× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৬ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

চলে গেলেন বিরজু মহারাজ

বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

শুধু ভারত নয়, এই উপমহাদেশে কত্থক নৃত্যশিল্পে একটি যুগের অবসান হলো সোমবার ভোরে। প্রয়াত হলেন নৃত্য সম্রাট পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মূলত বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হলো তার। পণ্ডিত বিরজু মহারাজের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে কত্থক নাচের মহাগুরুর নিষ্ক্রমণ ঘটলো। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লির বাড়িতে নাতির সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরজু মহারাজ। দ্রুত দিল্লির সাকেত হাসপাতালে নেয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। বেশ কিছুদিন ধরেই কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পী।
তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছিল। একাধারে নাচ, তবলা এবং কণ্ঠসংগীতে সমান পারদর্শী ছিলেন বিরজু। ছবিও আঁকতেন। রবিশঙ্কর তার নাচ দেখে বলেছিলেন, ‘তুমি তো লয়ের পুতুল’! উপমহাদেশের কত্থক কিংবদন্তি ঈশ্বরী প্রসাদের এ বংশধর জন্ম নেন ১৯৩৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি। বাবা পতি অচ্ছন মহারাজের কাছে ‘তেহাই’ আর ‘টুকরা’ আবৃত্তি দিয়ে শুরু। ৮ বছর বয়সেই নাচ, গান আর বাদনে তুখোড় হয়ে ওঠেন। ৯ বছর বয়সে শিক্ষক বাবাকে হারিয়ে ছন্দপতন। নিরুপায় হয়ে ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে হলেও সংগীত আর নৃত্য সাধনা থেকে একচুল বিচ্যুত হননি ‘দুঃখহরণ নাথ’। শৈশবে এ নামেই পরিচিত ছিলেন বিরজু মহারাজ। কিশোর বয়সেই বিরজু হয়ে ওঠেন নৃত্যগুরু। প্রথমে সংগীতভারতী, পরে ভারতীয় কলাকেন্দ্র, কত্থককেন্দ্র ও নিজের প্রতিষ্ঠিত কলাশ্রমে তালিম দিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সে ‘পদ্মবিভূষণ’ পাওয়া এ কিংবদন্তি। ১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘সতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ চলচ্চিত্রে দুটো নৃত্যের পরিচালক ছিলেন বিরজু মহারাজ। ‘দে আশকিয়া’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘গাদ্দার’, ‘দেবদাস’, ‘বাজিরাও ‘মাস্তানি’র মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালকও তিনি। ‘বাজিরাও মাস্তানি’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৬ সালে ‘শ্রেষ্ঠ কোরিওগ্রাফার’ হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। বাংলাদেশের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী শিবলী মুহম্মদ, মুনমুন আহমেদ; এমনকি বলিউডের অনেক নামকরা অভিনেত্রীও এই নৃত্যগুরুর কাছে তালিম নিয়েছেন। শিল্পসাধনা ছিল বিরজু মহারাজের ‘প্রথম ও শেষ আরাধনা’, মঞ্চই ছিল তার মন্দির। নেচে নেচে বিশ্ব মাতানো এই কিংবদন্তি খ্যাতি মাড়িয়ে আটপৌঢ়ে জীবনাচরণকেই সঙ্গী করেছেন সবসময়।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর