× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২১, শনিবার , ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সরাইলের ৯ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত রয়েছেন ১২ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও

বাংলারজমিন

মাহবুব খান বাবুল, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে
২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। গত সোমবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভায় দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সরাইলের ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বাকি ৬টিতে নতুনদের দেয়া হয়েছে দলীয় মনোনয়ন।  এরমধ্যে রয়েছে ২টি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ও তদন্তাধীন একটি অপহরণ মামলাসহ ১ ডজন মামলার আসামিও। তবে বিদ্রোহীর অভিযোগে তৃণমূলের মতামত না নিয়েই বাদ দিয়েছেন আওয়ামীপন্থি জনপ্রিয় ২ বর্তমান চেয়ারম্যানকে। এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে অযোগ্য প্রার্থীদের নাম প্রেরণ করার অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে তৃণমূলে। ধাওয়ার কবলে পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাকে।  উপজেলা ও জেলাকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। করেছেন সংবাদ সম্মেলনও। দলীয় সূত্র জানায়, সরাইলে প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনয়ন  পেতে প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে নেয়া হয় ১৫ হাজার ১শ’ টাকা।
৫৬ জন প্রার্থীর কাছ থেকে আদায় করেন ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬শ’ টাকা। গত ১৭ই অক্টোবর তৃণমূলের সমর্থনের নামে উপজেলা সদরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটায়। সকাল ১১টায় আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আল-মামুন সরকার। শুরু হয় ভোটের আগে আরেক ভোট। এখানেও বিশাল কারিশমা দেখায় সরাইল আওয়ামী লীগ। সুবিধা বুঝে ইউনিয়নগুলোতে ৩/৪/৫টি করে ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক ঘোষণা আসতে থাকে। আবার ভোটের বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার অনুরোধও করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে। শাহজাদাপুর ইউনিয়নে নেয়া হয়নি কোনো ভোট। মনগড়া মতো জেলার সহায়তায় তালিকা প্রেরণ করেন কেন্দ্রে। গত সোমবার মনোনয়ন বোর্ডের মুলতবি সভায় ৯ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের টিকিট পেলেন যারা- অরূয়াইল ইউনিয়নে ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, পাকশিমুল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, চুণ্টা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মো. হাবিবুর রহমান, পানিশ্বর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম, কালিকচ্ছ ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুসা মৃধার স্ত্রী রোকেয়া বেগম, সরাইল সদর ইউনিয়নে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামজসেবক মো. সেলিম খন্দকার, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে ইউপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক-৩ শফিকুল ইসলাম, শাহবাজপুরে ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল হুদা চৌধুরী ও শাহাজাদাপুরে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাম্মৎ আসমা বেগম। তবে তৃণমূলের ভোটের আগেই বাতিল ঘোষণা করেছেন সরাইল সদর ইউনিয়নের টানা তিনবারের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার ও শাহজাদাপুর ইউনিয়নের টানা দুইবারের চেয়ারম্যান (উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য) রফিকুল ইসলাম খোকনকে। নৌকার টিকিট পাওয়া অরূয়াইলের শফিকুলের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা ও মারামারির অভিযোগে অর্ধডজনেরও অধিক মামলা। ২টি হত্যাসহ ৮টি মামলার চার্জশিটও হয়ে গেছে। বর্তমানে তদন্তাধীন একটি অপহরণ মামলার আসামিও শফিক। এ ছাড়াও এখানে নৌকা পাওয়া অধিকাংশ প্রার্থীকে অযোগ্য ও দুর্বল বলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার প্রার্থী সিলেকশনে অনিয়ম ও অযোগ্য প্রার্থী দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা। তবে আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এডভোকেট নাজমুল হোসেন বলেন, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রার্থী সিলেকশনে কোনো অনিয়ম হয়নি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমরা জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রে তালিকা পাঠিয়েছি। সেখানে বোর্ড সভা করে মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত করেছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর