× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার , ৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

আবারো ভূমিকম্প, উচ্চ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
২৮ নভেম্বর ২০২১, রবিবার

একদিনের ব্যবধানে ভূমিকম্পে আবারো কেঁপে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। শনিবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.২। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের ওয়্যারলেস সুপারভাইজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে। শুক্রবার ভোরে ৬ দশমিক ১ মাত্রার যে ভূমিকম্পে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপেছিল, আজকের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ওই একই এলাকার কাছাকাছি। জানা যায়, শুক্রবার ভোরে ৬.১ মাত্রায় ভূমিকম্পে অন্য কোনো জেলায় দৃশ্যত ক্ষয়ক্ষতি না হলেও চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার, হালিশহর ও বহদ্দারহাটের তিনটি ভবন হেলে পড়ে। এরমধ্যে চকবাজারের হালিমা ভবন নামে বিল্ডিংটি এর আগেই একটু হেলে ছিল।
শুক্রবারের ভূমিকম্পে সেটির প্রথম তিন ফ্লোর পুরোটা পাশের আরেকটা বিল্ডিংয়ে হেলে যায়। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা হেলে পড়া ভবন তিনটি পরিদর্শন করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি এগুলো খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা এই ভবন তিনটির বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেছি। আর এই বিল্ডিংগুলোর বিষয়ে আমরা আবারো বসবো। তখন এদের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ এদিকে চট্টগ্রামের অধিকাংশ ভবনই ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় এখানে বড় ধরনের বিপদের আশংকা করছেন তারা।  গত অক্টোবর মাসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) পরিচালিত ‘আর্থকোয়াক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ সেন্টার’ (ইইআরসি)-এর গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, চট্টগ্রাম শহরের এক লাখ ৮২ হাজার ভবনের মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজারই ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে রয়েছে। শতকরা হিসেবে যেটি মোট ভবনের ৭৮ ভাগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল ভবন এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো। ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে যেকোনো সময় এসব ভবনগুলো ধসে দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এদিকে কয়েকটি গবেষণায় চট্টগ্রামকে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বলা হলেও এটা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই এখানকার প্রধান দুইটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) । এমনকি এখানকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে তাদের দৃশ্যত কোনো তৎপরতা নেই। বরং সংস্থা দুইটি একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় সারছে। সিডিএ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা দেয়ার পরও তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেন না চসিক। আর চসিকের দাবি, ৩ বছর আগে তারা সিডিএ থেকে একটি তালিকা পেয়েছিল মাত্র। সংস্থাটি হালনাগাদ করে আর কোনো তালিকা পাঠায়নি। জানা যায়, শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। আর তাদের তালিকা অনুযায়ী অপসারণ করবেন সিটি করপোরেশন। তবে ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ৫ বছরব্যাপী চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় করা একটি তালিকা দিয়েই দায় সেরেছেন সিডিএ। আর এই তালিকা থেকে মাত্র ৩টি ভবন অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চলতি বছরের ১১ই এপ্রিল নগরের ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের গোয়াল পাড়ায় হেলে পড়া পাঁচ তলা ভবন পরিদর্শনে গিয়ে চসিক মেয়র ভবনটি অপসারণ করা হবে বলে জানান। কিন্তু সাত মাস পার হলেও এখনো সেই কাজে হাত লাগাতে পারেনি নগরবাসীর যাবতীয় ভালোমন্দ দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা চসিক।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর