× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ১৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

আরেক তাজমহল!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(২ মাস আগে) নভেম্বর ২৯, ২০২১, সোমবার, ১২:৫১ অপরাহ্ন

প্রেমের অমর কীর্তি আগ্রার তাজমহল। সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী মমতাজের প্রতি ভালবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ গড়েছেন তাজমহল। তার আগে ভালবাসার এমন নজির কেউ স্থাপন করতে পারেননি। তাই তার তাজমহল বিশ্বের বিস্ময় হয়ে আছে। এমন নজিরের কাছে অন্যরা ভালবাসার কি নিদর্শন গড়বেন! এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা যায় না। তাই ২৭ বছর দাম্পত্যের বন্ধনে আবদ্ধ স্ত্রী মঞ্জুশার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য ওই তাজমহলেরই এক অনুকৃতি গড়েছেন ভারতের আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া (৫৩)। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ভারতের মধ্যাঞ্চলের রাজ্য মধ্যপ্রদেশ। সেখানকার বুরহানপুর শহরে নিজের ভালবাসার প্রাসাদ গড়েছেন আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া।
তবে এটি প্রদর্শনীর জন্য নয়। নিজেরা বসবাস করার জন্য গড়ে তুলেছেন। আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া বলেন, এই বাড়িটি আমার ভালবাসার স্মৃতি। আমার স্ত্রীর জন্য, এই শহরের জন্য এবং জনগণের জন্য এটি আমার উপহার।

সপ্তদশ শতাব্দীতে আগ্রায় সম্রাট শাহজাহান গড়েছিলেন তাজমহল। তার স্ত্রী মমতাজ ১৪তম সন্তান জন্ম দেয়ার সময় মারা যান। তার প্রতি ভালবাসার নিদর্শন তাজমহল। করোনা মহামারির আগে প্রতিদিন গড়ে সেখানে ৭০ হাজার পর্যটক সমবেত হতেন। এর মধ্যে আছেন সেলিব্রেটি এবং নামজাদা ব্যক্তিরাও। এই তাজমহলের আদলে ৫০ একর জায়গায় বিস্তৃত জমিতে ভালবাসার প্রাসাদ গড়ে তুলেছেন আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া। এর চত্বরে আছে একটি হাসপাতালও। বহু মানুষের ঢল নামছে এই বাড়িটি দেখার জন্য।

আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া বলেন, বাড়ির পাশ দিয়ে মানুষ হাঁটে। আর ছবি তোলে। বহু যুগল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে এই বাড়িতে এসে ছবি তুলছেন। আমি তাতে বাধা দিই না। কারণ এই শহরে আমরা সবাই অন্তরঙ্গ সম্প্রদায়। এখানে সবাই সবাইকে চেনেন, জানেন। আমার এই বাড়িটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া আরো বলেন, সব পর্যটকের জন্য বাড়ির ভিতরপানে প্রবেশ অনুমোদিত নয়। কারণ, আমরা এখনো এই বাড়িতে বসবাস করি।
তা সত্ত্বেও পরিবারটি অতিথিদের মাঝে মাঝেই ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়। তারা ভিতরে প্রবেশ করেন। ভিতরে বিলাসবহুল সাজসজ্জা দেখেন। ফুলের সব জটিল সজ্জা রয়েছে ভিতরে। এসব সজ্জা করা হয়েছে মার্বেল দেয়ালে এবং মেঝেতে। আরও আছে অত্যধিক জালিসমৃদ্ধ জানালা।

এই বাড়িটিতে আছে দুটি প্রধান বেডরুম। তা দুটি আলাদা ফ্লোরে। বাড়িটিতে আছে একটি লাইব্রেরি, একটি মেডিটেশন রুম। ড্রয়িংরুমে আছে দৃষ্টিনন্দন সাজের স্তম্ভ। আছে একটি বক্রাকার সিঁড়িপথ। আছে স্বর্ণখচিত সিলিং।
তাজমহল ছিল একেবারেই মন থেকে আসা, অদ্বিতীয় এক ভাবনার ফসল। আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া বলেন, তার তাজমহলের আদলে গড়া বাড়ির ভিতরটা কঠোর ইসলামিক ভাবধারার ডিজাইনের নয়। কিন্তু তাতে আছে সমসাময়িক প্রভাব। যা সোফা এবং পর্দা বাছাইয়ের মধ্যে প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়।

তাজমহলের আদলে এই বাড়িটি নির্মাণ করতে তিন বছর সময় লেগেছে আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়ার। এ সময়ে আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া এবং তার স্ত্রী মঞ্জুশা ঘন ঘন তাজমহল সফর করেছেন। তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। জানার চেষ্টা করেছেন। আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া বলেন, মূল তাজমহলের গঠন জানার জন্য আমরা ইন্টারনেট তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি এর থ্রিডি ছবি পাওয়ার জন্য। আমাদের ধারণা হলো, মূল তাজমহলের আকারের তিন ভাগের এক ভাগ আকারের একটি বাড়ি নির্মাণ করবো আমরা। এ জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেছি।
তাজমহলের আদলে বাড়ি বাড়ানো বা প্রতিকৃতি বানানোর ক্ষেত্রে আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া একাই নন।

এর আগে ভারতের উত্তর প্রদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ২০১৩ সালে একটি প্রতিকৃতি বানান। সেটিও তিনি তার স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশে নির্মাণ করেন। অন্যদিকে আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া যে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন, তা শুধু তার নিজের স্ত্রীর জন্য উৎসর্গ করেননি। তিনি বলেন, বর্তমানে আমার দেশে মানুষে মানুষে প্রচুর হিংসা, ঘৃণা। মানুষ ধর্ম এবং গোত্রে বিভক্ত। কিন্তু আমি এই বাড়িটি আমার স্ত্রী, শহরবাসী এবং জনতার জন্য তৈরি করেছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার ধর্মীয় রেখায় ভারতকে মেরুকরণ করেছেন বলে বিস্তর অভিযোগ। ২০১৭ সালে তাজমহলকে নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। তখন বিজেপির একজন আইনপ্রণেতা এই অমর কীর্তিকে একজন ‘বিশ্বাসঘাতকের’ দ্বারা নির্মিত ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি ‘কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেন। পক্ষান্তরে আনন্দ প্রকাশ চৌকসিয়া তার বাড়িটিকে এমন হতাশার সময়ে ভালবাসা ছড়িয়ে দেয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখাতে চান। তার ভাষায়, এই বাড়িটি হলো আমার ভালবাসার নিদর্শন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর