× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

১ মাসে সংক্রমণ বেড়েছে ৩৪০০ শতাংশ

প্রথম পাতা

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

দেশে ফের হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী। এখন প্রতি ৫ জনে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। গত এক মাসেই সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় ৩৪শ’ শতাংশ। দেশে গত এক মাসে মোট ৪৩ হাজার ৮২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ১৭ই ডিসেম্বর দেশে শনাক্ত হয়েছিল ১৯১ জন রোগী। সেখানে গতকাল (১৭ই জানুয়ারি) সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৬৭৬ জন। করোনায় এক মাসে মারা গেছেন ১১৩ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ওমিক্রনের গণসংক্রমণ গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী ধারাকে অশুভ ইঙ্গিত বলে মনে করে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এবং মাস্ক না পরলে দু’-একদিন অবজার্ভ করে অ্যাকশনে যাবে সরকার।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত এক মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের ১৭ই ডিসেম্বর দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৯১ জন এবং মৃত্যু হয় ২ জনের। ওই মাসের ৩১শে ডিসেম্বর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫১২ জন এবং মৃত্যু হয় ২ জনের। ১৭ই ডিসেম্বর থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৮০ জন এবং মারা যান ৩১ জন। আর  শুধু জানুয়ারি মাসের এই কয়েকদিনে মোট করোনার সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৮৪৮ জন। মারা গেছেন ৮২ জন। অর্থাৎ গত ১৭ই ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ১৭ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪৩ হাজার ৮২৮ জন শনাক্ত এবং ১১৩ জন মারা গেছেন। বৃদ্ধি পাওয়ার হার ৩৩৯৫ শতাংশ।
এদিকে দেশে প্রায় ঘরে ঘরেই সর্দি-কাশির রোগী। ইচ্ছা করলেই মানুষ দ্রুতই পরীক্ষা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্র্যাকের সেন্টারগুলোতে ১০০ জনের বেশি দৈনিক পরীক্ষা হচ্ছে না বলে সূত্র জানিয়েছে। যদিও প্রতিদিন দেশের মোট পরীক্ষার নমুনা বাড়ছে। দেশে ৮৫৫টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৪৩১টি নমুনা সংগ্রহ এবং ৩১ হাজার ৯৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শুধু পরীক্ষা ও শনাক্ত করলেই চলবে না। রাজধানীসহ সারা দেশে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এতে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সংক্রমণ যে বেড়েছে তা দৈনিক নমুনা পরীক্ষার চিত্রই বলে দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে না চললে সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুস্তাক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, দেশে ওমিক্রনের গণসংক্রমণ গত সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে। এটা ডেল্টার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ছড়ায়। তিনি বলেন, ডেল্টায় গত বছর দেশে ১৬ হাজার পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু এবার সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি থেকে বুঝা যাচ্ছে যদি ৫০ থেকে ৬০ হাজার দৈনিক পরীক্ষা করানো যায় তাহলে ৩০ হাজার পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে। এই জনস্বাস্থ্যবিদ করোনার টেস্ট আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বুথ স্থাপন করতে হবে। ব্র্যাকের মাধ্যমে আরও পরীক্ষা বাড়ানো সম্ভব। তাদের জনবল বৃদ্ধি করলেই এটা করা যাবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। টিকার আওতা বাড়াতে হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এবং মাস্ক না পরলে ১ থেকে ২ দিন অবজার্ভ করে অ্যাকশনে যাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের বুস্টার ডোজ নেয়ার বয়স ৫০ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা বলে দিয়েছি দুই/একদিন আগে, দুই/তিন দিন একটু অবজার্ভ (পর্যবেক্ষণ) করবো। তারপর আমরা কিছু কিছু ব্যাপারে অ্যাকশনে যাবো। কারণ আমরা প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আগে একটু দেখতে চাচ্ছি যে, উনারা কী করেন, মানেন কিনা। ইতিমধ্যে আমরা প্রশাসন এবং ল’ অ্যান্ড ফোর্সিং এজেন্সিকে ওয়াচ করতে বলেছি। তারপর ইনশাআল্লাহ আমরা কাল-পরশুর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবো। বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ইস্যুতে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা আছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা কিন্তু ওমিক্রন মনে করছি। তবে আমাদের কিন্তু ৮০ শতাংশের বেশি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।  তিনি বলেন, আমরা সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন একটু সচেষ্ট হয়। লাস্ট যেটা স্ট্যাডি করেছে আইইডিসিআর, সেটাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা আর ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশে এসেছে। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কেয়ারফুল যদি না থাকি তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার সামনে। ইতিমধ্যে সেভেন্টিন পয়েন্ট সামথিং হয়ে গেছে। আগেরবার কিন্তু এক মাসে গিয়ে থার্টি পার্সেন্ট হয়েছে। এখন ১৫ দিনে এইটিন পার্সেন্ট হয়ে গেছে। এটা কোনোভাবেই যদি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস, সেইফটি মেজর যদি আমরা না পালন করি, মাস্ক না পরলে কোনোভাবেই এটা ঠেকানো সম্ভব না। এটা মানুষকে বুঝতে হবে। কারণ এগুলো ফোর্স করে করা যাবে না। নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ আসছে কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, দেখি। আমরা আগে একটু ফোর্স করার চেষ্টা করি। ফোর্স করার পর যদি... দুই একদিন পর। দুই একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আমরা ইন্সট্রাকশন নিয়ে দেখি, তারপর অন্য কিছু।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর