× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

মাদকের তথ্য দেয়ায় খুন সায়মন

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার
১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক সিন্ডিকেটের তথ্য দেয়ায় হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সায়মন ওরফে নূরে আলমকে (২৫)। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন র‌্যাব’র মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- (১) সুমন ওরফে গ্লাস সুমন (২) সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ (৩), শরীফ ওরফে গরিব (৪), জনি ওরফে হর্স পাওয়ার জনি, (৫) হারুন।
তিনি বলেন, গত ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় সায়মন ওরফে নূরে আলমকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সায়মনের ভাই মো. আরস আলম ঢাকা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৪।
এটি সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। র‌্যাব ওই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ এর অভিযানে গতকাল ভোর পর্যন্ত ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে উক্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সুমন ওরফে গ্লাস সুমন, লম্বু সোহাগ, শরীফ ওরফে গরিব, জনি ওরফে হর্স পাওয়ার জনি, হারুনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় হত্যার কাজে ব্যবহৃত সুইচগিয়ার ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন ওরফে গ্লাস সুমন একটি মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেরানীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সে ‘গ্লাস কোম্পানি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই চক্রে সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১২-১৫ জন।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানা যায় কিছুদিন আগে নিহত সায়মন ‘গ্লাস কোম্পানি’ মাদক সিন্ডিকেটটির কয়েকজন সদস্য সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেয়। এর প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত মাদক সিন্ডিকেটের কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সুমন ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী সায়মনকে সন্দেহ করে। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা তাকে হত্যা  করে। ঘটনার কয়েকদিন আগে, বালুরচর মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা গ্রেপ্তারকৃত গ্লাস সুমন ও তার অন্যান্য সহযোগী গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ ওরফে ঘটি সোহাগসহ আরও কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনায় ৫-৬ জন অংশগ্রহণ করে।  পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ই জানুয়ারি গ্লাস সুমন সিন্ডিকেট মুক্তিরবাগ বালুরমাঠে হত্যাকাণ্ডটি সংঘঠিত করে। হারুন তথ্য দিয়ে হত্যাকারীদের সহযোগিতা করে বলে জানা যায়। এরপর সুমন ও সহযোগীরা কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায় সায়মনকে পার্শ্ববর্তী নির্মানাধীন বিল্ডিং থেকে জোরপূর্বক ধরে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে। এরপর ভুক্তভোগীকে চেপে ধরে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেয় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্থান ত্যাগ করে। প্রায় ৩০ মিনিটব্যাপী তারা এই হত্যাকাণ্ড চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ সায়মনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, সুমন উক্ত হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। সে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সময় স্বশরীরে উপস্থিত ছিল এবং নিজে ভুক্তভোগীর রগ কাটে বলে জানা যায়।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর