× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার , ৯ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

যানজটে জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষতিতে দেশ -বিআইডিএস

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
৩ ডিসেম্বর ২০২১, শুক্রবার

রাজধানীর যানজটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে বলে গবেষণা তথ্যে উঠে এসেছে। এর মধ্যে যানজটের কারণে বছরে জিডিপি’র সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২.৫ শতাংশ। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫.৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে ঢাকার ওভার গ্রোথের কারণে ক্ষতি হয় জিডিপি’র ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ঢাকাস ওভারগ্রোথ অ্যান্ড ইটস কস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) পরিচালক আহমেদ আহসান। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বিআইডিএস’র মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৫টির মতো গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের সবচেয়ে বড় বিরক্তির কারণ যানজট। একদিকে উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই দুয়ে মিলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে বছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঢাকার যানজটে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান।
অনুষ্ঠানে আহমেদ আহসান বলেন, দেশের মানুষ যারা শহরে বাস করেন তাদের অধিকাংশ বাস করেন ঢাকায়। দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। প্রধান শহরগুলোতে বাস করে ৩১.৯ শতাংশ মানুষ। এরমধ্যে আবার ঢাকায় বাস করে ১১.২ শতাংশ মানুষ। এছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে সাড়ে ৩ শতাংশ শহরে। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর মাত্র ৫টি।
তিনি বলেন, চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৩৮ কোটি। এরমধ্যে শহরে বাস করে ৩.১ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ১.৮ শতাংশ, ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ১০২টি। ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৩৩ কোটি। এরমধ্যে শহরে বাস করে ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের বেশি মানুষের শহর রয়েছে ৫৪টি।
পিআরআই পরিচালক বলেন, দেশের উন্নয়নের অধিকাংশ ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় অন্য শহরগুলোতে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারেও অন্য শহরগুলো পিছিয়ে আছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক। কিন্তু উৎপাদন হয় কম। দারিদ্র্য নিরসনের হার শহরে কম, গ্রামে বেশি। এই হার জাতীয় হারের চেয়ে গ্রামে বেশি। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি হারের প্রবৃদ্ধি শহরে কমছে। আগে যেখানে প্রবৃদ্ধির এই হার ১২ শতাংশ ছিল, এখন সেটি কমে ৮ শতাংশ হয়েছে।
দেশের পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের বৈষম্য বাড়ছে: দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। পূর্বাঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চলের বৈষম্য বেশি। পূর্বাঞ্চলের দারিদ্র্য কমছে বেশি হারে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বৈষম্য বাড়ার ফলে দ্রুত ভোগ বাড়ছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দারিদ্র্য কমছে ধীরে এবং ভোগও কম। দেখা যায়, ভোগ বৃদ্ধির হার প্রায় শূন্যের কোটায়। সিনিয়র এক রিসার্স ফেলো বলেন, জাতীয় পর্যায়ে দেশে ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩২.২৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটি কমে দাঁড়ায় ২৪.৩৪ শতাংশে। জাতীয় পর্যায় মাথাপিছু ভোগ ২০১০ সালে ছিল ১ হাজার ৪৭১.৫৪ টাকা। সেটি বেড়ে ২০১৬ সালে হয়েছে ১ হাজার ৫০৮.৬৪ টাকা। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ২০১০ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ২৮.৬৮ শতাংশ। এ সময় মাথাপিছু ভোগ ছিল ১ হাজার ৬১৩.২২ টাকা। ২০১৬ সালে এসে দারিদ্র্যের হার হয়েছে ২৩.০৭ শতাংশ। এ সময় মাথাপিছু ভোগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৮.১৯ টাকা। এদিকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪.৭০ শতাংশ। এ সময় মাথাপিছু ভোগ ছিল ১ হাজার ৩৭৪.৬০ টাকা। ২০১৬ সালে এসে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩০.৪৫ শতাংশ। এ সময় মাথাপিছু ভোগ হয়েছে ১ হাজার ৩৭৮.৯৫ টাকা। অপর এক গবেষণায় বিআইডিএসের গবেষক ড. আজরিন করিম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিচ্ছে। যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে মনে করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয়ের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর