× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার , ১৫ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

বাস রুট রেশনালাইজেশন অগ্রগতি কবে?

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
৪ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার

ঢাকায় বাড়ছে মানুষ। বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা। জীবনযাত্রা সচল রাখতে প্রতিনিয়তই সড়কে নামছে নগরবাসী। একইসঙ্গে বাড়ছে যানজট আর গণপরিবহন ভোগান্তি। বেড়েছে বিশৃঙ্খলাও। এতে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিভিন্ন সময়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা নানা উদ্যোগ নিলেও গণপরিবহনের নৈরাজ্য কমেনি। বরং সম্প্রতি সময়ে সড়কে অস্থিরতা বেড়েছে কয়েকগুণ।
পরিবহন নৈরাজ্যের কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনা আর মৃত্যুর সংখ্যা। রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন গাড়িই কেড়ে নিচ্ছে তরতাজা প্রাণ। রাজধানীর সড়কগুলোতে অরাজকতা বাড়লেও কঠোর নজরদারি নেই কর্তৃপক্ষের। নিরাপদ সড়ক আইন-২০১৮ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে বেপরোয়া ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে পরিবহন খাত। বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বিআরটিএ, দুই সিটি করপোরেশন, রাজউক ও পরিবহন মালিক শ্রমিকদের নিয়ে পরিবহন ও সড়কে শৃঙ্খলা আনতে উদ্যোগী হলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। এজন্য ২০১৮ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটি ৩ বছরের বেশি সময়েও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনের কাজ শুরু করতে পারেনি। উল্টো একের পর এক সভা আর একাধিকবার সিদ্ধান্ত বদল করেছে। ফলে দৃশ্যমান কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনের শৃঙ্খলা আনা ও যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও কোম্পানির মাধ্যমে বাস পরিচালনা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় গত ১লা ডিসেম্বর বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজি পাইলটিং শুরু করার কথা থাকলেও তা হয়নি। সর্বশেষ গত ২৮শে নভেম্বর কমিটির ১৯তম সভায় নতুন করে সময় নির্ধারণ করা হয়। আগামী ২৬শে ডিসেম্বর ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত ১০০টি বাস নিয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সময়েও বাস রুট রেশনালাইজেশন চালু হবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। যদিও বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির দাবি, বাস মালিকদের অসহযোগিতার কারণে ১লা ডিসেম্বর থেকে কোম্পানির মাধ্যমে বাস চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী ২৬শে ডিসেম্বর থেকে বিআরটিসির ৩০টি ও ব্যক্তি মালিকানা ৭০টি বাস দিয়ে এ রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরু করবে তারা।
গণপরিবহন বিজ্ঞরা বলছেন- রাজধানীতে অধিকাংশ বাসই রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন। এসব বাস শনাক্ত করতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হয়নি। এ ছাড়া কমিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পন্ন হয়নি। বর্তমান বাসগুলো মেরামত, আধুনিকায়ন ও রং করা হয়নি। বাস স্টপ, যাত্রী ছাউনি, বাস বে ও ঘাটারচরে পার্কিংয়ের কাজ শুরু হয়নি। এতে করে চলতি মাসে রেশনালাইজেশন চালু করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।    
এদিকে গত ২৮শে নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বুড়িগঙ্গা হলে ১৮তম সভার সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ঘাটারচরে বাস টার্মিনালের স্থান নির্ধারিত হয়েছে। ডিএনসিসি জমি অধিগ্রহণ ও বাস ডিপো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। সম্ভাব্য সব বাস স্টপ, যাত্রী ছাউনি এবং বাস বে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে কয়টি বাস স্টপ, ছাউনি ও বে নির্মাণ হচ্ছে তা উল্লেখ করা হয়নি। গত ২৪শে নভেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগের সভায় ৪২০টি গাড়ি যৌথ অভিযানের আওতার বাহিরে রাখার জন্য বিআরটিএ তালিকা করে। পাইলটিং রুটের জন্য ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর ম্যানুফ্যাকচারিং বাসগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ১২০টি গাড়ির তালিকা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষে পাঠায়। তার মধ্যে ১০৪টি বাসের তালিকা পায় ডিটিসিএ। এগুলো বিআরটিএতে পরীক্ষা করা হলে ৫টি বাসের রুট পারমিটের জন্য ফি জমা পাওয়া যায়। বাকি ৯৯টি বাসের রুট পারমিটের অনুমোদনই নেই। এ ছাড়া বাসগুলোকে গ্রিন ক্লাস্টারে সমন্বয় করার কথা থাকলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমান বাসসমূহ গত ২০শে অক্টোবর সময়ের মধ্যে মেরামত, আধুনিকায়ন ও সবুজ রঙ করার কথা থাকলেও ১৯তম সভায় বলা হয়েছে, একটি বাস নির্ধারিত নমুনা অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে। কার্য তালিকায় আরও বলা হয়েছে, বাসের তালিকা চূড়ান্ত না হওয়ায় বাসের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে বাস রুট রেশনালাইজেশনের অগ্রগতি নিয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেছেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে চলতি মাসেই বাস রুট রেশনালাইজেশন চালু হবে। মেয়র আনিসুল হকের সময় থেকেই আমরা সহযোগিতা দিয়ে আসছি। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১লা ডিসেম্বর থেকে যে বাস চালুর কথা ছিল, সেখানে আমরা ১২০টি গাড়ি যেগুলো ২০১৯ সাল পর্যন্ত পারমিট ছিল না সেগুলো নির্ধারণ করেছিলাম। সেই মালিকদের সঙ্গে বার বার সভা করেছি। ডিটিসিএ’র সঙ্গে সভা করেছি। অনেকবার সভা করে বাস মালিকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিলাম। একটা গাড়ি রঙ করে কমিটিকে দেখিয়েছিলাম। বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস জানিয়েছে, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাস রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে ১লা ডিসেম্বর থেকে বাস চালুর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তা ফলপ্রসূ করা যায়নি। কারণ হিসেবে বাস মালিকদের অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাপস জানান, রাজধানীতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত গণপরিবহনের যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে, এটাকে শৃঙ্খলায় আনা অত্যন্ত দুরূহের কাজ। আমরা সংকল্পবদ্ধ, বাস রুট রেশনালাইজেশন আমরা বাস্তবায়ন করবোই। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিআরটিসির সহযোগিতায় আগামী ২৬শে ডিসেম্বর থেকে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে এ রুটে ১০০টি গাড়ি চলাচল করবে। বিআরটিসির পক্ষ থেকে এই রুটে ৩০টি বাস দেয়া হবে। এ বিষয়টি তারা নিশ্চিত করছে। প্রতিটি বাস দোতলবিশিষ্ট। ফলে বিআরটিসির ৩০ বাস দিয়ে ৬০টি বাসের সুবিধা পাওয়া যাবে। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর ব্রিজ এই রুটে আরও ৭০টি বাসের জন্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিবে কমিটি। ব্যক্তি মালিকানাধীন যে কেউ এই রুটে নিয়ম মেনে গাড়ি নামাতে পারবেন। এজন্য ১২ই ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির কাছে বাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর