× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৬ মে ২০২২, সোমবার , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

চতুর্থ দিনে আন্দোলন /শাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন

শিক্ষাঙ্গন

শাবি প্রতিনিধি
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ১৬, ২০২২, রবিবার, ৩:১৮ অপরাহ্ন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অবস্থান নিতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাস আটকিয়ে তারা বিক্ষোভ করছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে চতুর্থ দিনের মত আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সাথে কয়েক দফায় কথা বলা হলেও দাবি মানা না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়েছে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আন্দোলনে সংহতি জানাতে যাওয়া ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন আন্দোলনরত কয়েকজন ছাত্রী।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মৃন্ময় দাস ঝুটন ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান, আশরাফ কামাল আরিফ, সজিবুর রহমান, সাব্বির হোসেন, মোশাররফ হোসেন, সুমন সরকার, রিশান তন্ময়, মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, শফিউল হক রাব্বি প্রমুখ এ হামলা চালায়।

তবে, হামলার বিষয় ছাত্রলীগ নেতারা অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান বলেন, 'রুগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে গেলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেয়। তখন এ নিয়ে একটু হইচই হয়েছে তবে মারামারির ঘটনা ঘটে নি। আর ছাত্রলীগের কেউ ছিল না।'

প্রক্টর আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স যেতে বাধা দিলে একটু হাতাহাতি হয়।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, ‘প্রথমে একটা অ্যাম্বুলেন্স আসলে আমরা সেটাকে পথ করে দিই। পরবর্তীতে আরেকটা অ্যাম্বুলেন্স আসলে আমরা সেটাকেও পথ করে দিই। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের পেছন পেছন এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলরতদের মাঝে ঢুকে পড়ে। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এসময় তারা কয়েকজন ছাত্রীকে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা ১০-১২ জন ছাত্রকে তারা বেধড়ক মারধর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ’

এ দিকে গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে দাবির বিষয়ে কথা বলেন এবং দাবি মানার বিষয়ে আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট কমিটির এখনই পদত্যাগ ঘোষণা ও ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবি জানান। এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রভোস্টের পদত্যাগ এখনই সম্ভব নয়, বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে অন্যান্য দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে গত শুক্রবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর