× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

এক্সক্লুসিভ /গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও বিরোধী মতের কথা শুনতে হবে

প্রথম পাতা


১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

আর্ল রবার্ট মিলার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ২০১৮ সালের ১৩ই নভেম্বর। তিনি এর আগে বতসোয়ানা প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের ক্যারিয়ার সদস্য মিলার ১৯৮৭ সালে পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগ দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গসহ ভারত, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং এল সালভাদরে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কাজ করেছেন। রাষ্ট্রদূত মিলার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্র্যাজুয়েট এবং সাবেক মেরিন কোর কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অসংখ্য সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে আছে বীরত্বের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তর পুরস্কার ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের শিল্ড অব ব্রেভারি পুরস্কার। রাষ্ট্রদূত মিলার ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ ও ইন্দোনেশিয়ান ভাষা জানেন।

তিন বছর দুই মাসেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিচ্ছেন মিলার।
ঢাকা থেকে বিদায় নেয়ার ঠিক আগে মানবজমিনকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার তারিক চয়ন। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব আজ ছাপা হলো:

মানবজমিন: বাংলাদেশে অবস্থানকালে এই তিন বছরে কোন বিষয়টি আপনার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে? এখানে আপনার সেরা অভিজ্ঞতাটা কি?

আর্ল মিলার: বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা এবং উদারতা। আমি ৩৫ বছর ধরে আমেরিকান কূটনীতিক হিসেবে কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষের মতো এত অতিথিপরায়ণ, চিন্তাশীল এবং আন্তরিক মানুষ অন্য কোনো দেশে দেখিনি যারা এভাবে মানুষকে সাদরে বরণ করে নেয়।
বিস্ময়করভাবে বৈচিত্র্যময় এবং অপরূপ এই দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ করে চমৎকার সব অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেগুলো আমার স্মৃতিতে অমলিন। আমি দেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি, সব জায়গাতেই ভালো লেগেছে। আমার হৃদয়ে, আমার স্মৃতিতে আমি আকর্ষণীয় এই দেশের রূপ, রস, রঙ, গন্ধ এবং বৈচিত্র্য বহন করবো। সিলেট, বরিশাল ও বান্দরবানের সবুজ, কক্সবাজারের অন্তহীন সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য, পুরান ঢাকার প্রাচীনত্ব ও আধুনিকতা বোধ (হেসে) আমি কিন্তু থামবো না...আমি যেখানেই গিয়েছি সেখানেই বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে। তারা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তাদের শক্তি, তাদের আশাবাদ, তাদের আবেগ আমাদের আশা জোগায়। পৃথিবীর জন্য যা খুবই দরকার।

মানবজমিন: চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আপনি এই সম্পর্ককে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? বর্তমানে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ককেই বা আপনি কীভাবে বর্ণনা করবেন?

আর্ল মিলার: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় এবং তা আরও মজবুত হচ্ছে। আমি ঢাকায় নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের প্রতি ঈর্ষান্বিত এই কারণে যে, তিনি আমাদের দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করার সময়টায় এখানে থাকবেন। আহ! কি যে একটা উদ্‌যাপন হবে! আমাদের উভয় দেশের জন্য এই বিশেষ মাইলফলক উদ্‌যাপনে সত্যিকার অর্থেই উত্তেজনাপূর্ণ বেশকিছু অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছি।

কারণ বিগত পাঁচ দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমর্থক, সবচেয়ে বড় ভক্ত, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং ভরসা করার মতো সবচেয়ে বড় অংশীদার ও বন্ধু। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। আমরা সাহায্যের দিক থেকে বছরে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবদান রাখি। টাইফুনের পর আমরা মানবিক সহায়তায় ছুটে এসেছি। আমরা করোনার বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধ করছি। যুক্তরাষ্ট্র বিনামূল্যে, ২৮ মিলিয়নের (২ কোটি ৮০ লাখ) বেশি করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ দান করেছে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক অন্যান্য সহায়তায় দিয়েছে ১২১ মিলিয়ন (১২ কোটি ১০ লাখ) ডলারেরও বেশি।

স্বাধীনতার জন্য আমাদের ঐতিহাসিক সংগ্রাম থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন পর্যন্ত- আমাদের দুই দেশের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

অর্থনৈতিক ইস্যু, উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাই তুলে ধরে।

একসঙ্গে কাজ করার ধারণা ঠিক করতে এবং পরবর্তী ৫০ বছর বা তারও অধিকতর সময়ে আমাদের অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করতে ২০২২ সালে আমরা দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর এবং সংলাপের পরিকল্পনা করেছি।

যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ জনগণের সঙ্গে জনগণের বন্ধনের মাধ্যমেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যার হিসেবে বিশ্বের সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৪তম।

বন্ধুদের ক্ষেত্রে যা হয়- আমাদের দুই জাতি, সবসময় সব বিষয়ে একমত হতে পারে না। কিন্তু সেক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক যেহেতু যথেষ্ট পরিপক্ব এবং দৃঢ় সেহেতু সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে খোলামেলা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

মানবজমিন: এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ আপনি কেমন দেখছেন? চলমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য কি?

আর্ল মিলার: আমি আগেই বলেছি, আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় এবং সেটা আরও মজবুত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব কেবল উভয় দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্যই নয়, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও অপরিহার্য।

আমরা স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণ হতে শুরু করে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতি আমাদের প্রশংসা জানানো এবং সমর্থন করা অব্যাহত রাখবো। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবো এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশগুলোর মধ্য থেকে শক্তিশালী নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকবো।

বাংলাদেশ তার নিজের যোগ্যতাতেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান অংশীদার। কিন্তু এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমানভাবে গুরুত্বপূর্ণভাবে নেতৃত্বের ভূমিকাও পালন করছে। যে অঞ্চলে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বাস করে, যে অঞ্চলে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর কয়েকটির অবস্থান (অবশ্যই, আপনারাও রয়েছেন)। বৈশ্বিক জিডিপি’র প্রায় ৪০ শতাংশই এই অঞ্চলের। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু।

মানবজমিন: বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবস্থা কেমন বলে আপনি মনে করেন? বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কি কি?

আর্ল মিলার: স্বাধীনতার জন্য আমাদের দুই দেশের সংগ্রামের দিকে ফিরে তাকালে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশীদার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত আদর্শ এবং নীতিগুলো মেনে চলার দিক দিয়ে সমস্ত গণতন্ত্রের গল্পই এক, আর তা হলো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চলছে, গণতন্ত্র সম্পূর্ণ নয় এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। উদাহরণস্বরূপ, সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, বিরোধী দলের সদস্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অবশ্যই তাদের মতামত প্রকাশ করার, প্রতিশোধ নেয়ার ভয় ছাড়াই পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। ভিন্নমত ও বিরোধী মতের কথা শুনতে হবে এবং সম্মান করতে হবে। শক্তিশালী গণতন্ত্র নিয়মিত এবং প্রাণবন্ত বিতর্কের মাধ্যমেই বিকাশ লাভ করে।



মানবজমিন:  বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রচারে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্ধু দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, সুশাসন ইত্যাদির বিকাশে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে? আপনার দৃষ্টিতে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলো কি কি?

আর্ল মিলার: খুব চমৎকার প্রশ্ন করেছেন। আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শাসন পদ্ধতি নিয়ে আমাদের দূতাবাস এবং অন্যান্য (কূটনৈতিক) চ্যানেলের মাধ্যমে দুই দেশের রাজধানী এবং দৈনন্দিন কাজের মধ্য থেকে নিয়মিতভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করে থাকি। আমরা আলোচনা করি কীভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের শাসনকে এগিয়ে নিতে পারে এবং কীভাবে দায়মুক্তির সংস্কৃতি যেকোনো দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেয়। আমাদের এখানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বিনিময় কর্মসূচি রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশি স্কলার, সাংবাদিক এবং সরকারি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে পরিদর্শন করে দেখেন কীভাবে আমরা গণতান্ত্রিক এবং শাসন পদ্ধতির চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করি। আমাদের ইতিহাসে (এমনকি আমাদের অতি সামপ্রতিক ইতিহাসে) যুক্তরাষ্ট্র কখনো কখনো গণতন্ত্র এবং সুশাসনের জন্য লড়াই করেছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন দেশে এবং বিদেশে গণতন্ত্রকে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করা, টিকিয়ে রাখা এবং ক্রমবর্ধমান করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রে সব প্রতিভাবানদের দ্বারা তৈরি ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ করার দুর্দান্ত এক সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এটিও একেবারে নিখুঁত বা নির্ভুল নয়। আমরা সে দাবিও করি না। কিন্তু, আমরা সেসব নিয়ে কাজ করছি, সবসময় কাজ করছি। বন্ধু হিসেবে আরও নিখুঁত ‘ইউনিয়ন’ গড়তে যুক্তরাষ্ট্র (বাংলাদেশের সঙ্গে) নিজেদের ওইসব অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারে।

মানবজমিন: ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের (অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সামরিক) ভূমিকাকে কীভাবে দেখেন? গুজব রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ভূ-রাজনৈতিক বা কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে অন্য কারও চোখে দেখে...

আর্ল মিলার: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে, অবশ্যই অন্য কারও দৃষ্টিতে দেখে না।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এই সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য অংশীদার, মিত্র এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে করোনা, জলবায়ু পরিবর্তন, উদীয়মান প্রযুক্তি, নিয়মতান্ত্রিক পথে বাণিজ্য ও অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং সন্ত্রাস দমনে আধুনিক পদ্ধতি। এই সমস্ত ক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি মূল অংশীদার।

আমাদের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য সবসময়ই আশাবাদী যাতে সমস্যাগুলো খোলাখুলিভাবে মোকাবিলা করা যায়; নিয়মগুলো স্বচ্ছ এবং ন্যায্যভাবে প্রয়োগ করা হয়; পণ্য, ধারণা এবং মানুষ ভূমি, সাইবার স্পেস, এবং খোলা সমুদ্রে অবাধে বিচরণ করে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
এ, কে, এম, জামসেদ
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ১১:৫২

ভারত শুধুমাত্র বাংলদেশের ১টি দলকে পছন্দ করে। যুক্তরাষ্ট কি বাংলাদেশকে ভারতের চোখে দেখে? এতদিন যুক্তরাষ্ট বাংলাদেশকে ভারতের চোখছে।

Khan
১৬ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ১১:০১

সাম্প্রতিক সময়ের নিষেধাজ্ঞার সম্বন্ধে কোনো প্রশ্ন ই করা হলো না, দর্শকের মনে যথেস্ট খটকা আছে ।

