× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৬ মে ২০২২, সোমবার , ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সৌদি অনুপস্থিত /কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ইসি পুনর্গঠন ও নির্বাচন নিয়ে অবস্থান জানালো সরকার

প্রথম পাতা

মিজানুর রহমান
১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের চলমান সংলাপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করেছে সরকার। সরকারের প্রতিনিধিরা বিদেশী বন্ধুদের জানিয়েছেন, গণতন্ত্রে উন্নতির শেষ নেই, বাংলাদেশও তাই মনে করে। ভবিষ্যতে আরও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। রোববার সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বছরের প্রথম এ কূটনৈতিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্ধদ্বার এ ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি কথা বলেন। অনুষ্ঠানের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ব্রিফিংয়ে ঢাকাস্থ ৫০ বিদেশি মিশন (দূতাবাস, হাইকমিশন এবং কনস্যুলেট) প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এতে প্রায় সবাই অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত বা কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।
সূত্র অবশ্য এটা নিশ্চিত করেছে যে, বিদায়ের প্রস্তুতিতে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আল মিলার ব্রিফিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই নিজের অক্ষমতার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানান। সৌদি রাষ্ট্রদূত ছুটিতে থাকার বিষয়েও মন্ত্রণালয় অবহিত। তবে চীনা দূতের অনুপস্থিতির কারণ বা ব্যাখ্যা সম্পর্কে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। বরাবরই কূটনৈতিক ব্রিফিংগুলো ক্লোজডোর হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে অতীতে ব্রিফিং শুরুর মুহূর্তে গণমাধ্যমে ছবি বা ভিডিও ফুটেজ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও এবারে গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। সূত্র বলছে, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিসহ নানা কারণে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফরমেটে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ের সূচনা বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনসহ গত বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জন, অতৃপ্তি এবং চলতি বছরের পরিকল্পনা যা উন্নয়ন এজেন্ডা-২০৩০ এবং ২০৪১-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তা তুলে ধরেন। ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা সংকটের বিদ্যমান বাস্তবতা এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহায়তার কথা স্মরণ করে বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একান্ত সহায়তা কামনা করা হয়। গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রশ্নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তথা নীতিগত অবস্থান এবং এসব বিষয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে স্পষ্ট করা হয়। ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন। স্বপ্রণোদিত ওই ব্যাখ্যায় তিনি এটা স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সিরিজ সংলাপ ও মতবিনিময় করছেন। বিদ্যমান আইনের আওতায় সর্বোত্তম বিকল্প মনে করে এটা করা হচ্ছে। আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী সংস্কার একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। প্রেসিডেন্টের সংলাপ, ইসি গঠনে সার্চ কমিটি তারই অংশ। সরকার আরও ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চায় জানিয়ে মন্ত্রী আশা করেন প্রেসিডেন্টের চলমান সংলাপ সফল হবে এবং এর মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে। বিদ্যমান আইনের মধ্য থেকে ইসি পুনর্গঠনে সরকার আন্তরিক জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ক্ষেত্রেই সরকার আইনের ব্যত্যয় ঘটাবে না। তাছাড়া আইনের বাইরে গিয়ে কারও কোনো আবদার বা দাবি পূরণ যে সম্ভব নয় সেটাও অনেকটা আকার-ইঙ্গিতে তিনি স্পষ্ট করেন বলে জানান উপস্থিত একাধিক কূটনীতিক কাম কর্মকর্তা। তারা জানান, অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করেন। আইনটির ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি এর অপব্যবহার (মিসইউজ এবং অ্যাবিউজ) নিয়ে সরকার সর্বদা সতর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে মিস্টার হক কোন প্রেক্ষিতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের প্রসঙ্গ তোলেন এবং এ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের ব্রিফ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক হাজার ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এ সময় ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচিতদের নিয়ে বিদেশি বন্ধু এবং গণমাধ্যমের সমালোচনার জবাব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভোটে উপযুক্ত প্রার্থী অংশগ্রহণ না করলে একজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতেই হয়। এটা গণতন্ত্রের নিয়ম। নিয়মের মধ্যেই তা হয়। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের রেকর্ড রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সূত্র জানিয়েছে, ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধানদের বেশিরভাগই নীবর ছিলেন। তবে ঢাকাস্থ বৃটিশ ও জাপানের রাষ্ট্রদূত প্রশ্ন করেছেন। বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের এই ট্রানজিশনাল পিরিয়ড বাংলাদেশ কীভাবে পার করার পরিকল্পনা করছে তা জানতে চেয়েছেন। আর জাপানের রাষ্ট্রদূতের জিজ্ঞাসা ছিল বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে। এখানে সরকারের করার আরও অনেক কিছু রয়েছে মন্তব্য করে তিনি পরিবেশ উন্নয়নের পরামর্শ দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দূতদের প্রশ্ন এবং মন্তব্যের জবাব দেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা কামনা করেন। ব্রিফিং শেষে বিদেশি বন্ধুদের আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের জন্য তাজিকিস্তানের একটি ছবি প্রদর্শিত হয়। ট্র্যাজেডি-নির্ভর ছবিটি অনেককে ছুঁয়েছে এবং তাদের আবেগাপ্লুত করেছে বলে দাবি করেন এক কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, গত ১৯শে নভেম্বর সর্বশেষ কূটনৈতিক ব্রিফিং হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসহ সম-সাময়িক ৭ ইস্যুতে ছিল ওই ব্রিফিং। এবারের ব্রিফিংয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গটি আসেনি দাবি করে এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন চলাকালে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে ওই নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেননি। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও আসেনি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
A,K.M Nurul Islam
১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৪:৫০

True democracy warrens freedom of speech , respect to each others , acceptance mentality of CRITICISM, FREE FAIR and Transparency and participatory Election , no black law like digital security act no harassment of opposition political activists by POLICE adding false allegation against unknown numbers more than thousands . No forced disappearene and cross fire.

অন্যান্য খবর