× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিঃ

রাহেল আসেননি সিলেট ছাত্রলীগের প্রথম শোডাউন

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২৮ অক্টোবর ২০২১, বৃহস্পতিবার

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানও বেঁকে আছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা এখনো সমঝে নেয়নি ছাত্রলীগের দুই কমিটিকে। এখনো ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ সিনিয়র নেতারা। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয়
ছাত্রলীগের নির্দেশে কমিটি গঠনের প্রায় ১৫ দিন পর গতকাল সিলেটে মিছিল ও শোডাউন করেছে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। দোটানায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজও। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের বলয় হয়েই তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। কিন্তু ওই বলয়ের নেতারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও রাহেল সিরাজের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কপাল পুড়েছে জাওয়াদ খানের।
এরপর থেকে তেলীহাওর ও চৌহাট্টা বলয়ের নেতারা কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। নিজ বলয় থেকে পরবাসী এখন রাহেল সিরাজ। মনেপ্রাণে চাচ্ছেন বলয়ে ফিরতে। কিন্তু জায়গা পাচ্ছেন না। আবার অন্য কোথাও তিনি দৌড়াচ্ছেন না। আপাতত জেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি নাজমুল ইসলামের সঙ্গেই রয়েছেন। নিজ বলয়ের শীর্ষ নেতাদের মান ভাঙাতে চেষ্টা করছেন। তার অবিরাম চেষ্টার কোনো ফলাফল এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তবে- বলয় নেতা নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও অনুমতি না পাওয়ায় গতকাল চমক দেখালেন রাহেল সিরাজ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আহ্বানে শোডাউনে জেলার সাধারণ সম্পাদক হয়েও অংশ নেননি। রাহেল সিরাজের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- নাসির উদ্দিন খানের হয়েই সিলেটে রাজনীতি করতে চান রাহেল সিরাজ। এ কারণে তিনি নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকবেন। এক্ষেত্রে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন সভাপতি নাজমুল বলয়ের শীর্ষ নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রণজিৎ সরকার। সঙ্গে রয়েছেন কাস্মির গ্রুপের শীর্ষ নেতা ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহাও। তারাও এই মূহূর্তে রাহেল সিরাজকে নিয়ে বিব্রত। ফলে নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গে রাহেল সিরাজের দূরত্ব কমাতে তারা আড়াল থেকে সব চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছেন। এই প্রক্রিয়ায় এসে আপাতত অংশ নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। ফলে গতকাল সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের যৌথ শোডাউনে রাহেল সিরাজ উপস্থিত ছিলেন না। আর এই উপস্থিত না হওয়ায় তার নিজ বলয়ে মান- অভিমানের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। তবে- শেষ কথা হচ্ছে- এখনো রাহেল সিরাজকে সমঝে নেননি নাসির উদ্দিন খান। নিজে যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এ কারণে তিনি সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে যাচ্ছেন না। কারণ- এখনো সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে সমঝে নিচ্ছেন না। নেতারা জানিয়েছেন- অতীতে যখন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে তখন ওই সময়ের আওয়ামী লীগের পদবিধারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং মতামত নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পদবিধারী কোনো নেতার মতামত না নিয়েই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য এখনো সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এমনকি তাদের কর্মসূচিতেও ছাত্রলীগের পদবিধারী চার নেতাকে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে সিলেটে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বিরোধী কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে ছাত্রলীগ ছাড়া সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মরা উপস্থিত ছিল। ছাত্রলীগের চার নেতা ওইদিন সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করেছেন। ছাত্রলীগের শোডাউনকে ঘিরে গতকাল উত্তেজনা বিরাজ করছিল সিলেটে। এ কারণে বিশেষ করে বঞ্চিত নেতাদের নির্ধারিত এলাকায় সকাল থেকে পুলিশের কড়া নজরদারি ছিল। দুপুরের পর ওইসব এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে- বঞ্চিত নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- কমিটির নেতাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের এই শোডাউনের পাল্টা শোডাউন দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। আজ-কালের মধ্যে তারাও বঞ্চিত ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে নগরীতে শোডাউন দেবেন। আর শোডাউন থেকে তারা আবারো কমিটির প্রতি অনাস্থা জানাবেন। একই সঙ্গে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি গঠনের জোরালো দাবি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা। এদিকে- দুপুরে নগরীর রেজিস্ট্রার মাঠ থেকে প্রথমবারের আনুষ্ঠানিক শোডাউন বের করে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, মহানগর সভাপতি কিশোয়ার জাহান সৌরভ ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলামের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়। সাম্প্রদায়িক ও অগ্নি সন্ত্রাসের প্রতিবাদে এ মিছিল বের করা হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতারা। এতে হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। সিলেট জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা ছাড়াও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা এসে এসে অংশ নেন। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিন করে এসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ করে। এতে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের তিন নেতা বক্তব্য রাখেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর