× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

তৈমূরের শঙ্কা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, গ্রেপ্তার হলে হবো, কিন্তু নির্বাচনের মাঠ ছাড়বো না। শেষ দেখে ছাড়বো।
মরে গেলেও মাঠ ছাড়বো না। আমার লোকজন গ্রেপ্তার হচ্ছে, আমার গলায় আপনি ফাঁসি লাগিয়ে দিবেন আমি কথা বলতে পারবো না সেটাতো হবে না। এটা নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের ওপর যত অত্যাচার হয় ভোটাররা তত ঐক্যবদ্ধ হয়। লক্ষাধিক ভোটে পাস করবো। মরে গেলেও মাঠ ছাড়বো না।
প্রশাসনকে বলবো জনগণের সেবা করা আপনাদের দায়িত্ব। বহুবার রিকোয়েস্ট করেছি এখন বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম। রোববার ভোট যাই হোক আমরা মাঠে থাকবো। নির্বাচন চালিয়ে যাবো।
গতকাল সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় নিজ বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার রাতে নিজের ব্যাক্তিগত এক সহকারীসহ ছাত্রদল ও যুবদলের ২ নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও তাদের মুক্তির দাবি করেন সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, আপনাদের সামনে হাজেরা বেগম উপস্থিত আছে। সে মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী। সে আমার বাড়িতে রাত দুটো পর্যন্ত ছিল। তাকে ঈদগাহের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই আমার দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী নেতা এবং নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি সরকারি দলের সদস্যদেরও হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। পাঠানটুলি এলাকার একটা ছেলে আহসান সেই এলাকায় আমার নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছিল। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি এখনো তার খোঁজ পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এখানে অনেক লোক আছেন যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এদের মধ্যে এমন কোনো লোক নেই যাদের বাড়িতে দুই থেকে তিনবার লোক যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি আমাদের ওপর এত অত্যাচার করছেন কেন? প্রশাসনের এহেন কাজে আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পাপনও শুক্রবার এখানে ছিল। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়ে?ছে। এভাবে আমার লোকদের গ্রেপ্তার করা হলে নির্বাচন কমিশন যে বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এটাই কী সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া?
তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তাদের জিজ্ঞেস করে দেখেন পুলিশ কীভাবে অত্যাচার করছে। একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য প্রেসার দেয়া হচ্ছে। হয়তো তাদের ভোট দিয়ে দেয়া হবে।
এসপির বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে যে কথা বলি এটা কি তার কর্ণগোচর হয় না?
তৈমূর আলম আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি দলের প্রার্থীর ডিজিটাল আইনের মামলা থেকে সাংবাদিকেরাও রেহাই পায়নি। এখনো সেই মামলায় তারা জেল খাটছে। ছাত্রলীগের ছেলে সুজন তার মামলা মাথায় নিয়ে মারা গেছে।
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন, যাদের কাছে আমাদের অভিযোগ করার কথা তারাই নির্বাচনকে কলুষিত করছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। আমার বাসার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের দেখেন। দেখবেন তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত থেকে আমি কাগজ নিয়ে এসেছি। গত বছরের হেফাজতের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন দেখা যায় ছাত্রলীগও হেফাজতের মামলার আসামি, হিন্দুও হেফাজতের মামলার আসামি। মানে হিন্দুরাও হেফাজত করে।
তৈমূর বলেন, যারা আমার নির্বাচনের নানা কাজের দায়িত্বে আছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সকলকেই হেফাজতের মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডিসি-এসপি সাহেব বলে আমি অভিযোগ করিনি। এখানে সই করা কাগজ আছে আমার কাছে।
তিনি বলেন, ঘণ্টাখানেক আগে আমাদের চিফ এজেন্ট এটিএম কামালের বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতির বাড়িতেও তারা গেছে। এ রকম যেই আমাকে সমর্থন করছে তার বাড়িতেই যাচ্ছে। আমরা এতে ভীত না। আমরা মাঠে থাকবো। আমার মৃত্যু হলে নির্বাচনের মাঠেই হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইভী বলেছে নারায়ণগঞ্জে কোনো বহিরাগত নেই। তৈমূরের বাড়ি রূপগঞ্জ থেকে লোক আসে। আইভীর সমাবেশে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারের এমপিরা নেতৃত্ব দিয়েছে। ছবিই তো তার সঙ্গে যে বহিরাগতরা আছে তা প্রমান করেছে। এটিএম কামাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে পুলিশ যাবে কেন? আমি যখন নাম দিয়েছি তখন তো বলতে পারতো সে সন্ত্রাসী তাকে এজেন্ট দিয়েন না। আপনারা ভয় পাবেন না। আমার নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে আমিও মাঠে থাকবো। আমরা মাঠে থেকে প্রতিরোধ করবো। বাংলাদেশ বিশ্ব আইনের বাইরে না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে তৈমূর বলেন, আমি বহুবার অভিযোগ করেছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজকে বলেছে চারিদিকে ষড়যন্ত্র, আমি একা হয়ে যাচ্ছি। এর মানে তার জনসমর্থন নেই। তাদের একমাত্র ক্ষমতা মামলা। দুই টাকার বলপেন চার আনার কাগজ আর মামলাই তাদের এখন মূল ভরসা। আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা আছে। আমি দেশনেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জেল খেটেছি। কামাল কী মাদক ব্যবসায়ী না সন্ত্রাসী। নির্বাচন কমিশন তাদের কমিটমেন্ট ঠিক আছে না নেই তা কালকে দেখবেন। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে পদ লাগে না। জনসমর্থন লাগে কর্মীবাহিনী লাগে। আমাকে সারা পৃথিবী চেনে। বাধা দিলে বাধবে লড়াই। এটা অনেক পুরনো স্লোগান। বাঙালি প্রতিরোধ করবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর