, আমরা যারা রাষ্ট্রীয় কাজে ফাঁকি দিচ্ছি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করছি তারা কি দেশের ১৮ কোটি মানুষের হক নষ্ট করছি না? আর কারোর জীবদ্দশায় ১৮ কোটি মানুষের নিকট ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়া সম্ভব নয়। আর চাইলেও তা মাফ পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায়? তাই যদি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ এ দুই নীতির চর্চা করা যেত, তাহলে সমাজে অন্যায়-অবিচার, প্রতারণা, খুন-খারাবি, ধর্ষণ, উগ্রবাদ এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহিংসতা বহুলাংশে কমানো যেত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মুসলিম এ দুটি নীতি সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত নয়। কেননা, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের এ নীতিগুলো শেখানো হয় না। স্কুলের ধর্মীয় বিষয়ের কারিকুলামে এসব নীতির কোনো স্থান নেই। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক পঠনের ভিড়ে এসব নীতি শিক্ষার ওপর অনেক ক্ষেত্রেই জোর নেই। আর ওয়াজ-নসিহতেও এ দুটি বিষয়ের ওপর তেমন জোর দেওয়া হয় না। আবার পারিবারিক শিক্ষায়ও এর কোনো স্থান নেই। এক কথায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় প্রচার-প্রচারণায় এসব নীতির অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। উল্লেখ্য, প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে শুদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে অশুদ্ধ ধর্মীয় রীতি-নীতি শেখে, যা থেকে উগ্রবাদ এবং সহিংসতা জন্ম নেয়। তাই ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সহিংসতা রোধে প্রশাসনিক কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় মূলনীতির শিখন ও তা অনুশীলনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই কেবল এ ধরনের সহিংসতা বন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থা হবে। দেশে নতুন শিক্ষাক্রমের ধর্মীয় কিংবা নৈতিক বিষয়ের কারিকুলামে অন্যান্য মৌলিক নীতির সঙ্গে এ দুটি মৌলিক নীতি অন্তর্ভুক্ত করে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে আশা করা যায়, ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ধর্মীয় সহিংসতা অনেকাংশে কমানো যাবে। তাই আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্কুলের শিক্ষাক্রমে ধর্মের এ দুটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্তকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বদের সহায়তা ও পরামর্শ নিতে পারেন তারা।' কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি সংযুক্ত করা হলোঃ অন্যের ধন সম্পদ অন্যায় ভাবে ভক্ষণ করতে আল্লাহ তায়ালা সরাসরি নিষেধ করেছেন এবং হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন এই বলে যে, অন্যায় ভাবে যদি কারো সম্পদ কেউ ভক্ষণ তাহলে তাকে 'আগুনে' নিক্ষেপ করা হবে। ইরশাদ হচ্ছে, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ে ফেলো না। লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক রেজামন্দির ভিত্তিতে। আর নিজেকে হত্যা করো না। নিশ্চিত জানো, আল্লাহ‌ তোমাদের প্রতি মেহেরবান। যে ব্যক্তি জুলুম ও অন্যায় বাড়াবাড়ি করে এমনটি করবে তাকে আমি অবশ্যি আগুনে নিক্ষেপ করবো। আর আল্লাহর জন্য এটা কোনো কঠিন কাজ নয়।' সূরা আন-নিসা, আয়াতঃ২৯-৩০। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে অনেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও আত্মসাৎ করে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে খেয়ো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোন উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।' সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াতঃ১৮৮। ইসলামের বিধান অনুসারে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।' -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩। এতে প্রমাণিত হয় ইসলাম বিশেষ কোনো সম্প্রদায়ের জন্য নয় বরং ইসলাম একটি বিশ্বজননী মতবাদ। বিশ্বের সাদা-কালো সকল শ্রেণি পেশার মানুষের জন্যই ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসারীদের গালাগাল করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে।' সূরা আনআম, আয়াতঃ১০৮। অন্য ধর্মের অনুসারীদের দেবদেবীকে গালি দেওয়া যেখানে নিষিদ্ধ সেখানে তাদের মন্দির, গীর্জা ও প্রতিমা ভাংচুর এবং পূজামণ্ডপে ও বাড়ি ঘরে হামলা লুটতরাজ বৈধতা পেতে পারেনা বরং তা মস্ত বড়ো গুনাহের কাজ। যারা ইসলাম ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক বলে গালি দেয় তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বানীটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে কিংবা তাদের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব।' –সুনানে আবু দাউদঃ৩০৫২। তাঁর এই হাদিসখানা থেকেই প্রমাণিত হয় তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেননা এবং মুসলমানদের সেই শিক্ষা দেননি। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।' সহিহ আল বোখারিঃ৩১৬৬। অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।' সুনানে নাসাঈঃ৪৭৪৭। একবার রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর পাশ দিয়ে একজন ইহুদির লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। সেই মুহূর্তে তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁর সঙ্গী সাহাবী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুমগণ বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তো ইহুদির লাশ। নবীজি স. তখন তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘আলাইসাত নাফসা? অর্থাৎ, সেকি মানুষ নয়?’ বোখারি : ১৩১২। এই হলো মানুষের নেতা! মানবতার নেতা! তাঁর আগে পরে বিশ্ব কাঁপানো কতো দিগবিজয়ী নেতা আমরা দেখতে পেলাম। কিন্তু, তাঁর মতো এতো মানবিক, এতো দরদী, এতো সহমর্মি ও সহিষ্ণু নেতা একজনও দেখিনি। সুতরাং, তাঁর মহান শিক্ষা স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হলে একটি মানবিক, সহনশীল, সহমর্মি, সহিষ্ণু ও পারষ্পরিক আন্তঃসম্পর্কীয় শ্রদ্ধাশীল জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে নিঃসন্দেহে।

অন্যান্য খবর