× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

আমাকে কারাগারে নিয়ে কর্মীদের মুক্তি দেয়া হোক: তৈমূর

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক
(৪ মাস আগে) জানুয়ারি ১৮, ২০২২, মঙ্গলবার, ৮:২৯ অপরাহ্ন

আমার কর্মীদের বিনা অপরাধে জেলে নেয়া হয়েছে। তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। আমাকে কারাগারে নিয়ে তাদের মুক্তি দেয়া হোক বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

আজ মঙ্গলবার জেলা কারাগারের বাইরে থাকা কারাবন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তৈমূর। তাদের জামিনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন এবং প্রত্যককে কারাগারে টাকা প্রদান করেন। এসময় তৈমূর সাংবাদিকদের বলেন, আমি আজ এখানে এসে জানতে পারলাম আমার আরেক কর্মী প্রচারণার মিছিল শেষ করে বাড়ি ফিরে গ্রেপ্তার হয়েছে। পরিবারকে মুখ না খুলতে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। আমার প্রতিটি কর্মীর বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
আমার বাড়ির কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইভিএম'র বিষয়ে তিনি বলেন, ইভিএম কোনো চুরি নয়, এটি ডাকাতি। সব দলের সিদ্ধান্তই সঠিক, এই ইভিএমে কোনো নির্বাচনে যেন কেউ অংশ না নেয়। ইভিএম ডিজিটাল ডাকাতির বাক্স বলে মন্তব্য করেন তৈমূর।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
কামরুজ্জামান
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ৯:০৪

বোঝ মজা। এর নাম

আবুল কাসেম
১৮ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৭:৪৯

নাসিক নির্বাচনে সদ্য পরাজিত মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের বরাত দিয়ে নিচের শিরোনামে খবরটি ছাপিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। 'আমি ইভিএমের ইন্টারনাল মেকানিজমে হেরেছি: তৈমুর' দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার। তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, ‘শুরু থেকে আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আমি লিখিতভাবে তিনটা অভিযোগ করেছি। একটার ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়নি।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, 'রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম আলোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন আমার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।' 'ইভিএম বিড়ম্বনা' শিরোনামে দৈনিক মানবজমিনের রিপোর্টার নূরে আলম জিকু, নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এ বছর প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হলেও ছিল বিড়ম্বনা। এতে দিনভর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ভোটাররা। ইভিএম যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারাও। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেও ভোট দিতে পারেননি অনেকে। ভোটারদের অভিযোগ- ইভিএম ঠিকমতো কাজ না করায় ৪-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কিছু কিছু কেন্দ্রের ভোটাররা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে পারেননি। এতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে গেছেন।' 'ভোট দিতে পারেননি অনেকেই' শিরোনামে রিপোর্ট করেছেন দৈনিক মানবজমিনের বিল্লাল হোসেন রবিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার। তিনি লিখেছেন, 'সকাল থেকে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়ার জন্য। দুপুর গড়িয়ে গেলেও লাইন এগুচ্ছে না। এ অবস্থায় ক্ষোভ নিয়ে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন বহু ভোটার।' পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধির বরাত দিয়ে 'ইভিএম ধীরগতি হওয়ায় অনেকে ভোট দিতে পারেননি: আইভী' শিরোনামে ১৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে একটি খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদক লিখেছেন, 'ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ধীরগতি হওয়ায় অনেকে ভোট দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। রোববার (১৬ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণে শেষে বিকেল ৫টার দিকে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।' দৈনিক মানবজমিনের শেষের পাতায় পিয়াস সরকার, বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ফিরে ১৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে লিখেছেন, 'অব্যবস্থাপনা ভোগান্তি চরমে' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন। তিনি লিখেছেন, 'তবে ভোটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিনভর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। ভোটারদের মোকাবিলা করতে হয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি। অনেকেই ভোট না দিয়েই চলে গেছেন।' রিনা আক্তার, সুলতানা আক্তার, সালমা খাতুন, আইভি খাতুন নামের কয়েকজন তাঁকে বলেছেন, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট না দিয়েই তাঁরা ফিরে গেছেন। এছাড়াও তিনি লিখেছেন, 'ভোটাররা বলছেন, এক ঘণ্টায় দুটা ভোটও কাস্ট হয় না। আমরা কতোক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবো? সুমন নামে এক ভোটার বলেন, ৩ ঘণ্টা ধইরা দাঁড়ায় আছি। শেষ ৪০ মিনিটে আমার সামনে থেকে মাত্র ৩ জন গেছে, তাও একজন এখনো ভোট দিতে পারেন নাই।' তিনি আরো লিখেছেন, 'মহিলাদের লাইনেও একই অবস্থা। ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে আছেন ভোট দেয়ার জন্য। তারা বলছেন, ৩ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি। ভোটকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, আলতাফ হোসেন নামে এক ভোটার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলানোর চেষ্টা করেই যাচ্ছেন। প্রায় ৮-১০ মিনিট পরও অন্যজনকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।' দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতায় 'বাইরে উত্তাপ ভেতরে বিরক্তি' শিরোনামে রিপোর্ট করেছেন শুভ্র দেব, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার। তাঁর রিপোর্টের সারবস্তু হচ্ছে, ভোট কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা গেলেও কেন্দ্রের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে ছিলো চরম বিরক্তি। ইভিএম বিড়ম্বনায় ভোটারদের ভোগান্তি চরমে ওঠেছে। দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের ভেতরে গিয়েও দীর্ঘসময় চেষ্টার পর ভোট দিয়ে যখন কেউ বেরিয়ে এসেছেন তাঁর চোখেমুখে ছিলো ক্লান্তি আর বিরক্তির চাপ। 'নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫০ শতাংশ: ইসি' এই শিরোনামে নিজস্ব প্রতিবেদকের উদ্ধৃতি দিয়ে ১৬ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, 'নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যদিও ইভিএমে ভোট হয়েছে। তাই দ্রুতই ফল প্রকাশিত হবে।’ উপরের প্রতিবেদনগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে বুঝতে পারা যায়, ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হওয়ার কারণ 'ইভিএম'। এখন দেখা যাক ইভিএমের উদ্ভাবক ইভিএম সম্পর্কে কি বলেন। 'সংসদ নির্বাচন: ইভিএম ব্যবহারের ঝুঁকি কোথায়?' শিরোনামে ফয়সাল তিতুমীর বিবিসি বাংলা, ঢাকা ১৮ নভেম্বর ২০১৮ সালে লিখেছেন, 'বাংলাদেশে ইভিএমের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত বুয়েট অধ্যাপক লুৎফুল কবীর বলছিলেন ইভিএম মেশিনের দুটো প্রধান ঝুঁকির কথা। ১.পছন্দের প্রতীকে ভোট দিলেও নির্দিষ্ট প্রতীকে জমা হতে পারে। মেশিনটি চাইলে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা সম্ভব যে, নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক ভোটের পর বাকি সব ভোট একটা প্রতীকেই জমা হবে। হয়তো ভোটার দেখবে যে সে তার পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু আসলে তা হবে না। মি কবীর বলছিলেন, "এখন এইটা নিশ্চিত করার জন্য সব দলের অংশগ্রহণে একটা টেকনিক্যাল কমিটি করা যেত, যারা মেশিনটি ভেরিফাইড করবে।" ২.পুনর্গণনার সুযোগ নেই। ইভিএম মেশিনে ভোটার ভ্যারিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল বা ভিভিপিএটি নেই। একজন ভোটার ভোট দেবার পর তাঁর কাছে একটা প্রিন্টেড স্লিপ আসতো, যাতে কোন কারণে ভোট পুনর্গণনার প্রয়োজন হলে এটি কাজে আসতো।' ২০১৮ সালের ০১ সেপ্টেম্বর, দৈনিক প্রথম আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক 'ইভিএম সন্দেহ-অবিশ্বাস বাড়াবে' শিরোনামে একটি কলাম লিখেছেন। 'গত ১০ বছরে পৃথিবীর যতগুলো দেশ ইভিএম গ্রহণ করেছে, তার চেয়ে বেশি দেশ ইভিএম বাতিল করেছে। বাতিল করেছে এমন দেশের তালিকায় আছে ইতালি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো রাজ্য। সম্প্রতি ভারতেও বিরোধী দলগুলো ইভিএমের বিরুদ্ধে এককাট্টা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী আমাদের নির্বাচন কমিশন যে ইভিএম ব্যবহার করতে চায়, তা সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে গঠিত। হার্ডওয়্যার দুটি ইউনিটে বিভক্ত: ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট। ব্যালট ইউনিটে প্রার্থীদের নাম ও মার্কাসংবলিত ছবি এবং সুইচ থাকবে। কন্ট্রোল ইউনিটে চারটি অংশ থাকতে পারে-প্রসেসর, স্মৃতি, ডিসপ্লে ও ব্যাটারি। ভোটার তাঁর পছন্দের মার্কাসংশ্লিষ্ট সুইচে চাপ দেবেন এবং কন্ট্রোল ইউনিট প্রার্থী অনুযায়ী ভোট প্রসেস করে ভোটের হিসাব রাখবে। ভোট শেষে প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে কন্ট্রোল ইউনিট থেকে ভোটের ফলাফল জানা যাবে। এখানে একটা সমস্যা আছে। ধরা যাক, একটি নির্বাচনে চারজন প্রার্থী-ক, খ, গ ও ঘ। ভোটার সংশ্লিষ্ট বাটনে চাপ দেবেন। একটি আদর্শ অবস্থায় কন্ট্রোল ইউনিটের প্রসেসর ব্যালট ইউনিট থেকে প্রেরিত সংকেত অর্থাৎ চারজন প্রার্থীর ভোট আলাদা আলাদভাবে স্মৃতিতে ধরে রাখবে। চারজন প্রার্থীর ভোট আলাদা আলাদাভাবে প্রসেস করে তা স্মৃতিতে প্রেরণের জন্য কন্ট্রোল ইউনিটের মাইক্রো চিপকে প্রোগ্রাম করা হবে। মূল সমস্যাটা এখানেই। এই মাইক্রো চিপকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা সম্ভব যে একজন ভোটার ক, খ কিংবা গ যাকেই ভোট দিক না কেন, তা ক প্রার্থীর ভান্ডারে জমা পড়বে। মোটামুটিভাবে দক্ষ একজন প্রোগ্রামারের জন্য এটা করা খুব সহজ। আবার এমনও করা সম্ভব যে বিশেষ কিছুসংখ্যক ভোটের হিসাব ঠিকমতো রেখে পরে চিপ তার আচরণ বদলে ফেলবে। পুরোটা নির্ধারণ করছে সফটওয়্যারের সোর্স কোডের ওপর। ব্যালটের মাধ্যমে যখন ভোট গ্রহণ করা হয়, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যালট বাক্সটিকে প্রার্থীদের এজেন্টদের উন্মুক্ত করে দেখান। ইলেকট্রনিক মেশিনের ক্ষেত্রে তিনি আসলে কী দেখাবেন? ভোটিং মেশিনের কন্ট্রোল ইউনিটের চিপ কীভাবে প্রোগ্রাম করা আছে, সেটা দেখাবেন কি? সেটা দেখাতে পারলেও আদৌ বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখাতে পারবেন কি? এই সফটওয়্যারের সোর্স কোড দেখাবেন কি? দেখালেও তা বুঝবে কে? একটি ইভিএমের সার্কিট বোর্ডের স্থাপত্যও দেখা জরুরি। কন্ট্রোল ইউনিটের সার্কিট বোর্ডে একটি ইনফ্রারেড রিসিভার সার্কিট এমনভাবে জুড়ে দেওয়া সম্ভব যে বাইরে থেকে মোবাইল ফোনের ব্লু-টুথ সংযোগের মাধ্যমে ভোটের সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে এবং তা পরিবর্তনও করা যাবে। ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের নির্বাচন কমিশন ইভিএম সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় জানিয়েছে: প্রতিটি ইভিএম স্বতন্ত্র এবং কেউ একসঙ্গে এগুলোতে ব্যবহৃত সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে পারবে না; এই ইভিএমগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে না; ইভিএমগুলোতে সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় সব রাজনৈতিক দলের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমরা একমত। কেউ একসঙ্গে সবগুলো ইভিএমে ব্যবহৃত সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে পারবে না। তবে সেটা করার দরকারও নেই। বাংলাদেশের শতকরা ১০ ভাগ ইভিএমকে টেম্পার করলেই নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়া সম্ভব। আর যেহেতু ইভিএমগুলো স্বতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না, সেহেতু ইভিএম শুধু ভোট গণনার সময় কমিয়ে আনবে। সার্বিকভাবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সময় কমিয়ে আনবে না। ইভিএমের আরেকটি কারিগরি অসুবিধা হলো এই যে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে একজন ভোটার তাঁর পছন্দমতো বাটন ঠিকই পুশ করবেন কিন্তু তিনি দেখতে পারবেন না ভোটটা তাঁর পছন্দের প্রার্থী পেলেন কি না। জার্মানির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়োকিম ভিসনা এবং তাঁর পুত্র উলরিখ ভিসনা এই অস্বচ্ছতার কারণেই জার্মানির সাংবিধানিক আদালতে ইভিএম বাতিলের আবেদন করেন। ২০০৯ সালের ৩ মার্চ আদালত নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। সাংবিধানিক আদালতের বিচারক বলেন, ইভিএম অস্বচ্ছ এবং ইভিএম দিয়ে কীভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনা করা হয়, তা একজন সাধারণ ভোটারের বোঝার কোনো ক্ষমতা নেই। তা ছাড়া, ইভিএমে ভোট দেওয়ার পরে স্পর্শ করার মতো কোনো দালিলিক প্রমাণ থাকে না। তাই পরবর্তীকালে ফলাফল নিরীক্ষণ করার কোনো সুযোগ নেই। ইভিএমের সফটওয়্যার কিংবা হার্ডওয়্যার ভোটে কোনো প্রতারণা কিংবা ভুল করছে কি না, তা পরবর্তীকালে যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা দপ্তরের হিসাবের গন্ডগোল দূর করার জন্য হিসাবরক্ষণ বিভাগকে অবলোপন করার মতোই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ কাউন্টিতে ভোটাররা ভোট দেন ব্যালট পেপারে, সে ব্যালট পেপার ইলেকট্রনিক কাউন্টিং মেশিন দিয়ে গণনা করা হয়। এতে একটি সুবিধা হলো, যেহেতু ব্যালট পেপারের অস্তিত্ব আছে, সেহেতু গণনায় ভুল হলে নতুন করে গণনা করা যায়। আমাদের আলোচিত পদ্ধতিটিকে বলা হয় ডিআরই (ডিরেক্টলি রেকর্ডিং ইলেকট্রনিক) সিস্টেম। পদ্ধতিগতভাবেই এটি কম নিরাপদ। একজন শিক্ষানবিশ প্রোগ্রামারও এর জন্য এমনভাবে কোড লিখতে পারবেন, যাতে একজন ভোটার ভোট দেওয়ার পর ডিসপ্লেতে দেখা যাবে একরকম, মেমোরি মডিউলে লেখা হবে আরেক রকম এবং ফলাফল তৈরি করবে আরেক রকমভাবে। ঝুঁকিটা অনেক বেশি, সে তুলনায় প্রাপ্তিটা হবে অতি নগণ্য। যেহেতু পেপার ট্রেইল নেই, কারচুপির কারচুপির অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ করা কার্যত অসম্ভব। নেদারল্যান্ডস ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করেছে কারচুপির কারণে নয়, বরং এই মেশিন টেম্পারিং করা যাবে না-এ ধরনের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না বলে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ইভিএম নির্বাচনী ব্যয় কমিয়ে আনবে। কীভাবে কমিয়ে আনবে, কতটুকু কমিয়ে আনবে-সে সংশ্লিষ্ট সঠিক কোনো তথ্য-উপাত্ত আমাদের জানা নেই। আমরা এ-ও শুনেছি যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পরিবেশবান্ধব। একটি নির্বাচন কতটুকু পরিবেশবান্ধব, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচন কতটুকু স্বচ্ছ। নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ব্যয়সংকোচন কিংবা পরিবেশ রক্ষা নয়-জনগণের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশকে নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করা। আর যাঁরা মনে করেন, ইভিএম খুব অল্প সময়ে নির্বাচনের ফলাফল দিতে পারে, তাঁদের জেনে রাখা ভালো-জাতীয় নির্বাচনের দ্রুত ফলাফল আমাদের কখনোই কোনো জোরালো দাবির মধ্যে ছিল না। ইভিএম জাল ভোট দেওয়া বন্ধ করতে পারবে না এবং জোর করে ভোট দেওয়াও বন্ধ করতে পারবে না। ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই আমাদের দেশে সাধারণ ঘটনা। একটি কেন্দ্র থেকে এক-দুটি ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে শুধু ছিনতাই হয়ে যাওয়া বাক্সের ভোট গণনায় আসবে না। কিন্তু যদি ইভিএমই ছিনতাই হয়ে যায়? নির্বাচন নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ চরমে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। এ রকম একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার সন্দেহ-অবিশ্বাস আরও বাড়াবে, নির্বাচন আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।' কাজী মাহফুজুল হক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। সুতরাং, বুঝার বাকি নেই, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন কেনো কি কারণে ইভিএম নিয়ে এতোটা উৎসাহিত। প্রশ্নবিদ্ধ কাজ কেউ সবসময় একইভাবে করেনা। তাই ২০১৮ সালের মতো আগের রাতেই কাজ সেরে ফেলা হবেনা। অন্য পন্থা অবলম্বন করা হবে। সেটা ইভিএম কারসাজি। নারায়ণগঞ্জের মডেলে দলে দলে ভোটার উপস্থিতি হবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। কিন্তু, ইভিএম বিড়ম্বনায় কেউ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেনা। আর ইভিএমের কারিগরি খুতের কারনে ফলাফল ইচ্ছা মতো করা যাবে। সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবেনা।

অন্যান্য খবর