× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ১৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

অন্যায্য বৈষম্যের শিকার /ওমিক্রন: জরুরি ভিত্তিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(২ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২১, সোমবার, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তার দেশ ও প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। এমন পদক্ষেপে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামাফোসা। এ ধরনের আচরণকে তিনি অন্যায় বলে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহার দাবি করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

দক্ষিণ আফ্রিকা এ মাসেই নতুন ও অত্যন্ত ভয়াবহ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করে এবং বুধবার তারা বিষয়টি অবহিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। এরপর সংস্থাটি এই ভ্যারিয়েন্টকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। প্রাথমিক তথ্যে বলা হচ্ছে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টসহ এর আগে যেসব ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে ওমিক্রন তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। দক্ষিণ আফ্রিকায় গত দুই সপ্তাহে যেসব মানুষ নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তার জন্য এই ভ্যারিয়েন্টই দায়ী।
এসব মানুষের বসবাস গুটেং প্রদেশে। তারপর ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির অন্য সব প্রদেশেই।

তাই বলে দ্রুততার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ বিধিনিষেধ দেয়ায় সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা বলেছে, এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তা সত্ত্বেও ওমিক্রন আতঙ্কে কয়েক দিনে বহু বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক মাতশিদিসো মোয়েতি রোববার বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু আফ্রিকাকে টার্গেট করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক সংহতির ওপর এক রকম আঘাত। অন্যদিকে এদিন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেছেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। এতে প্রমাণ হয় যে, অন্যায্য বৈষম্যের শিকারে পরিণত হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনি আরো মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বন্ধে কার্যকর হবে না।

তার মতে, এতে শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিই আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মহামারিতে তাদের করণীয় এবং এ থেকে বেরিয়ে আসার সক্ষমতাকে খাটো করা হবে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা দেয়ায় যে অসমতা আছে তার প্রেক্ষিতে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে জেগে উঠার জরুরি আহ্বান হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। সেই সতর্কতা হলো, যদি সব মানুষকে টিকা দেয়া না হয় তাহলে অবশ্যম্ভাবীভাবে আরো ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই। প্রেসিডেন্ট রামাফোসা তাই সব মানুষকে টিকা নেয়ার আহ্বান জানান। জনগণকে টিকা নিতে আগ্রহী করতে তিনি বলেছেন, এটাই এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সর্বোত্তম উপায়। এর আগে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করা হয়। তাতে বলা হয়, ওমিক্রন আবিষ্কার করার ফলে প্রশংসার পরিবর্তে তার দেশ শাস্তি পাচ্ছে। বর্তমানে বৃটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইলসহ অনেক দেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রোববার আমস্টার্ডামে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে কমপক্ষে ১৩ জনের দেহে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি ফ্লাইটে প্রায় ৬০০ মানুষ নিয়ে নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডামে অবতরণ করে দুটি বিমান। এর যাত্রীদের পরীক্ষা করে কমপক্ষে ১৩ জনের দেহে ওই ভাইরাস পাওয়া যায়।

এ অবস্থায় রোববার মধ্যরাত থেকে ১৪ দিনের জন্য সব বিদেশি ইসরাইলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিজ দেশের নাগরিকরা ফিরলে তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। ওমিক্রন নিয়ে আলোচনা করতে আজ সোমবার জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে বৃটেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর