× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার , ১১ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি- এফবিসিসিআই

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২৬ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, এখনো চলমান করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। তাই এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বলেন, বিশ্ব বাজারে বর্তমানে তেলের দাম কমেছে দেশেও দাম কমানো উচিত। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ডলারের মতো বিশ্ব বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে দাম কমানো-বাড়ানো প্রয়োজন। তা না হলে ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গতকাল এফবিবিসিআই’র নিজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এফবিবিসিআই’র নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন বলেন, তেলের দাম কম থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীরা যেসব কাজ হাতে নিয়েছেন, তার খরচ এখন বেড়ে যাবে।
এতে সমস্যায় পড়তে হবে তাদের। তিনি তেলের দাম ডলারের সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমবে বাংলাদেশেও কমবে। আর যখন বাড়বে তখন বাংলাদেশেও বাড়বে। কিন্তু একসঙ্গে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, আমাদের এখানে কোনো জিনিসের দাম একবার বাড়লে আর কমানো হয় না। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে। হয়তো সামনে আরও কমবে। বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম কমানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ এখন সময়ের দাবি। আগে আমরা শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত ছিলাম। এখন আমরা লেদার, জাহাজ, সিরামিকসসহ অন্যান্য পণ্যও রপ্তানি করছি। এই বাজার আরও বাড়াতে হবে। না হলে আগামীর বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদেশি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে তাদের মার্কেট মনে করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। আমাদের এখানে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে আমাদের কোনো ইকোনমিক জোন ছিল না, হাইটেক পার্ক ছিল না। বিনিয়োগের জন?্য বিদেশি ব?্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানাতে পারতাম না। কিন্তু এখন আমাদের ১০১টি ইকোনমিক জোন তৈরি হচ্ছে। ইপিজেড রয়েছে ৮টি। আমরা বিদেশিদের এখন আমন্ত্রণ জানাতে পারছি তারা গ্রহণও করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে আমরা ৬টি বাণিজ্য চুক্তি করেছি। ইউকে মার্কেট ও ফ্রান্স মার্কেটে আগামীতে আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়বে। এছাড়া আমরা বিদেশে অবস্থানরত দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের আমাদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছি। তারাই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রথম প্রজন্ম কষ্ট করেছে। তারা ছোট ছোট কাজ করেছে। তবে এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম সেখানে আর ছোট কাজ করে না। তারা বড় বড় ব?্যবসা করছে, চাকরি করছে। তবে তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন একটা জানে না। আমরা তাদের টার্গেট নিয়েছি। তাদের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করাবো। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি বাড়াবো।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। ফলে আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একটি হচ্ছে এফডিএ অন্যটি মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে ব্যবসায় পরিধি বাড়াতে হবে। বতর্মানে আমাদের রপ্তানি হয় ৫৫-৬০ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঝুঁকি মোকাবিলা করতে আমাদের এটাকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএপি সুবিধা পাবে বলেও মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর যদি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা পাই, তবে আমরা বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।
জিএসপি সুবিধা শেষ হলেও বাংলাদেশে তেমন প্রভাব পড়বে না দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছি না। তাই বলে আমাদের রপ্তানি থেমে নেই। করোনাকালীন সময়েও দেশটিতে আমাদের আয় বেড়েছে। এটা থেকে প্রমাণিত হয় আমরা সামনে কিছু সুযোগ সুবিধা হারালেও দেশের অর্থনীতিতে এর তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার প্রভাবে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে। আমাদের ব্যবসা ঝুঁকির মধ্যে আছে। ৯৯ শতাংশ ব্যবসায়ীই লোন নিয়ে তা পরিশোধ করার মনোভাব রাখেন। এক শতাংশ ব্যবসায়ী আছেন, যারা বিভিন্ন প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতিবৃন্দ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর