× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার , ১১ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

গোয়ালন্দে চোর সন্দেহে যুবককে আটকে নির্যাতন

বাংলারজমিন

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
২৯ নভেম্বর ২০২১, সোমবার

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অটোবাইক চোর সন্দেহে রাসেল শেখ (২১) নামে এক যুবককে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বাড়িতে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় অভিযোগ করায় অভিযুক্তরা ওই যুবকের বাড়িতেও হামলা করে তার পরিবারের সদস্যদেরও মারপিট করে। নির্যাতনের শিকার যুবক রাসেল একজন রিকশা চালক। সে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৬নং ওয়ার্ড জলিল শেখের পাড়ার নজরুল শেখের ছেলে। এ ব্যাপারে গোয়ালন্দঘাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া জলিল শেখের পাড়ার মুঞ্জু শেখের একটি অটোবাইক চুরি হয়। ওই অটোবাইক চুরির জন্য রাসেলকে চোর সন্দেহ করে তার বিরুদ্ধে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পেয়ে দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গত শনিবার তার কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। ওই সালিশ বিচার চলাকালীন এক পর্যায় গোলযোগ সৃষ্টি হলে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল শালিশ বৈঠক মুলতবি করেন।
এরপর একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার ওসমান কাজীর বাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ রাসেলকে আটকে রেখে মারপিট করা হয়। রাসেলের পরিবার ঘটনা জানতে পেরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাত ৯টায় ওসমান মেম্বারের তালাবদ্ধ ঘর থেকে রাসেলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় পুলিশ উচমান মেম্বারের ভাই মোকবুলকে আটক করতে সক্ষম হয়। রাসেলকে পুলিশ উদ্ধার করার পর ওসমান মেম্বারের লোকজন রাসেলের বাড়িতে হামলা করে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
এ ব্যাপারে শুক্রবার রাত ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসারত রাসেল জানায়, ঢাকা যাওয়ার সময় ৭/৮জন যুবক তাকে দৌলতদিয়া ৫নং ফেরি ঘাট তাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর প্রথমে তাকে দৌলতদিয়াঘাট তেল পাম্পের দোতলায় নিয়ে বেদম মারপিট করার পর উচমান মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যায়। ওসমান মেম্বরের বাড়িতে তাকে ৬ দিন আটকে রেখে মারপিট করা হয়। পুলিশ তাকে রাত ৯টার দিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান, অটোবাইক চোর সন্দেহে অভিযোগ পেয়ে গত শনিবার দিন সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশ চলাকালীন অবস্থায় এক পর্যায়ে গোলমাল সৃষ্টি হওয়ায় সালিশ মুলতবি করা হলে ওসমান মেম্বার রাসেলক নিয়ে যায়।
গোয়ালন্দঘাট থানা ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, ৯৯৯ নাম্বার ফোনের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়ে ওসমান মেম্বরের বাড়ির তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে রাসেলকে উদ্ধার করা হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে ওসমান ও তার ভাইসহ কয়েকজনকে আসামি করে দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। ওসমান মেম্বারের ভাই মোকবুলকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর