× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার , ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

সড়কে আর কতো স্বপ্নের মৃত্যু

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৫ নভেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার
সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৮ অপরাহ্ন

নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের (১৭) ক্লাস শেষে মায়ের কাছে ফেরা হলো না। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় গুলিস্তান হল মার্কেটের মোড় ঘুরতেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ময়লার গাড়ির চাপায় মৃত্যু হয় এই শিক্ষার্থীর। গাড়িটি প্রথমে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে মূল সড়কে পড়ে যান নাঈম। চালক একটু থামিয়ে পরবর্তীতে তার দু’পায়ের উপর দিয়ে গাড়িটি চালিয়ে চলে যায়। এতে নাঈমের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চাপা দেয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় কিছু সময় রাস্তায় পড়ে ছিলেন নাঈম।
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান একটি সিএনজিতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুপুর সোয়া ১২টায় দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় নাঈমের গায়ে নটরডেম কলেজের পোশাক ছিল। তার ব্যাগে থাকা জাতীয় জন্মনিবন্ধন সনদ থেকে নাম-পরিচয় জানা যায়।
ছেলের মৃত্যুর সংবাদে হাসপাতালে ছুটে আসেন নাঈমের বই ব্যবসায়ী বাবা ও ভাই। কান্নায় ভেঙে পড়েন নাঈমের বাবা শাহ আলম। তিনি বলেন, আমি কেন ছেলেকে কলেজে যেতে বিদায় দিলাম। আমার থেকে বিদায় নিয়ে এলো কলেজে যাবে বলে। কিন্তু সে তো এখন চিরবিদায় নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেল?। নাঈমের মা ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলে তাকেও আর বাঁচানো যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন নাইমের মা জান্নাতুল ফেরদৌস।
নাঈমের বড় ভাই বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছোট। আদরের। নীলক্ষেতে তাদের নিজস্ব বইয়ের দোকান রয়েছে। শিক্ষার্থী হিসেবে নাঈম ছিল যথেষ্ট মেধাবী। পড়ালেখা শেষে বড় সরকারি কর্মকর্তা হবে এমনটিই স্বপ্ন দেখতো তার পরিবার। সব স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।
নাঈমের ভাই বলেন, আমি বয়সে ওর থেকে বড় হলেও নাঈম ছিল আমার বন্ধুর মতো। ওর সকল ব্যক্তিগত বিষয়, আবদার আমার সঙ্গে আলোচনা করতো। মা অসুস্থ। কোনো বোন না থাকায় নাঈম মা’কে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতো। ও ছিল একটু চঞ্চল প্রকৃতির। নাঈমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব কাজিরখিল দেওয়ানবাড়ী গ্রামে। বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর ২৪৪ ঝাউলাহাটি চৌরাস্তায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
এদিকে নাঈমকে চাপা দেয়া গাড়ির চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তার পরিবার। নাঈমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী নোমান মানবজমিনকে বলেন, ক্লাস শেষে কলেজ থেকে গুলিস্তান পাতাল মার্কেটের উপরের সড়ক দিয়ে গুলিস্তানের গোলাপশাহ্‌ মাজারমুখী গোলচত্বরের ওপর দাঁড়ানো ছিল নাঈম। ট্রাফিক জ্যাম ছাড়ার পর ময়লার গাড়িটি গোলচত্বর ঘেঁষে অনেক দ্রুতগতিতে চলে যায়। এ সময় গাড়ির লুকিং গ্লাসের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়কে পড়ে যান নাঈম।
এতে তার মাথা থেকে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কাছাকাছি থাকা লোকজন বলছিলেন গাড়ির নিচে লোক আছে, গাড়ি থামান। গাড়িটি দুই সেকেন্ডের মতো থামিয়ে পথচারীদের ভিড় দেখে দ্রুত টান দিয়ে নাঈমের দু’পায়ের উপর দিয়ে চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চালক। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গাড়ি এবং চালককে আটক করা হয়। তিনি বলেন, চাপা দেয়ার পর প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওভাবেই রাস্তায় পড়েছিল। কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। পরবর্তীতে একটি সিএনজিতে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে ওই গাড়িতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যাওয়ার পথে ওর বুক তখনও নড়ছিল। এর কিছুক্ষণ পরই গাড়িতে সে মারা যায়। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে দুপুর সোয়া ১২টায় চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দুপুরে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষী চালকের ফাঁসি দাবি করেন। বিক্ষোভে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লা বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএসসিসি। গতকাল দুপুরের দিকে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের মানবজমিনকে বলেন, ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সিতওয়াত নাঈমকে কমিটির প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস (উপ-সচিব) ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিছুর রহমান।
কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধি হচ্ছে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটলো, তার বিস্তারিত তুলে ধরা এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ পেশ করা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালক দোষী প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়ার ঘটনায় ডিএসসিসির এই গাড়িচালক রাসেল খানকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ময়লার ওই গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর