× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার , ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

জেলায় জেলায় চিঠি সতর্ক বার্তা

প্রথম পাতা

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
৩ ডিসেম্বর ২০২১, শুক্রবার

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে জেলায় জেলায় সতর্ক বার্তা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতিমধ্যেই সকল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক, সকল জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ১৫ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তা করোনা মোকাবিলায় গঠিত জেলা কমিটিগুলোকে চিঠি দিয়ে কার্যকর করার কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কমিটিগুলো এই নিয়ে কাজও শুরু করেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, ওমিক্রন নিয়ে সবাই একটু চিন্তিত। আমরাও সতর্ক। কিন্তু আমরা প্যানিক করবো না। গতকালই জানা গেছে, করোনার এই ধরন প্রতিবেশী ভারতেও ধরা পড়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত মানবজমিনকে বলেন, আমাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
১লা ডিসেম্বর এই বিষয়ে ভার্চ্যুয়ালি সভাও হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। আফ্রিকা, সাউথ আফ্রিকা থেকে আসলে নজরদারি বাড়াতে বলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো কমিটিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কমিটিগুলো কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কুড়িগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ ব্যাপারে বলেন, নির্দেশনা পেয়েছি। ওমিক্রন করোনারই চলমান প্রক্রিয়া। বুধবার জেলা কমিটির সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় আছি। সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, করোনার নতুন ধরন আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্ক অবস্থা চলছে। বাংলাদেশেও ওমিক্রন ঠেকাতে দেশের স্বাস্থ্যখাত দেশব্যাপী ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনা সব জেলায় পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-(১) সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক সময় সময় ঘোষিত অন্যান্য আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দরসমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। (২) সকল ধরনের (সামাজিক/ রাজনৈতিক/ ধর্মীয়/ অন্যান্য) জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে। (৩) প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। (৪) রেস্তরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে। (৫) সকল প্রকার জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে। (৬) মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। (৭) গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। (৮) আক্রান্ত দেশসমূহ থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে। (৯) সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সকল মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। (১০) সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহীতা, সেবাপ্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। (১১) স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। (১২) করোনা উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজেটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (১৩) কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে। (১৪) অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। (১৫) কোভিড-১৯ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার নিমিত্তে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডায় মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

অন্যদিকে গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইগামী যাত্রীদের টেস্টিং ফ্যাসিলিটিস পরিদর্শন শেষে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ওমিক্রন নিয়ে সবাই একটু চিন্তিত। আমরাও সতর্ক কিন্তু আমরা প্যানিক করবো না। আমরা জানতে পেরেছি, এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়। সংক্রমণ হলেও এর লক্ষণ মৃদু। লক্ষণগুলো ডেল্টার মতো ভয়ানক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যখন আমরা সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পেয়ে যাবো, আপনাদের জানিয়ে দেবো। সে পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। অনেকে ভ্যাকসিন নিতে আসে না। আমরা আহ্বান জানাবো ভ্যাকসিন আপনারা নেবেন। আমাদের কাছে এখনো ৪ কোটি ভ্যাকসিন আছে। ভ্যাকসিনের কোনো অভাব নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ২৪০ জনকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। এটা এক মাস আগের কথা, তারপরও আমরা ছাড়ছি না। সবাইকে খুঁজে বের করবো। সরকার কঠোর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে ইরেসপন্সিবল। নিজের কথা ভাবে না, দেশের কথা ভাবে না। তারা হোটেল থেকে বের হয়ে গেছে। ঘুরা-ফেরা করেছে, বাড়িতে চলে গেছে, সেটা আমরা জেনেছি। আমরা একটা কঠোর অবস্থানে যাবো। পাসপোর্ট আটকে রাখবো প্রয়োজন হলে। সামরিক বাহিনীর তদারকিতে রাখবো, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ টপ সুপারভিশনে রাখবে। যে হোটেল থেকে বের হয়ে যাবে, সেই হোটেলকেও আমরা পেনালটিতে নিয়ে আসবো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সব কিছু ভালো করার চেষ্টা করছি। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হয়েছে। মৃত্যুর হার এক-দুইয়ে আছে। ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম খুবই গতি লাভ করেছে। টার্গেটেড পপুলেশনের ৫০ শতাংশ লোক ভ্যাকসিনেটেড হয়ে গেছে। মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো আছে। বাংলাদেশ ভালো ইমেজ বিদেশে তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের ওপর কোনো জায়গায় নিষেধাজ্ঞা নেই। সবদিক থেকে ভালো আছি। করোনার বুস্টার ডোজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বুস্টার ডোজের ঘোষণা আমরা দিয়েছি। এ জন্য পরিকল্পনা লাগবে। সেটা হতে যেটুকু সময় লাগে, তারপর আমরা কাজ শুরু করে দেবো। বিমানবন্দরে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলে ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর