× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীসেরা চিঠিইতিহাস থেকে
ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার , ১২ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩ হিঃ

মহম্মদপুরে ১১৩ বছর ধরে চলছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা

বাংলারজমিন

মাহামুদুন নবী, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে
১৪ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

মাগুরার মহম্মদপুরে বুধবার ১১৩ বছর ধরে চলমান মেলা ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরের ২৮শে পৌষ  উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাচীন এ ঘোড়দৌড় ঘিরে শুধু বড়রিয়া নয়, উৎসব, উন্মাদনা আর আনন্দে মাতে আশপাশের অন্তত ৫০ গ্রামের মানুষ। প্রায় এক বর্গমাইল এলাকাজুড়ে মেলা বসে। মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এ মেলায় দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করেন। মূল মেলা একদিনের হলেও ১৫ দিন ধরে চলে মেলার উৎসব। ঘোড়দৌড়ের পরদিন নারীরা মেলায় আসেন। এই দিনের মেলা ‘বউ মেলা’ নামেও পরিচিত।
চর বড়রিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকুর মোল্যা জানান, মেলা উপলক্ষে জামাই-মেয়েদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঈদে না এলেও মেলা উপলক্ষে জামাইদের শশুরালয়ে আসা বাধ্যতামূলক। জামাইরা মেলা থেকে বড় মাছ কিনে-শশুরালয়ে নেওয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো। তৈরি হয় নানা পিঠাপুলি।
বুধবার মহম্মদপুরে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই লোকজন ঘোড়দৌড় মাঠে আসতে শুরু করেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। দুপুর আড়াইটার পরই শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
গ্রামবাসীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, আনুমানিক ১১৩ বছর আগে এমনই এক প্রতিযোগিতায় গিয়েছিলেন বড়রিয়ার সরদার বংশের ছেলে আবদুস সামাদ সরদার। তার শক্তিশালী এক ঘোড়া ছিল। মাগুরা সদর উপজেলার বাখরবা নামের ওই গ্রামে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তিন দফা প্রথম হওয়ার পরও তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। তাকে হারাতেই একাধিকবার ঘোড়া দাবড়ানো হয়। শেষে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন সামাদ সরদার। বাড়িতে এসেই নিজ জমিতে আয়োজন করেন ঘোড়দৌড়ের আসর। সেই থেকে মাগুরা জেলার মহম্মদপুরের সরদারদের আয়োজনে চলে আসছে ঘোড়দৌড়।
মেলা কমিটির বর্তমান সম্পাদক শাহজাহান সরদার জানান, তার দাদার বাবা আবদুস সামাদ সরদার টানা ৩৫ বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। তিনি মারা গেলে দায়িত্ব পড়ে আজিজার রহমান সরদারের ওপর। তিনিও ২৫ বছর এই আয়োজন করেছেন। আজিজার রহমানের মৃত্যুর পর দায়িত্ব পান কালাম সরদার। এই কালাম সরদার ২০ বছর এই আয়োজন করেছেন। এরপর ১৯৯৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ঘোড়দৌড় ও মেলার আয়োজন করে আসছেন তিনি। প্রতি বছর পৌষ মাসের ২৮ তারিখ এই প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়া হয়। এবারও তাই হয়েছে।
মেলা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম ফকির মানবজমিনকে বলেন, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় চার হাজারের বেশি দোকান বসেছে। আগে আরও বেশি দোকান বসতো। ৪০ থেকে ৫০টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো। এখন আর মানুষ তেমন ঘোড়া পালন করে না। তবে এই ঘোড়দৌড় ও মেলা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। তাই ১১৩ বছর ধরে টিকে আছে এই মেলা।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর