× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার , ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

বার্ষিক কর্মসম্পাদন- প্রথম স্থানে ঢাকা ওয়াসা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার
(১ মাস আগে) ডিসেম্বর ৪, ২০২১, শনিবার, ৬:১২ অপরাহ্ন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সেবা সংস্থাগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদনের তালিকায় প্রথম স্থানে ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটি বার্ষিক কর্মসম্পাদনের ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৮ দশমিক ২৭ নম্বর অর্জন করেছে। শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারের ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০টি দপ্তর, সংস্থা, সিটি করপোরেশনের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছে ঢাকা ওয়াসা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তির প্রতিবেদন ও প্রমাণসহ মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা ৯৮ দশমিক ২৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। গত অর্থবছরে ঢাকা ওয়াসা তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল এবং তার আগের বছর আমরা প্রথম হয়েছিলাম। এই মূল্যায়ন ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কাজের অগ্রগতির একটি বড় সূচক। এর ফলে ঢাকা ওয়াসার সেবা কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।
ঢাকায় একটি মানুষও পানি সেবার বাইরে থাকবে না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা। এ লক্ষ্য ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা' কর্মসূচির আওতায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। তারই পরিক্রমায় ঢাকা ওয়াসা আজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উত্তোলন ও উৎপাদন সক্ষমতা ২৭০-২৭৫ কোটি লিটার এবং দৈনিক ২৬০-২৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার পুরোটাই ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার মোট উৎপাদিত পানির শতকরা ৩৩ ভাগ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্য ৬৭ ভাগ পানি ভূ-গর্ভস্থ উৎস তথা গভীর নলকূপ হতে আসছে। ২০২৩ সাল নাগাদ ঢাকা শহরে সরবরাহকৃত পানির ৭০ ভাগ আসবে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে। অবশিষ্ট ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ তথা গভীর নলকূপ থেকে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা ওয়াসার ১৫৬টি পানির পাম্পে এসসিডিএ (সুপারভাইজরি কন্ট্রোল ও ডেটা অ্যাকুইজেশন) স্থাপন করেছে। এতে পাম্পগুলি সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুমে বসে মনিটরিং ও পরিচালনা করার সুবিধা হয়েছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে মোট ১৪৫টি ডিএমএ’র (ডিসট্রিক্ট মিটার্ড এরিয়া) মধ্যে এ পর্যন্ত ৭১টি ডিএমএ স্থাপন করা হয়েছে । অবশিষ্ট ডিএমএগুলোর কাজ চলমান আছে। এটি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ডিএমএ হল এলাকা ভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি আধুনিক পদ্ধতি। কোনও এলাকায় পানির স্বল্পতা দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএ হতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ইমপোর্ট হবে অথবা উদ্বৃত্ত হলে পার্শ্ববর্তী ডিএমএতে এক্সপোর্ট হবে । ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ এ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরে কোথাও পানির সমস্যা নেই। কিছু জায়গায় কারিগরি সমস্যা বা পকেট সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধানে আমরা প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। সবগুলো জোনে গ্রাহকদের সমস্যা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিকল্পে ডিজিটাল কলসেন্টার ওয়াসা লিংক ১৬১৬২ চালু আছে। নগরীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাম্প ব্রেকডাউন হলে তা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার মধ্যে চালু করার লক্ষ্যে আবারও ৩টি সাব-অফিস চালু করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন না করে নদীর পানিকে পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করতে কাজ করছে ঢাকা ওয়াসা। বর্তমানে ৩৪ শতাংশ পানি আসছে নদী থেকে, যা ৭০ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় ঢাকা ওয়াসা। এমন তথ্য জানিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দএখন পর্যন্ত ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানি ও ৬৬ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি দিচ্ছি। আমাদের দুটি প্রকল্প চলমান আছে। সেগুলো শেষ হলে আমাদের যে লক্ষ্য, ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করা। সে লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারব। তিনি বলেন, পানির ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আমরা হাতে নিয়েছি। এটা অনেক বড় কাজ। ঢাকার শহরের পানি সরবরাহের পুরো পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিএমএ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। বিশ্বের অনেক দেশ এত বড় কাজ হাতে নিতে চায়নি। আমরা বেশ খানিকটা নাগরিক সমস্যা সমাধান করছি। ১৪৪টি ডিএমএ নেটওয়ার্কে মধ্যে ৭১টি ডিএমএ প্রস্তুত করতে পেরেছি। এই নেটওয়ার্ক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলবে। এর মাধ্যমে ঢাকা শহরের পানি সরবরাহের সমস্যা অনেকাংশে সহজতর হবে। সিস্টেম লসের বিষয়ে তিনি বলেন, সিস্টেম লস দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৩৫ শতাংশ। কোনো কোনো দেশে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। আমাদের যাত্রার সময় ৩৫ শতাংশ ছিল। ডিএমএ করার পর ৫ শতাংশ, ৬ শতাংশ এমনকি কোথাও ১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদ-ে ২৫ শতাংশটা সন্তোষজনক। তবে আমরা অনেক আগেই এর নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে সিঙ্গে ডিজিটে সিস্টেম লস নেই। আমাদের সম্পূর্ণ ডিএমএ হলে পানির কোনো সমস্যা থাকার কথা না। কোয়ালিটি নিশ্চিত হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর