× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২২ মে ২০২২, রবিবার , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২০ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

করোনা / শনাক্তের হার ৯ ছাড়ালো

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

খুলনা বিভাগে একদিন পর আবারো বেড়েছে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় ৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩২। সেই তুলনায় গতকাল করোনা শনাক্ত হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খুলনা বিভাগের করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৮৯ জন। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা যশোরেই ৪০ জন শনাক্ত হয়েছেন। আর খুলনায় ২৫ ও ঝিনাইদহে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ৩ জন করে এবং সাতক্ষীরায় ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া, বাগেরহাট ও মাগুরায় কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের ওই প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, খুলনা বিভাগে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৯৩ জন। আর মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ১৯৫ জন। শনাক্ত বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। এখানে ২৮ হাজার ১২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যায় সবচেয়ে কম মাগুরায় ৪ হাজার ১৬১ জন। এছাড়া করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। এই জেলায় মারা গেছে ৮০৯ জন। আর মৃতের সংখ্যায় সবচেয়ে কম সাতক্ষীরায় ৮৮ জন। খুলনা ২০০ শয্যা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালের ইয়েলো জোনে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, শনিবার  রাতে খুমেকের পিসিআর মেশিনে ১৮৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ১৩৫ জন খুলনা মহানগরী ও জেলার। সব মিলিয়ে ১৭ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। যার মধ্যে খুলনা মহানগরী ও জেলার ১৬ জন এবং সাতক্ষীরার একজনের শনাক্ত হয়েছেন। এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে শনিবার খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, আরিফুল ইসলাম ও দেবাশীষ বসাক। এ সময় মাস্ক না পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যত্যয় করায় মোট ৩৪টি মামলায় ৩৪ জনকে ৮ হাজার ১৭০ টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সারা দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অনীহা, এক স্থানের মানুষের অন্য স্থানে যাতায়াত, যথাযথভাবে মাস্ক না পরাসহ বিভিন্ন কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি মাসের শুরু থেকে খুলনায়ও করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। জেলায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ সংক্রমণ রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এদিকে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। যা এখন সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশের নতুন আতঙ্ক আর শঙ্কার কারণ। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির বিবেচনায় গত ১৩ই জানুয়ারি হতে ১১টি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধির। যার মধ্যে অফিস-আদালত, ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময়, দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তরাঁসহ সকল জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যানবহন তার সক্ষমতানুসারে অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচলসহ চালক, সহকারীদের আবশ্যিকভাবে ভ্যাকসিনধারী হতে হবে বলে জানানো হয়েছে। করোনা নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে খুলনা জেলা প্রশাসন ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এবং ‘দণ্ডবিধি-১৮৬০’ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নগরীতে অভিযান শুরু করেছে। এতসব জানা সত্ত্বেও খুলনাবাসী যেন সরকারের এই বিধিনিষেধ মানতে নারাজ। নগরবাসী সরকারের নির্দেশিত বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে শহরের সর্বত্র ইচ্ছামতো মাস্কবিহীন চলাচল করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যানবহন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, অফিস-আলাদতসহ বাজারঘাট, পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান সর্বত্র মাস্কের ব্যবহার নেই বললেই চলে। মাস্ক ছাড়াই অবাধে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশুসহ সকল বয়সের মানুষ। তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছে করোনার বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই আগের মতো স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
সরজমিন নগরীর শিববাড়ী, পাওয়ার হাউজ, ফেরিঘাট, ডাকবাংলা, শান্তিধাম, ময়লাপোতা মোড়, শামসুর রহমান রোড, কমার্স কলেজ মোড়, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, সাতরাস্তা মোড়, ফুল মার্কেট, ক্লে রোড, মহারাজ চত্বর, কদমতলা স্টেশন রোড, কালীবাড়ি রোড, গল্লামারী, জোড়াগেট, বয়রা, বৈকালী, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনিসহ নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়, রাস্তাঘাটে, হাটে-বাজারে সকলেই ইচ্ছামতো চলাচল করছে, মানছেনা স্বাস্থ্যবিধির কোনো নির্দেশনা। নেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা। তবে ভুলে গেলে চলবে না স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক জানান, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে গোটা বিশ্ব এখন খারাপের দিকে। নতুন করে করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যে করা হচ্ছে জেল-জরিমানা।
করোনা মহামারি অতীতের দিনগুলোতে হাজারো প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। অবার শুরু হয়েছে নতুন করে ওমিক্রনের বিস্তার। তাই সংক্রমণ রোধের যে নেতিবাচক দিক বিবেচনা করা হচ্ছে তা যেন মানার কোনোরূপ প্রবণতার দেখা মিলছে না নগরবাসীর মধ্যে। নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় অনেকেই মাস্ক মুখে না লাগিয়ে থুতনিতে বেঁধে ঘুরছে। অনেকের আবার কারো মুখে নেই মাস্ক। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবহনসহ ছোটখাট যানবাহনগুলো। এহেন পরিস্থিতিতে সকলের মনে রাখা উচিত স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মৃত্যুর ঝুঁকি আছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর