× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার , ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

ডাকঘরের কান্না

ইতিহাস থেকে

শামীমুল হক
২৩ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার
সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৭ অপরাহ্ন

খাল-বিল পেরিয়ে, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ডাক পৌঁছে দিতে হয়। কোনো কোনো এলাকায় রাস্তাঘাটের সুবিধা হওয়ার পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে চড়ে ডাক বিলি করতে যান ডাক পিয়ন। কিন্তু ডাক বিলির জন্যে মাসিক বরাদ্দ মাত্র ৫ টাকা বরাদ্দের কোনো পরিবর্তন হয়নি যুগের পর যুগ। এই যাতায়াত খরচে তুষ্ট থেকেই ছুটতে হচ্ছে ডাকপিয়নকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা। গ্রামের ডাকঘরটির বয়স প্রায় ৬৫ বছর। গ্রামের মোল্লাবাড়ীর বাংলো ঘরের একটি কক্ষে এই ডাকঘরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৬ সালের দিকে। সময় পরিক্রমায় সম্ভ্রান্ত বাড়ির ঐতিহ্যে পরিণত হয় এই ডাকঘর।
যদিও ডাকঘরের সেই জৌলুস নেই। মানিঅর্ডারে আসা টাকা, স্বজনদের পাঠানো চিঠি সংগ্রহে ডাকঘর ঘিরে নেই আগের মতো ভিড়। ডাকঘর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মোল্লাবাড়ীর কয়েক কৃতি পুরুষের নাম সমুজ্জ্বল গ্রামের মানুষের মুখে। শামসুল হুদা ওরফে লাল মিয়া মুন্সী, আবদুর রউফ ওরফে নওয়াব মিয়া, আরেকজন আবদুল হাই ওরফে জিল্লু মিয়া। আপন তিন ভাই। লাল মিয়া মুন্সী তৎকালীন সময়ে দু’টি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আবদুর রউফ ইস্ট পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসের ডাইরেক্টর, আর জিল্লু মিয়া ছিলেন পুলিশের ডিএসপি। লাল মিয়া মুন্সীর ছোট ছেলে আমিনুল হক। ডাকঘর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আমিনুলের বয়স ছিল ৮ বা ৯ বছর। তিনি জানান- দেশের খ্যাতিমান কবি মতিউল ইসলাম তার ভগ্নিপতি। তিনি তার স্ত্রী অর্থাৎ আমার বোন সুফিয়া খাতুনের কাছে একটি চিঠি লিখেন। সেই চিঠি ঠিকভাবে না পৌঁছানোর কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় আমার বাপ-চাচাদের মাঝে। আমার চাচা ডাইরেক্টর নওয়াব মিয়া গ্রামে ডাকঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার অগ্রণী ভূমিকার কারণে এই ডাকঘর গ্রামে আসে। তিনি জালশুকা গ্রামে বস্তার বস্তা চিঠি প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। আমাদের সকল আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও সারা গ্রামের মানুষকে বলে দেন তারা যেন বেশি করে বাড়িতে চিঠি পাঠান। আর এভাবেই আমাদের গ্রামে ডাকঘর প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। ডাকঘর প্রতিষ্ঠার পর আমাদের বাড়িতে সারা দেশের মানুষ আসতো টাকা নিতে, চিঠি নিতে। এখন ডাকঘরের কোনো ফাংশন নেই। কিছু সরকারি চিঠিপত্র ছাড়া আর কোনো কিছু আসে না। বড়াইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বাবুল বলেন- আমাদের গ্রামের কৃতি পুরুষ ডাইরেক্টর সাহেব গ্রামে ডাকঘর প্রতিষ্ঠার জন্যে সবাইকে নির্দেশ দেন বেশি বেশি করে আত্মীয়-স্বজনের কাছে চিঠি লিখার জন্যে। আমার খেয়াল আছে আমার ফুফুরা তখন স্কুলে পড়াশুনা করতো।

তারা চিঠি লিখে পাঠাতো আমাদের স্বজনদের কাছে। জালশুকায় ডাকঘর প্রতিষ্ঠার আগে ডাকঘর ছিল গ্রামের পশ্চিমে কয়েক মাইল দূরত্বের কৃষ্ণনগরে। পরে জালশুকা গ্রামে ডাকঘর স্থাপিত হয়। জালশুকা ডাকঘর থেকে ডাক বিলি হয় ৮টি গ্রামে। জালশুকা ছাড়াও গোসাইপুর, চর- গোসাইপুর, মনিপুর, ফুলতাকান্দি, গিয়ারা, মোরতলী ও রাধানগর গ্রামের ডাক আসে এই ডাকঘরে। ডাকঘরের পোস্টম্যান আজিজুর রহমান জানান- তার আগে আরও ৭ জন পোস্টম্যান দায়িত্ব পালন করেন এই ডাকঘরে। এরমধ্যে একজন নারীও ছিলেন। ঝর্ণা বেগম ছাড়া অন্য ৬ জন পোস্টম্যানই মারা গেছেন। তারা হচ্ছেন- গোলাম মোস্তফা, ধন মিয়া, বজলুর রহমান, আবুল খায়ের, আবু জামাল, আমির হোসেন। আজিজুর রহমান ২৫ বছর ধরে এই ডাকঘরে পোস্টম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান-এক সময় শহর থেকে গ্রামে আসার কোনো রাস্তাঘাট ছিল না। তখন গয়না নৌকায় করে ডাক আসতো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে। দু’-একদিন পরপর ডাক আসতো। এরপর ডাকপিয়ন নৌকায় করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিঠিপত্র বিলি করতো। এরপর লঞ্চে ডাক আসা শুরু হয়। লঞ্চে গোকর্ণঘাট থেকে গোসাইপুর ঘাট পর্যন্ত ডাক আসার পর আমরা জালশুকা থেকে পানি ভেঙে খালবিল পেরিয়ে গোসাইপুর গিয়ে ডাক নিয়ে আসতাম। প্রায় ৪০ বছর এভাবেই ডাক ব্যবস্থা সচল ছিল। অনেক কষ্ট করে ডাক বিলি করেছি। ২/৪ বছর হয়েছে রাস্তাঘাট হয়েছে। তবে ডাক বিলিতে আমাদের কষ্ট দূর হয়নি। ডাকবিলির মাসিক খরচ ৫ টাকাও বৃদ্ধি পায়নি। তাছাড়া আমার এই ডাকঘরের ডাকপিয়নের পদও শূন্য। ডাক নিয়ে আমাকেই ছুটতে হয়। আমাদের কোনো কোনো গ্রাম আছে নদীর পাশে। নদী পাড়ি দিয়ে ডাক পৌঁছে দিতে হয়। তিনি আরও জানান- আগে অনেক ব্যক্তিগত চিঠি এলেও মোবাইল ফোন চালুর পর এখন ব্যক্তিগত চিঠি আসে না বলেই বলা চলে। মানি অর্ডারও আসে না একেবারেই। ডাকে শুধু সরকারি কিছু চিঠিপত্রই আসে। চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড, আদালত থেকে আসামিদের পাঠানো সমন, লাইব্রেরির বই-পুস্তক ইত্যাদি। আজিজুর রহমান পোস্টম্যান হিসেবে বেতন পান ৪৪শ’ টাকা।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
মো:সাইফুল ইসলাম
৩০ ডিসেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:২৪

ডাকঘরের কর্মচারীরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে।বর্তমান বাজারমূল‍্যের উর্ধ্বগতি।এ অবস্থায় চার হাজার টাকায় সংসার চালানো খুবই কঠিন।ডাক কর্মচারীদের অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে ডাক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন‍্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এ টি এম ফয়েজুল কবির
২৪ ডিসেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ৭:৪১

চমৎকার উপস্থাপন

অন্যান্য খবর