আবুল কাসেম
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ৯:৩২

পৃথিবীর কোনো মানুষই চিরঞ্জীব নয়। প্রতিনিয়ত চোখের সামনে দিয়ে প্রিয়জনেরা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ঠেকাতে পারছিনা। একেকজন মানুষের জীবনে মৃত্যু একেকটি ছোট কিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ পেতে হবে। তারপর তোমাদের সবাইকে আমার দিকে ফিরিয়ে আনা হবে।" সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত-৫৭। যারা কিয়ামতকে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করেছে তারা পৃথিবীতে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেছে। কিন্তু, মানুষের শিক্ষার জন্য আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন সময় ছোটো ছোটো কিয়ামত সংঘটিত করছেন। ইরশাদ হচ্ছে, "অবশ্যম্ভাবী ঘটনাটি। কি সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনাটি? তুমি কি জান সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনাটি কি? সামূদ ও আদ আকস্মিকভাবে সংঘটিতব্য সে মহা ঘটনাকে অস্বীকার করেছিলো।তাই সামূদকে একটি কঠিন মহা বিপদ দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আর আদকে কঠিন ঝঞ্ঝাবাত্যা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। যা তিনি সাত রাত ও আট দিন ধরে বিরামহীনভাবে তাদের ওপর চাপিয়ে রেখেছিলেন। (তুমি সেখানে থাকলে) দেখতে পেতে তারা ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়ে আছে যেন খেজুরের পুরানো কাণ্ড। তুমি তাদের কাউকে অবশিষ্ট দেখতে পাচ্ছো কি?" সূরা আল-হাক্বাহ্, আয়াত১-৮। অবশেষে একদিন বড়ো কিয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ইরশাদ হচ্ছে, "অতঃপর যে সময় শিংগায় ফুঁৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার। আর পাহাড়সহ পৃথিবীকে উঠিয়ে একটি আঘাতেই চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হবে। সেদিন সে মহা ঘটনা সংঘটিত হয়ে যাবে। সেদিন আসমান চৌচির হয়ে যাবে এবং তার বন্ধন শিথিল হয়ে পড়বে।" সূরা আল-হাক্বাহ্, আয়াতঃ১৩-১৬। কিন্তু মানুষ বড়োই নির্বোধ। এই পৃথিবীকে চিরস্থায়ী মনে করে। বেপরোয়া হয়ে পড়ে। দুর্বলের ওপর খড়গহস্ত হয় সবল। আল্লাহর সৃষ্টি সুন্দর ও শান্তির পৃথিবীটা অত্যাচার নির্যাতনে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তাদের পরিনতিও হয় ভয়াবহ। অতীত ইতিহাসের বহু ঘটনা কুরআনুল কারিমে বর্ণিত হয়েছে। মদিনার শান্তিপূর্ণ কল্যান রাষ্ট্রের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে ধীরে ধীরে মানুষ আবারো স্বৈরাচারী হয়ে পড়ে। আদিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয় পৃথিবী জুড়ে। বৃটিশরা একসময় পৃথিবী ব্যাপী জুলুমের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। বিচারবহির্ভূতভাবে অকথ্য নির্যাতন করে হত্যা করা ও জনমানবহীন দ্বীপে নির্বাসিত করা হতো তাদের জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের। আলজেরিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধ যখন চলে, এইতো গত শতকে ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতাকামীদের ভূমধ্যসাগরে ফেলে দিত বিমানে করে নিয়ে গিয়ে। নামিবিয়া ছিলো জার্মান ঔপনিবেশিক শাসনে ১৮৯৪ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত। সে সময় হেরেরো এবং নামা উপজাতি জায়গা জমি, ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু দখলে নিয়ে তাদেরকে নির্বাসনে পাঠানো হতো। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের নির্মুলের নির্দেশ দেন নামিবিয়ায় জার্মানি সেনাবাহিনী প্রধান লোথার ফন ট্রোথা। তাঁর নির্দেশে হাজার হাজার মানুষকে বন্দীশিবিরে ঢোকানো হয়েছে এবং হত্যা করা হয়েছে বিচারবহির্ভূতভাবে। ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় চিলি, গুয়েতেমালা, এল সালভেদর, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে ‘অপারেশন কনডোর’ পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে ওই অঞ্চলে হাজারো মানুষ নিখোঁজ হয়। যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কুখ্যাত ‘স্কুল অব আমেরিকাস’ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রশিক্ষণ দেয়। ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের গল্প তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে। ইরাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ইরাকের মাটি তামা করা শেষ করে তারাই বলেছে ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী কোনো অস্র নেই। আমেরিকার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ফিলিস্তিনের মানুষের সকাল শুরু হয় গুলি খেয়ে, রাতেও বিনিদ্র থাকতে হয় গুলির ভয়ে। রাশিয়া ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর লাখ লাখ বিরোধী মতের মানুষ হত্যা করা হয়েছে। মূলত আধিপত্যবাদীদের নীল নকশায় মানুষের জীবনের শান্তি কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকৃতির স্বর্গ কাশ্মীর জ্বলছে। চীনের উইঘুর, মিয়ানমারের রাখাইন ও শ্রীলংকার মুসলিম জাতিসত্তার মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। বৃটিশ, আমেরিকা ও ফ্রান্স এবং কমিউনিস্ট, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ও ইহুদিরা পৃথিবীতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠন করেছে দেদারসে। এরা আসলে পরকালের জীবনকে অস্বীকার করে চলছে। ইরশাদ হচ্ছে, “তারা বলে, আমাদের এ পার্থিব জীবনই জীবন। আমাদেরকে পুনরায় জীবিত হতে হবে না। আর যদি আপনি তাদেরকে দেখেন, যখন তাদেরকে রবের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেন, এটা কি বাস্তব সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, আমাদের রবের কসম। তিনি বলবেন, অতএব, স্বীয় কুফুরীর কারণে শাস্তি আস্বাদন কর।” সূরা আল-আন‘আম, আয়াতঃ২৯-৩০। কিয়ামত সংঘটিত হয়ে এই পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা পুনরায় সব মানুষকে জীবিত করবেন এবং পাপপুণ্যের হিসেব নেবেন। যারা পরকালীন জীবন বিশ্বাস করেনা তাদেরকে বলা হচ্ছে, “তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর পুনর্বার তিনি সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্য তুলনামূলক বেশি সহজ।” সূরা আর-রূম, আয়াতঃ২৭। “যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব।” সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াতঃ১০৪। সুতরাং, নশ্বর জীবনে আদিপত্য বিস্তার করে মানুষের জীবন বিষাক্ত করে তোলা মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

Dedar
১৫ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার, ১:০৯

সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞার সম্বন্ধে কোনো প্রশ্ন করা হলো না, দর্শকের মনে একটু খটকা লাগবেই,

অন্যান্য খবর