× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার , ১৩ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

৭শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা / পীরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ আরও ১ জনের মৃত্যু

বাংলারজমিন

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
১ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার

তৃতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাতে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের ৮নং ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ফলাফল প্রকাশ না করে নির্বাচনী মালামাল রেখে প্রিজাইডিং অফিসার সরকারি বণিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন কেন্দ্র থেকে সুকৌশলে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও রেজাউল করিমসহ নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে। এ সময় স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যদের খবর দেয়া হলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল করিম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মারমুখী জনতা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল করিমের নির্দেশে দায়িত্বরত বিজিবি’র নায়েক সুবেদার আজাহার আলীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বিজিবি জোয়ানরা উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করে। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলে ৩ জন মারা যান। পরে গুলিবিদ্ধ ৬ জনকে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে নেয়া হলে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বিজিবির গুলিতে নিহতরা হলেন, হাবিবপুর গ্রামের তোফাজ্জুলের ছেলে শাহাবুদ্দিন ওরফে সাহাবুলি (৩২), ছিট ঘিডোব গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাহার আলী মুজা (৩৮), ঘিডোব গ্রামের পরাগ আলী (২২) ও অবিনাশ চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিত রায় আদিত্য (১৮)।
ঘটনার শিকার অপর গুলিবিদ্ধরা গুরুতর আহতাবস্থায় ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদের মধ্যে ঘিডোব গ্রামের জহুরুল আলমের ছেলে সবুজ আলী, তমিজ উদ্দিনের ছেলে সুজাত আলী, আব্দুল বাকি’র স্ত্রী রহিমা বেগম ও খনগাঁও গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে রব্বানী উল্লেখযোগ্য।
ভোটকেন্দ্রে বিজিবি’র গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৯ জনের হতাহতের ঘটনায় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা হরিপুর থানার এস আই আবু হানিফ মণ্ডল বাদী হয়ে ২৯শে নভেম্বর পীরগঞ্জ থানায় এলাকার অজ্ঞাতনামা ৭শ’ জনের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে হামলা, মারপিট ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে রুজুকৃত ১১ নং মামলার প্রেক্ষিতে সমগ্র ঘিডোব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। লোকজন বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র চলে যাওয়ায় গোটা গ্রামজুড়ে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার তদন্ত ওসি বিদ্যুৎ কুমার চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত শুরু করেছি এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে তবে এলাকায় লোকজন না থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেছেন, ভোট কারচুপি হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকরা বেপরোয়া আচরণ করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ফলে সরকারি সম্পদ ও জানমাল রক্ষার্থে বিজিবি গুলি করতে বাধ্য হয়, সর্বোপরি ঘটনাটি ছিল অপ্রত্যাশিত।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর